1 Answers

"এক ওয়াক্ত নামাজ ক্বাজা করলে আশি(৮০)হুক্ববা জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। আর এক(১)হুক্ববা = দুই লক্ষ অষ্টাশি হাজার (২৮৮০০০) বছর।" মর্মে বর্নিত বক্তব্যটি তাবলীগ জামা‘আতের অনুসরণীয় গ্রন্থ ফাযায়েলে আমল-এর ফাযায়েলে নামায অংশে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন প্রমাণ পেশ করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, ﻛَﺬَﺍ ﻓِﻰْ ﻣَﺠَﺎﻟِﺲِ ﺍﻟْﺄَﺑْﺮَﺍﺭِ ﻗُﻠْﺖُ ﻟَﻢْ ﺃَﺟِﺪْﻩُ ﻓِﻴْﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻯْ ﻣِﻦْ ﻛُﺘُﺐِ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳْﺚِ - ‘এভাবেই মাজালিসুল আবরারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমার নিকটে হাদীছের যে সমস্ত গ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে আমি উহা পাইনি’। [ফাযায়েলে আমল (উর্দূ), পৃঃ ৩৯; বাংলা, পৃঃ ১১৬।] লেখক নিজেই যেহেতু স্বীকার করেছেন, সেহেতু আর মন্তব্যের প্রয়োজন নেই। দুঃখজনক হ’ল এরপরও তা রাসূল (ছাঃ) নামে বর্ণনা করা হয়েছে, যা তাঁর নামে মিথ্যা অপবাদের শামিল। উল্লেখ্য যে, ছহীহ হাদীছের দৃষ্টিকোণ থেকেও কথাটি সঠিক নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ঘুম বা ভুলের কারণে যে ব্যক্তির ছালাত ছুটে যাবে তার কাফফারা হ’ল যখন স্মরণ হবে তখন তা পড়ে নিবে’। [ ছহীহ বুখারী হা/৫৯৭, ‘ছালাতের ওয়াক্ত সমূহ’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি ছালাত ভুল করে’ অনুচ্ছেদ; ছহীহ মুসলিম হা/১৫৯২, ১৫৯৮, ১৬০০, ‘সমজিদ সমূহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৬; মিশকাত হা/৬০৩, ৬৮৪।] এছাড়া রাসূল (ছাঃ) এবং ছাহাবায়ে কেরাম খন্দকের যুদ্ধের দিন সূর্য ডুবার পর আছরের ছালাত আদায় করেন অতঃপর মাগরিবের ছালাত আদায় করেন। [ ছহীহ বুখারী হা/৫৯৬ ও ৫৯৮, ‘ছালাতের সময়’ অধ্যায়, ‘ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার পর রাসূল (ছাঃ) জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করেছেন’ অনুচ্ছেদ; ছহীহ মুসলিম হা/১৪৬২, ‘মসজিদ সমূহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৭।] তাছাড়া ফজর ছালাতও একদিন তাঁরা সূর্য্যের তাপ বাড়ার পরে পড়েছেন। [ ছহীহ মুসলিম হা/১৫৯২, ১/২৩৮ পৃঃ, ‘মসজিদ সমূহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৬; মিশকাত হা/৬৮৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৬৩৩, ২/২০৮ পৃঃ।] তাহলে তাঁদের শাস্তি কত বছর হবে? (নাঊযুবিল্লাহ)।

3270 views

Related Questions