2 Answers
ওষুধ তো খাবেনি তবেজেনে নিই আরো কি করতে হবে যে কারণে কাশি দীর্ঘ মেয়াদী হয় যে কারণে কাশি দীর্ঘ মেয়াদী হয় •ডাঃ শাগুফা আনোয়ার • জেনারেল ম্যানেজার এ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকা আপনি কি আপনার প্রচণ্ড কাশি নিয়ে বিরক্ত? কাশি ভালো না হওয়ার জন্য অনেকগুলো কারণই দায়ী, যা কিনা মানুষের জন্য খুবই হতাশাজনক। ঠাণ্ডা বা ফ্লু-এর পর আক্রান্ত শ্বাসনালী তীব্র কাশির জন্য সহজেই অনুমানযোগ্য বা সহজ কারণটি হল, ঠাণ্ডা বা অন্য কোন ভাইরাল ইনফেকশনের পরিণাম বা ফল। অনেক ঠাণ্ডার উপসর্গ কিছুদিন পরেই চলে যেতে পারে। কিন্তু আপনার কাশি কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসের জন্যও থাকতে পারে, কারণ ভাইরাসের কারণে আপনার শ্বাসনালী ফুলে এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। এই কারণে কাশির স্থায়ীত্বকালও বাড়তে পারে এমনকি ভাইরাস চলে যাওয়ার পরও। শারীরিক সমস্যা অ্যালার্জি এবং অ্যাজমা হচ্ছে কাশির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঠাণ্ডার কারণে অ্যাজমার অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। অনেকেই ঠাণ্ডা লাগলে বুঝতে পারে যে তাদের অ্যাজমা আছে। এসিড রিফ্লাক্স এবং বাধাগ্রস্থ নিদ্রাহীনতার কারণেও অনেক সময় তীব্র কাশি হয়। আপনার যদি এসিড রিফ্লাক্স যেমন ঢেঁকুর তোলা, বুকজ্বালা এবং রিগারগিটেশনের মতো কোন উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে আপনার উচিত হবে অতিসত্বর একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া। এছাড়াও যদি আপনার বাধাগ্রস্থ নিদ্রাহীনতার সমস্যা যেমন নিদ্রাহীনতা, জোরে নাকডাকা, রাত্রি কালীন শ্বাসকষ্ট, বার বার ঘুম থেকে জেগে ওঠা এবং দিনের বেলায় ঘুমানো এ যাবতীয় সমস্যার উপসর্গ দেখা দিলেও আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মানসিক চাপ মানসিক চাপ, বিশেষ করে যখন এটি তীব্রতর হয়, তখন এটি ঠাণ্ডার স্থায়ীত্বকালকে বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশির মোকাবেলা করতে, যখন আপনি অসুস্থ থাকবেন তখন আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। নিজের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করলে আপনি হয়তোবা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। প্রশান্তিতে থাকার একটি উপায় হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিন; রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান। পর্যাপ্ত তরল পান না করা যখন আপনার ঠাণ্ডা অথবা ফ্লু হবে তখন আপনাকে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। পানি, জুস এবং সু্প আপনার শ্বাসনালী থেকে কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। কিন্তু ক্যাফিন যুক্ত পানীয় যেমন চা বা কফি শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি করে যা কিনা ঠাণ্ডা লাগলে আপনার শরীরের জন্য একেবারেই কাম্য নয়। আরেকটি উপায়ে আপনি আপনার শ্বাসনালীতে আদ্রতা যুক্ত করতে পারেন আর তা হচ্ছে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে। অতিমাত্রায় নাকের ডিকনজেসটেন্ট স্প্রের ব্যবহার ওভার দ্য কাউন্টার যে সকল নাকের ডিকনজেসটেন্ট স্প্রে পাওয়া যায় তা বন্ধ নাককে সচল করতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলো কখনোই ৩ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি আপনি বার বার এগুলো ব্যবহার করেন তবে এগুলোর ব্যবহার ছেড়ে দেয়ার পর আপনার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। এই অতিমাত্রায় স্প্রের ব্যবহার আপনার নাকের মেমব্রেনগুলো ফুলিয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে নাক বন্ধ এবং কাশির সমস্যা আরও বাড়তে পারে। শুকনো বাতাস শীতকালীন শুকনো বাতাস খুসখুসে কাশির জন্য সাধারণত দায়ী। অন্যদিকে আর্দ্র বাতাসের কারণে অ্যাজমার প্রকোপ এবং ধুলোবালি থেকে অ্যালার্জির কারণে কাশি শুরু হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠাণ্ডার পর যখন আপনার শ্বাসনালী কাঁচা এবং অমসৃণ থাকে তখন এটি সহজেই ব্যাকটেরিয়ার দ্ব্বারা আক্রান্ত হয়। ব্যাকটেরিয়ার কারণে সাইনাসের সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস এবং নিউমোনিয়ার মতো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনার দীর্ঘ মেয়াদী কাশির সাথে জ্বর অথবা ব্যথা থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংক্রমিত। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, আপনাকে হয়তোবা এন্টিবায়োটিক নিতে হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আপনি কি উচ্চ রক্ত চাপের জন্য কোন ওষুধ সেবন করছেন? যদি তাই হয়, তবে এই কারণে আপনার কাশি এত দীর্ঘস্থায়ী। প্রতি ৫ জন লোকের মধ্যে ১ জন যারা কিনা উচ্চ রক্তচাপ প্রশমিত করার জন্য এইস ইনহিবিটরস নেয় তাদের ঐ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তীব্র শুকনো কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনার এই ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে তবে এখনই আপনার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন, এমতাবস্থায় অন্য ওষুধ হয়তোবা আপানার জন্য ফলপ্রসূ হবে। যদি আপনার ওষুধের জেনেরিক নামটি প্রিল দিয়ে শেষ হয়, তবে আপনার ওষুধ টি এইস ইনহিবিটর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি আপনার কাশি সপ্তাহকালেও ভালো না হয়, তবে একজন চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। এটি আপনাকে একই সাথে আপনার কাশির কারণ সম্পর্কে জানতে এবং সঠিক চিকিত্সা পেতে সহায়তা করবে।