1 Answers

এটি একটি সাধারণ সমস্যা। এমন ।নেকেই আছেন যারা অনেক ধরনের ভাইভা বা ইন্টারভিউ ফেস করছেন কিন্তু তাদের আশানুরুপ ফলাফল পাচ্ছেন না। তাই অনেকের মনেই জিজ্ঞাসা নিয়োগকর্তারা আসলে কেমন ধরনের পারফরমেন্স আশা করেন একজন আবেদনকারীর কাছে। চাকরির ক্ষেত্র যাই হোক না কেন-ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তার উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে কিছু বিষয়ের উপর জোর দিয়ে থাকে। আবেদনকৃতদের মধ্যে থেকে যার বা যাদের ভিতর সে সব দক্ষতা ও বিশেষ গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়। সব শেষে সে বা তারাই চাকরি নামক সোনার হরিণের দেখা পান। দক্ষতা দুই ধরণের- বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ। যা সহজেই পরিমাণ নির্ণয় করা যায় তাই বাহ্যিক। যেমন- টাইপিং স্পিড, সার্টিফিকেট, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ভিন্ন ভাষায় সাবলীলতা ইত্যাদি। আর ধৈর্য্য, সময় জ্ঞান, বিভিন্ন লোকজনের সাথে মেশার ইত্যাদি হলো অভ্যন্তরীণ দক্ষতা। যে ব্যক্তি উভয় দক্ষতার অধিকারী তার চাকরির খুঁজে খুব বেশি দিন রোদে পুড়তে হবে না। জুতা বার বার ক্ষয়ও হবে না। এতটুকু ভবিষ্যত বাণী করাই যায়। জানা যাক গুরুত্বপূর্ণ ও চাকরির নিশ্চয়তা প্রদানকারী তেমন সাতটি দক্ষতা কী কী? বিশ্লেষণধর্মী হওয়া কর্মস্থলে সফলতার সাথে কাজ করার জন্য বিশ্লেষণধর্মী হতে হয়। যেমনঃ নির্ভুল হিসাব করা, সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা, পরিকল্পনা করা, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা, সমস্যা সমাধান করা, বাজেট প্রণয়ন করা ইত্যাদি। এই দক্ষতা ও গুনাবলী না থাকলে, আপনি কর্মজীবনে হোঁচট খেতে পারেন। আর যে কোন প্রতিষ্ঠান তার উন্নতি ও গতিশীলতার জন্য প্রার্থীর মাঝে এই দক্ষতা আছে কিনা তা যাচাই করে নেন। সুসম্পর্ক বজায় রাখা দ্বিতীয় যে দক্ষতাটি খুজে তা হলো যোগাযোগের ক্ষমতা। অর্থাৎ সামনের মানুষের কথা কিভাবে শু্নছেন, কতটা মনযোগী থাকছেন, কিভাবে মিশছেন, কথা বলছেন। কর্মস্থলের সকল ব্যাক্তি-উচ্চ-নিম্ন পদস্থ, সহযোগী, মক্কেল, খদ্দের সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিশেষ গুনাবলী। অর্থাৎ মৌখিক ও লিখিত উভয় ক্ষেত্রে যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। হতে পারে আপনার সাথে কারো মত মিলছে না। আর আপনাকে সেটা ইতিবাচক ভাবে নিতে হবে এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করতে হবে। বিশেষ গুণাবলী সৃজনশীলতা, সাবলীলতা, কর্মস্বার্থে যোগাযোগের কূটকৌশল, কাউন্সিলিং ক্ষমতা, দায়িত্ব নেয়া, দায়িত্বশীল থাকা, সহ্য-ধৈর্য্য, নির্দেশনা প্রদান ক্ষমতা ইত্যাদি বিশেষ গুনাবলীর মাধ্যমে আবেদন প্রার্থীদের আলাদা করা হয়। তুলনামূলক ভাবে যার মাঝে এসব ফুটে ঊঠে বা যে ফুটিয়ে তুলতে পারে। সে জায়গা করে নেয়। নেতৃত্ব গুণ একটি বিশেষ গুণ যা আপনাকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যারা প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকেন তারা এটির প্রতি অনড় থাকেন। কেননা আপনাকে যদি কোন প্রোজেক্টের দায়িত্ব দেয়া হয়। আর তা সামলে নিতে না পারলে, পরিচালনা করতে না পারলে। আপনার ভুরি ভুরি সার্টিফিকেট কোন কাজে আসবে না। ইতিবাচক মনোভাব কর্মক্ষেত্রে নানা চাপ, চ্যালেঞ্জ, সংকটময় মুহূ্র্ত আসতে পারে। এই সময়ে আপনি “আমি পারব” মনোভাব রাখতে পারেন কি না, কাজের পরিপূর্ণতা আনতে বাড়তি চেষ্টা, শ্রম দিতে প্রস্তুত কিনা তা যাচাই করা হয়। দলগত কাজের দক্ষতা দলগত বা টিম হয়ে অন্যদের সাথে মিলেমিশে, বুঝেশুনে কাজ করতে পারদর্শী কিনা সেটাও দেখা হয়। কেননা একটা টিমে নানা ধরণের মানুষ থাকতে পারে। তাই আপনি কতটা সহযোগি, সহনীয় তা পরীক্ষা করা হয়। প্রযুক্তি জ্ঞান বর্তমান সময়ে যে কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও টেকনিক্যাল জ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়। কেননা বিভিন্ন ডাটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ, হিসাব নিকাশ, পরিসংখ্যান, তথ্য আদান প্রদান সহ প্রায় সব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে করা হয়। যেমনঃ ই-মেইল, নেটওয়ার্কিং।

2814 views

Related Questions