1 Answers
তাক্বদীর সম্পর্কে কথা উঠলেই মানুষের মনে এমন প্রশ্নের উদ্রেক হয়। এ প্রশ্নের জবাবে আলেমগণ বলেন, মানুষ কিছু কিছু বিষয়ে বাধ্যগত এবং কিছু কিছু বিষয়ে তার নিজস্ব ইচ্ছা শক্তি রয়েছে। যেসব বিষয়ে আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি দেন নি, সেসব ক্ষেত্রে মানুষ বাধ্য। যেমনঃ অসুস্থতা, জন্ম, মৃত্যু, নানা রকম দুর্ঘটনা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে মানুষের চুল, নখ ইত্যাদির প্রবৃদ্ধিও ঘটে তার ইচ্ছার বাইরে। পক্ষান্তরে যেসব কাজ সে তার নিজস্ব ইচ্ছা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে সে স্বাধীন। তবে তার ইচ্ছা আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত বাস্তবায়িত হয় না। যেমনঃ উঠা, বসা, শোয়া, হাঁটা, কোথাও প্রবেশ করা, বের হওয়া, ভাল কাজ করা, পাপ কাজ করা ইত্যাদি।[136] উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তুমি যখন তোমার বন্ধু-বান্ধবের সাথে কোথাও আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা কর, তখন সবচেয়ে সুন্দর এবং মনোরম স্থান চয়নের জন্য তুমি তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর পরামর্শের ভিত্তিতে সবচেয়ে উত্তম জায়গাটি চয়ন কর। তুমি যদি বাধ্যগত জীব হতে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ স্থানে চলে যেতে; বন্ধুদের সাথে তোমার পরামর্শের যেমন কোন প্রয়োজন পড়ত না, তেমনি স্থান চয়নেরও দরকার হত না।[137] কেউ প্রশ্ন করতে পারে, বান্দার নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি রয়েছে, তবে তা আল্লাহ্র তাক্বদীরের বাইরে নয়, এটি কিভাবে সম্ভব? আমরা তাকে বলব, বান্দা কর্তৃক সংঘটিত যে কোন কর্ম বান্দা কিসের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে? এক বাক্যে সবাই বলবে, ইচ্ছাশক্তি এবং কর্মশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সে তা বাস্তবায়ন করে। আমরা তাকে আবার প্রশ্ন করি, ঐ ইচ্ছাশক্তি এবং কর্মশক্তির স্রষ্টা কে? সবাই স্বীকার করবে, আল্লাহই সেগুলির সৃষ্টিকর্তা। তাহলে দেখা গেল, বান্দার কর্ম এবং উক্ত কর্ম বাস্তবায়নের উপকরণ ইচ্ছাশক্তি ও কর্মশক্তি সবই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। এতটুকু জানলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।[138] শায়খ উছায়মীন (রহেমাহুল্লাহ)কে মানুষ বাধ্য কিনা এই প্রশ্ন করা হলে জবাব দেওয়ার আগেই তিনি বলেন, প্রশ্নকারী নিজেকে জিজ্ঞেস করুক, এই প্রশ্নটি করতে কেউ কি তাকে বাধ্য করেছে? তার যে মডেলের গাড়ী আছে, ঐ মডেলের গাড়ী কিনতে কেউ কি তাকে বাধ্য করেছে? এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে প্রশ্নকারী তার কাঙ্খিত উত্তরটি পেয়ে যাবে। সে নিজেকে আরো জিজ্ঞস করুক, সে কি স্বেচ্ছায় দুর্ঘটনা কবলিত হয়? স্বেচ্ছায় অসুস্থ হয়? সে কি নিজ ইচ্ছায় মরবে? এসব প্রশ্নর উত্তর জানলেই সে তার কাঙ্খিত উত্তরটি পেয়ে যাবে। এরপর আমরা বলব, কিছু কাজ মানুষ নিজ ইচ্ছা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করে থাকে তাতে কোন সন্দেহ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿فَمَن شَاءَ اتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِ مَآبًا﴾ [سورة النبأ: 39] ‘অতএব, যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার নিকটে আশ্রয়স্থল তৈরী করে নিক’ (নাবা ৩৯)। তিনি আরো বলেন, ﴿مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ﴾ [سورة آل عمران: 152] ‘তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া কামনা করে আর কেউ আখেরাত কামনা করে’ (আলে-ইমরান ১৫২)। পক্ষান্তরে কিছু কিছু কাজে মানুষের নিজস্ব কোন ইখতিয়ার থাকে না; সেগুলি নিছক তাক্বদীরের কারণেই ঘটে। যেমনঃ অসুস্থতা, মৃত্যু, দুর্ঘটনা।[139] তবে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি স্রেফ আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হলেও মূলতঃ মানুষই এর জন্য দায়ী। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ﴾ [سورة الشورى: 30] ‘তোমাদের উপর যেসব বিপদাপদ আসে, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন’ (শূরা ৩০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ﴿أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ﴾ [سورة آل عمران: 165] ‘যখন তোমাদের উপর কোন মুছীবত নেমে আসল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে উপনীত হয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এল? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই নেমে এসেছে’ (আলে-ইমরান ১৬৫)। তিনি আরো বলেন, ﴿مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ۖ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ﴾ [سورة النساء: 79] ‘তোমার যে কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় । আর তোমার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় তোমার নিজের কারণে’ (নিসা ৭৯)। ইবনে জারীর (রহেমাহুল্লাহ) সূরা শূরার উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, ‘তোমাদের পাপাচারের কারণেই শাস্তিস্বরূপ তোমাদের উপর এমন মুছীবত নেমে আসে’।[140] অনুরূপভাবে মানুষের যেসব কল্যাণ সাধিত হয়, সেগুলিও তাদের কারণেই রহমত স্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে থাকেন। আল্লাহ নূহ (‘আলাইহিস্সালাম)-এর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ﴿فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا﴾ [سورة نوح: 10-12] ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন’ (নূহ ১০-১২)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) কে অছিয়ত করতে গিয়ে বলেন, তুমি আল্লাহ্র দ্বীনের হেফাযত কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে হেফাযত করবেন।[141] [136]. আল-মুখতাছার ফী আক্বীদাতি আহলিস্-সুন্নাতি ফিল ক্বাদার/৬৫; মা হুয়াল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/২৫। [137]. মা হুয়াল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/২২। [138]. মুহাম্মাদ ইবনে খলীল হার্রাস, শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসেত্বিইয়াহ, (খোবার: দারুল হিজরাহ, তৃতীয় প্রকাশ: ১৪১৫ হিঃ), পৃ: ২২৮। [139]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিশ্-শায়খ আল-উছায়মীন, (রিয়ায: দারুল ওয়াত্বান, প্রকাশকাল: ১৪১৩ হি:), ২/৯০-৯১, প্রশ্ন নং ১৯৫। [140]. তাফসীরে ত্ববারী, ২০/৫১২-৫১৩। [141]. মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪০৯-৪১০, হা/২৬৬৯, শায়খ আলবানী বলেন, ‘হাদীছটি ছহীহ’ (মিশকাত, ৩/১৪৫৯, হা/৫৩০৩)।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy