3 Answers

উপরোক্ত জিনিষগুলো ব্যবহার করা হারাম। নিন্মে রেফারেন্স সহ দলীল সমূহ পেশ করা হল: 1) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (من علق شيئا وكل إليه) “যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে”।[১] 2) কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন যেঃ أَنْ لاَ يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ “কোন উটের গলায় ধনুকের রশি বা গাছের ছাল দিয়ে তৈরী হার ঝুলানো থাকলে অথবা যে কোন মালা থাকলে সেটি যেন অবশ্যই কেটে ফেলা হয়।”[2] 3) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ) “ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবং স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”।[3] 4) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য এক হাদীছে বলেনঃ (مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فلا أتم الله له ومن علق ودعة فلا ودع الله له) “যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো, আল্লাহ্‌ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন। আর যে ব্যক্তি রুগমক্তির জন্যে শামুক বা ঝিনুকের মালা লটকালো, আল্লাহ্‌ যেন তাকে শিফা না দেন”।[৪] 5) তিনি অন্য এক হাদীছে বলেনঃ (مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ) “যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”।[৫] 6) নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ (انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا) “তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”।[৬] 7) হুজায়ফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ )وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ( “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬) ৮) সাঈদ বিন জুবায়ের (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের শরীর থেকে একটি তাবীজ কেটে ফেলল, সে একটি গোলাম আযাদ করার ছাওয়াব পেল। সাঈদ বিন জুবায়েরের এই কথাটি নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীছের পর্যায়র্ভূক্ত। [১] -তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রঃ) হাসান বলেছেন। ( দখুনঃ সহীহুত্‌ তিরমিযী হা নং- ২০৭২ ) [২] – বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব। [৩] – আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী হাদীছ সহীহ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)। এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই। [৪] – হাকেম, (৪/২১৯। ইমাম আলবানী (রঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে যঈফা, (৩/৪২৭) [৫] – মুসনাদে আহমাদ, (৪/১৫৬) ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (১/৮০৯) [৬] – মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

44113 views

ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির হাতে তামা/ স্বর্ণের আংটি দেখে বললেন, «وَيْحَكَ مَا هَذِهِ ؟ " قَالَ: مِنَ الْوَاهِنَةِ، قَالَ: " أَمَا إِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا، انْبِذْهَا عَنْكَ، فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا» “ধ্বংস তোমার, এটা কী? সে বলল: অহেনার[1] অংশ। তিনি বললেন: মনে রেখ, এটা তোমার দুর্বলতা ব্যতীত কিছু বৃদ্ধি করবে না, এটা তোমার থেকে ছুড়ে মার, কারণ তুমি যদি মারা যাও আর এটা তোমার উপর থাকে, তুমি কখনো সফল হবে না”[2] উকবা বিন আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً، فَلَا أَتَمَّ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ تَعَلَّقَ وَدَعَةً، فَلَا وَدَعَ اللَّهُ لَهُ» “যে তামিমাহ[3] ঝুলালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে শঙ্খ ঝুলালো আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দিবেন না”।[4] উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে একদল লোক উপস্থিত হল। তাদের নয়জনকে তিনি বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন, আর তাকে ত্যাগ করলেন? তিনি বললেন: «إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً "، فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا، فَبَايَعَهُ، وَقَالَ: " مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ » “তার উপর তাবিজ রয়েছে, তিনি স্বীয় হাত বের করে তা ছিঁড়ে ফেললেন, অতঃপর তাকে বায়আত করলেন, এবং বললেন যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করল।[5] একদা হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জনৈক ব্যক্তির হাতে জ্বরের তাগা দেখে কেটে ফেললেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন: ﴿ وَمَا يُؤۡمِنُ أَكۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ ١٠٦ ﴾ [يوسف: ١٠٥] “তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়”।[6] এ ঘটনা প্রমাণ করে তাগা ব্যবহার করা শিরক। আবু বশির আনসারি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফর সঙ্গী ছিলেন। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, -মানুষেরা তখন ঘুমের বিছানায় ছিল-, «أَنْ لَا يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلَادَةٌ إِلَّا قُطِعَتْ» “কোনো উটের গলায় সুতার মালা (ধনুকের ছিলা) বা কোনো প্রকার মালা রাখা যাবে না, অবশ্যই কেটে ফেলা হবে”।[7] নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের গলার সুতা ও মালা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তাবিজ ঝুলানোর উপায় অবশিষ্ট না থাকে। আবু ওয়াহহাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَارْتَبِطُوا الْخَيْلَ، وَامْسَحُوا بِنَوَاصِيهَا وَأَكْفَالِهَا، وَقَلِّدُوهَا وَلَا تُقَلِّدُوهَا الْأَوْتَارَ» “তোমরা ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলাও এবং তাকে লাগাম পরাও, তবে সুতা/ মালা পরিয়ো না।[8] আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী জয়নব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বলেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা, এতে ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ» “ঝাড়-ফুঁক,[9] তাবিজ ও তিওয়ালাহ[10] নিঃসন্দেহে শিরক”।[11] এসব দলিল বলে, রোগ-ব্যাধি দূর বা প্রতিরোধ করার জন্য মানুষ বা জীব-জন্তুর শরীরে, কিংবা ক্ষেত-খামারে তাবিজ, তাগা, কড়ি ও সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক। কারণ, তামিমাহ ও তামিমাহ জাতীয় বস্তুর উপর নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো ব্যাপক, তাই সবধরণের তাবিজ শিরক। কুরআন/ গায়রে কুরআন কোনো বিভেদ নেই। দ্বিতীয়ত যেসব দলিলে তাবিজের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাতে কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ বলা হয়নি, যেমন শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুঁক বৈধ বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ» “তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ঝাড়-ফুঁকে কোনো সমস্যা নেই, যদি তাতে শিরক না থাকে”।[12] এ হাদিসে যেরূপ কুরআনুল কারিমের তাবিজকে পৃথকভাবে বৈধ বলা হয়নি, যেমন শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুককে বৈধ বলা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের জীবনে তাবিজের কোনো প্রমাণ নেই। হাদিসের পাঠকমাত্র দেখবে, দোয়া ও যিকর সংক্রান্ত সকল হাদিসের ভাষা হচ্ছে, ‘যে ইহা বলবে’, অথবা ‘যে ইহা পড়বে’ ইত্যাদি; একটি হাদিসেও নেই ‘যে ইহা লিখে রাখবে’, অথবা ‘যে ইহা ঝুলাবে’। ইবনে আরাবি বলেন: “কুরআন ঝুলানো সুন্নত নয়, কুরআন পাঠ করা সুন্নত”। ইব্রাহিম নখয়ি রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সাথীগণ কুরআন ও গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ অপছন্দ করতেন, যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, মাসরুক ও রাবি বিন খায়সাম প্রমুখ তাবেয়িগণ”।[13] শিরক ও পাপের পথ বন্ধ করার স্বার্থে সকল তাবিজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি। কুরআনের তাবিজ শিরকী তাবিজের পথ উন্মুক্ত করে। আদর্শ মনীষীগণ তাবিজ অপছন্দ করতেন, অথচ তাদের যুগ ছিল বিদআত ও শিরক মুক্ত, ওহী ও ঈমানের নিকটবর্তী। আমাদের যুগ মূর্খতা ও বিদআত সয়লাবের যুগ, এতে তাবিজ বৈধ বলার অর্থ উম্মতকে শিরকের দিকে ঢেলে দেওয়া। দ্বিতীয়ত তাবিজে ব্যবহৃত কুরআন নাপাক বস্তু বা স্থানের সম্মুখীন হয়, বিশেষত বাচ্চাদের গলার তাবিজ, যা থেকে কুরআনকে পবিত্র রাখা জরুরি। তাবিজ ব্যবহারকারীরা সাধারণত কুরআন-হাদিসের ঝাড়-ফুঁক করে না, তাবিজকেই যথেষ্ট ভাবে। তাদের অন্তর তাবিজের সাথে ঝুলন্ত থাকে, যদিও তারা স্বীকার করে না, তবে তাবিজ খুললে তার সত্যতা প্রকাশ পায়! কারো চেহারা বিবর্ণ হয়, কারো শরীরে কাঁপুনি উঠে। যদি তাদের অন্তর আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত থাকত ও তাতে পূর্ণ বিশ্বাসী হত, কখনো তারা মন এমন বস্তুর দিকে ধাবিত হত না, যার সম্পর্ক কুরআন-হাদিসের সাথে নেই। বস্তুত তাবিজ ব্যবহার করে তারা কুরআনের সাথে নয়, বরং কাগজ ও জড় বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হয়। তাবিজ একটি জড়-বস্তু, তার সাথে রোগ-মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। তাবিজকে রোগ মুক্তির উপায় সাব্যস্ত করার জন্য অবশ্যই দলিল প্রয়োজন, তার পক্ষে কোনো শরীয় দলিল নেই। কারো রোগ-ব্যাধি হলে শরয়ী ঝাড়-ফুঁক করা সুন্নত, যেমন জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের করেছেন। এটাই বৈধ ও শরীয়ত অনুমোদিত পন্থা। বৈধ ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ, যদি তার দ্বারা আরোগ্য লাভ হয় এবং সুন্নত মোতাবেক ঝাড়-ফুঁক করা হয়; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বিনিময় গ্রহণ করেছেন, কিন্তু আমাদের সমাজের একশ্রেণীর আলেম তাবিজ দেন ও আরোগ্য লাভের পূর্বে বিনিময় গ্রহণ করেন। তারাও দলিল হিসেবে বুখারি শরীফের হাদিসটি পেশ করেন, অথচ সেখানে স্পষ্ট আছে সাহাবিগণ তাবিজ দেননি, বরং সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন এবং আরোগ্য লাভ করার পর বিনিময় গ্রহণ করেছেন, আগে নয়। অতএব এ হাদিসকে তাবিজ দেয়া ও তার বিনিময় গ্রহণ করার দলিল হিসেবে পেশ করা অপব্যাখ্যা ব্যতীত কিছু নয়। কুরআন-হাদিসের তাবিজ কুরআন-হাদিসের তাবিজ সম্পর্কে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। পূর্বোক্ত দলিলের ভিত্তিতে একদল আলেম বলেন, কুরআন-গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ শিরক। কতক আলেম বলেন, কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ। তারা দলিল হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যক্তিগত আমল পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমে ঘাবড়ে যায়, তার বলা উচিত: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ، فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ» “আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানসমূহের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে”।[14] ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন: “হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে আছে, তিনি তার সাবালক বাচ্চাদের দোয়াটি শিক্ষা দিতেন, আর যারা সাবালিগ হয়নি কাগজে লিখে তাদের গলায় দোয়াটি ঝুলিয়ে দিতেন”।[15] ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন আমের বর্ণিত হাদিসের সনদ মুহাদ্দিসদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। বিশুদ্ধ মানলেও এটা তার ব্যক্তিগত আমল, অসংখ্য সাহাবির বিপরীত তার ব্যক্তিগত আমল দলিল যোগ্য নয়। ইমাম শাওকানি রহ. বলেন: এ হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছে, তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিযোগ প্রসিদ্ধ। আলবানি রহ. বলেন, হাদিসের শেষাংশ: আব্দুল্লাহর ঘটনা ব্যতীত অবশিষ্টাংশ সহি”।[16] অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের নাবালিগ বাচ্চাদের গলায় দোয়াটি লিখে ঝুলাতেন কথাটি সঠিক নয়। তাবিজ কোন প্রকার শিরক উক্ত আলোচনার পর তাবিজ ত্যাগ করার জন্য কারো ফতোয়ার প্রয়োজন হয় না, তাবিজ ব্যবহার করা ছোট-শিরক, না বড় শিরক। কুরআনুল কারিমের তাবিজ ব্যবহার করা কারো নিকট শিরক, কারো নিকট শিরক নয়, কুরআন ব্যতীত অন্যান্য তাবিজ সবার নিকট শিরক। যারা বলেন কুরআনের তাবিজ শিরক নয়, তাদের নিকট তাবিজ ত্যাগ করার কারণে কেউ গুনাগার হবে না, কিন্তু যারা শিরক বলেন, যদি তাদের ফতোয়া ঠিক হয়, তাহলে তাবিজ ব্যবহারকারীর পরিণতি কী হবে!? অতএব তাবিজে কোনো কল্যাণ নেই। বর্তমান মুসলিমদের শরীরে যে, তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, শামুক-ঝিনুক, প্রাণীর হাড়, গাছের ছাল, তামা-লোহা-সুতা-রাবার-তাগা ও অন্যান্য ধাতব বস্তু দেখা যায়, আবার কখনো জীব-জন্তুর শরীরে, ঘরের খুঁটি ও গাছের ডালে; মাটির ভিতর ও বিছানার নিচে এসব বস্তু পুঁতে রাখতে দেখা যায়, তার অধিকাংশ বৈধ! তাবিজের পথে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে, সন্দেহ নেই। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাদুলি, তাবিজ ও তাগা ইত্যাদি কতক অমুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতীক ছিল। আল্লাহ মুসলিম সমাজকে এসব বস্তু থেকে পবিত্র করুন।

44113 views
অনেক মূর্খ আলেম সমাজে শোনা যায় যে আল্লাহর কালামের তাবিজ ব্যবহার নাকি শিরক। নাউজুবিল্লাহ।
ইসলামে কয়েক প্রকার তাবিজ জায়েজ
নয়।
যথা-
১/কুরআন হাদীস দ্বারা ঝাড়ফুক
দেয়া ছাড়া শুধু তামা, পিতল
বা লোহা দ্বারা তাবিজ
বানিয়ে লটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ শুধু
এগুলো লটকানো দ্বারাই রোগমুক্ত
হওয়া যাবে বিশ্বাস
করে তা লটকানো নাজায়িজ।
২/ এমন তাবিজ যাতে আল্লাহর নাম,
কুরআনের আয়াত, দুআয়ে মাসূরা ব্যতিত
শিরকী কথা লিপিবদ্ধ থাকে।
৩/তাবীজকে মুয়াসসার বিজজাত
তথা তাবীজ নিজেই আরোগ্য করার
ক্ষমতার অধিকারী মনে করে তাবিজ
লটকানো। এ বিশ্বাস
জাহেলী যুগে ছিল, বর্তমানেও ইসলাম
সম্পর্কে কিছু অজ্ঞ
ব্যক্তিরা তা মনে করে থাকে।
৪/যে কালামের অর্থ জানা যায়
না এমন শব্দ দ্বারা তাবিজ লেখা।
৫/আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায়
তাবিজ লেখা।
এ সকল সুরতে সর্বসম্মত
মতানুসারে নাজায়িজ ও হারাম
এবং শিরক। এতে কোন সন্দেহ নেই।
কিন্তু তাবিজে কুরআনের আয়াত,
আল্লাহর নাম,
দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক
থাকলে তা অবশ্যই জায়িজ।
একে নাজায়িজ ও শিরক
বলা মুর্খতা বৈ কিছু নয়। কেননা এসব
তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার
বিজজাত তথা আরোগ্যের
ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই
মনে করা হয়। যেমন ডাক্তার প্রদত্ত
ঔষদের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত
আল্লাহকে মনে করার
কারণে তা নাজায়িজ নয়।
যদি মুয়াসসার বিজজাত ঐ
ঔষধকে মনে করলে ঔষধ সেবনও শিরক ও
হারাম হবে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দলিল
ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺷُﻌَﻴْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﺰَﻉِ ﻛَﻠِﻤَﺎﺕٍ « ﺃَﻋُﻮﺫُ
ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ
ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِ » . ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻋَﻤْﺮٍﻭ
ﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻦَّ ﻣَﻦْ ﻋَﻘَﻞَ ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﻴﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻘِﻞْ ﻛَﺘَﺒَﻪُ ﻓَﺄَﻋْﻠَﻘَﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও
তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন
যে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদের
কেউ যখন ঘুম অবস্থায়
ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন
ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ
ﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِ
দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের
তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের
গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}
এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখ
করা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর
বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য
তাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।
যারা বলেন যে, সকল তাবিজই শিরক,
তাহলে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস
রাঃ কি শিরক করেছেন?
নাউজুবিল্লাহ!
যে সব হাদীসে তাবীজকে হারাম
শিরক বলা হয়েছে এর জবাব কি?
হাদীস দেখেই ফাতওয়া দেয়া যায়
না। হাদীস
সম্পর্কে প্রাজ্ঞতা থাকতে হয়। তাবীজ
কবচ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত
হাদীসে সেসব তাবীজকে নিষিদ্ধ
করা হয়েছে যেসব তাবীজের
কথা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখিত ৫ ধরণের নিষিদ্ধ
তাতো আমরা আগেই উল্লেখ করেছি।
নিষিদ্ধতার হাদীসে কেবল সেসবই
উদ্দেশ্য। এ কারণেই আব্দুল্লাহ বিন আমর
বিন আস রাঃ তার সন্তানদের তাবিজ
দিতেন। যাতে উল্লেখিত শর্তের
কোনটি বিদ্যমান নয়।
দেখুন বিজ্ঞ ওলামা ও
ফক্বীহরা কী বলেন?
আল্লামা ইবনে হাজার
আসকালানী রহঃ বুখারী শরীফের
ব্যাখ্যগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে লিখেন-
ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﺟﻤﻊ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻭﻫﻲ ﺧﺮﺯ ﺃﻭ ﻗﻼﺩﺓ ﺗﻌﻠﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺃﺱ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻳﺪﻓﻊ ﺍﻵﻓﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔ
ﺑﻜﺴﺮ ﺍﻟﻤﺜﻨﺎﺓ ﻭﻓﺘﺢ ﺍﻟﻮﺍﻭ ﻭﺍﻟﻼﻡ ﻣﺨﻔﻔﺎ ﺷﻲﺀ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ
ﺗﺠﻠﺐ ﺑﻪ ﻣﺤﺒﺔ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻭﻫﻮ ﺿﺮﺏ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﺤﺮ ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ
ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻷﻧﻬﻢ ﺃﺭﺍﺩﻭﺍ ﺩﻓﻊ ﺍﻟﻤﻀﺎﺭ ﻭﺟﻠﺐ ﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻊ ﻣﻦ
ﻋﻨﺪ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺑﺄﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ
ﻭﻛﻼﻣﻪ
তামায়েম শব্দটি তামীমা শব্দের
বহুবচন। যা পুঁতি বা মালা সাদৃশ্য।
মাথায় লটকানো হয়।
জাহেলী যুগে বিশ্বাস করা হতো যে,
এর দ্বারা বিপদমুক্ত হওয়া যায়,
মহিলারা এসব ব্যবহার করতো স্বামীর
মোহাব্বত অর্জন করতে। এটি জাদুরই
একটি প্রকার। এটি শিরকের অন্তুর্ভূক্ত।
কেননা এর দ্বারা আল্লাহ
ছাড়া অন্যের থেকে বিপদমুক্ত হওয়া ও
উপকার অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
কিন্তু এ শিরকের অন্তুর্ভূক্ত
হবে না যেসব তাবীজ কবচে আল্লাহর
নাম বা কালাম থাকে। {ফাতহুল
বারী-১/১৬৬, ঝারফুক অধ্যায়}
মোল্লা আলী কারী রহঃ বলেন-
ﺇﺫﺍ ﻛﺘﺐ ﻟﻪ ﺍﻟﻨﺸﺮﺓ ﻭﻫﻲ ﻛﺎﻟﺘﻌﻮﻳﺬ ﻭﺍﻟﺮﻗﻴﺔ ﻭﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻀﻤﻴﺮ
ﺍﻟﺒﺎﺭﺯ ﻓﻲ ﻗﻮﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺃﻱ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻫﻮ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﻨﻮﻉ
ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻌﺎﻟﺠﻮﻥ ﺑﻪ ﻭﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﻓﻴﻪ ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ
ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺍﻟﻘﺮﺁﻧﻴﺔ ﻭﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﻭﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻴﺔ
ﻭﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﺍﻟﻤﺄﺛﻮﺭﺓ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﻞ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ
ﺗﻌﻮﻳﺬﺍ ﺃﻭ ﺭﻗﻴﺔ ﺃﻭ ﻧﺸﺮﺓ ﻭﺃﻣﺎ ﻋﻠﻰ ﻟﻐﺔ ﺍﻟﻌﺒﺮﺍﻧﻴﺔ ﻭﻧﺤﻮﻫﺎ
ﻓﻴﻤﺘﻨﻊ ﻻﺣﺘﻤﺎﻝ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻓﻴﻬﺎ
যদি তাবীজের মত কাগজ লিখা হয়।
রাসূল সাঃ এর
বানী “এটি শয়তানী কর্ম” এর
দ্বারা উদ্দেশ্য হল
জাহেলী যুগে যদ্বারা চিকিৎসা করা হতো ও
যার উপর নির্ভর করা হতো। আর
যা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম,
আল্লাহর সিফাত সম্বলিত,
দুআয়ে মাসুরা হয়, তাহলে কোন
সমস্যা নেই। বরং এটি মুস্তাহাব। চাই
সেটি তাবীজ হোক, বা ঝারফুক হোক
বা কাগজে লিখা হোক। আর যেসব
ইবরানী ও অন্যান্য ভাষায় লিখা হয়
তা নিষিদ্ধ। কারণ তাতে শিরকের
সম্ভাবনা আছে। {মিরকাতুল
মাফাতীহ-৮/৩২১}
আল্লামা ইবনে আবেদীন
শামী রহঃ উল্লেখ করেন-
ﺇﻧﻤﺎ ﺗﻜﺮﻩ ﺍﻟﻌﻮﺫﺓ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﺑﻐﻴﺮ ﻟﺴﺎﻥ ﺍﻟﻌﺮﺏ ، ﻭﻻ ﻳﺪﺭﻯ ﻣﺎ
ﻫﻮ ﻭﻟﻌﻠﻪ ﻳﺪﺧﻠﻪ ﺳﺤﺮ ﺃﻭ ﻛﻔﺮ ﺃﻭ ﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ، ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ
ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻭ ﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ
নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল
যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়,
বুঝা যায় না তাতে কি আছে?
অথবা যাতে জাদু,
কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসব
তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয়
তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই।
{ফাতওয়ায়ে শামী-৬/৩৬৩}
কথিত আহলে হাদীস ভাইদের
কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মতামত
কথিত আহলে হাদীস
নামধারী ভাইদের কাছেও গ্রহণযোগ্য
ব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলাম
ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন-
ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻟﻠﻤﺼﺎﺏ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺮﺿﻰ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ
ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺫﻛﺮﻩ ﺑﺎﻟﻤﺪﺍﺩ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﻭﻳﻐﺴﻞ ﻭﻳﺴﻘﻰ ﻛﻤﺎ ﻧﺺ
ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﻏﻴﺮﻩ
বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থ লোকদের জন্য
কারি দ্বারা আল্লাহর কিতাব,
আল্লাহর জিকর
লিখে দেয়া এবং ধুয়ে পান
করা জয়েজ।
তারপর এ আলোচনার
শেষদিকে তিনি তাবিজাত বৈধ
হওয়ার পক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)
এর একটি আছার পেশ করেন।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) কাগজের টুকরায়
তাবিজ
লিখে দিতেন,তা সন্তানসম্ভবা নারীদের
বাহুতে বেঁধে দেয়া হত।
{ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১৯/৬৪}
আল্লামা শাওকানী রহঃ নাইলুল
আওতারে ঝারফুক ও তাবীজের
অধ্যায়ে স্পষ্ট ভাষায় উপরোক্ত শর্ত
সাপেক্ষের তাবীজকে জায়েজ
বলেছেন।
সকল প্রকার তাবীজ নাজায়িজ
হলে ঝাড়ফুঁকও না জায়েজ হয়
কথিত আহলে হাদীস
ভাইয়েরা তাবীজ
কবচকে আমভাবে না জায়িজ বলার জন্য
যেসব হাদীস দলিল হিসেবে উপস্থাপন
করে থাকে সেসব হাদীসের
মাঝে একটি হাদীস হল-
ﺇﻥ ﺍﻟﺮﻗﻰ ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔ ﺷﺮﻙ
অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও জাদু শিরক।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৮৬}
এ হাদীসে ঝাড়ফুঁককেও শিরক
বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাহলে কি সকল প্রকার ঝাড়ফুঁক শিরক ও
হারাম? আমাদের কথিত আহলে হাদীস
ভাইয়েরাও তা স্বীকার করেন যে,
কুরআন ও দুআয়ে মাসুরা দ্বারা ঝাড়ফুঁক
জায়েজ। এছাড়া হলে নাজায়িজ।
তাহলে এ হাদীস দিয়ে তাবীজ
নিষিদ্ধের দলিল দেয়া কি ঠিক হবে?
ঝাড়ফুঁক জায়েজের যেমন
ব্যখ্যা দেয়া হয় যে, এখানে সর্বপ্রকার
ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য নয়,
তেমনি আমরা বলে তাবীজ
নিষিদ্ধতার হাদীসে সব ধরণের
তাবীজ নিষিদ্ধের কথা উদ্দেশ্য নয়।
যেমনটি বিজ্ঞ আলেমগণের মতমত
উল্লেখ পূর্বক ইতোপূর্বে উল্লেখ
করা হয়েছে।
একটি হাস্যকর দলিলের জবাব
আমাদের কথিত আহলে হাদীস
ভাইয়েরা সকল প্রকার তাবীজ হারাম
সাব্যস্ত করার জন্য কিছু হাস্যকর
দলিলের অবতারণা করে থাকেন। তার
মাঝে একটি তারা কুরআন ও হাদীসের
সেসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপন
করে থাকেন, যাতে তাওয়াক্কুল
তথা ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর
করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে সব কিছু
করার ক্ষমতা আল্লাহর উপরই ন্যস্ত
মর্মে বক্তব্য এসেছে।
এসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপন
করে তারা বলতে চান যে, তাবীজের
উপর ভরসা করা মানে আল্লাহর
সাথে শিরক করা তাই তা হারাম।
কিন্তু আমাদের কথিত আহলে হাদীস
ভাইয়েরা ভরসা করা ও ওসীলা গ্রহণের
অর্থ না জানার কারণে এমন
বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন মূলত।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর
ভরসা করে মুক্তি বা আরোগ্য
কামনা শিরক এর মাঝে কোন দ্বিমত
নেই। কিন্তু মূল ভরসা আল্লাহর উপর
রেখে ওসীলা গ্রহণ করা জায়েজ
এটা সর্বজন স্বীকৃত কথা। যদি বলা হয়
যে, ওসীলা গ্রহণ জায়েজ নয়।
তাহলে অসুখ হলে অষুধ
খাওয়া কি করে জায়েজ হয়?
এ্ক্ষেত্রেতো একই বিষয়
আসছে যেমনটি তাবীজের
ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে।
এখানে যদি বলেন যে, ভরসা আল্লাহর
উপর, আর বড়ি বা চিকিৎসা কেবল
ওসীলা মাত্র, তাই তা নাজায়েজ নয়।
তাহলে তাবীজের ক্ষেত্রে কেন এ
অহেতুক প্রশ্ন তোলা?
সুতরাং বুঝা গেল যে,
ডাক্তারী বড়িকে আরোগ্যের মূল
কারণ সাব্যস্ত না করে আল্লাহর উপর
ভরসা করে ওসীলা হিসেবে যেমন
তা ব্যবহার করা বৈধ,
তেমনি প্রথমে উল্লেখিত
শর্তসাপেক্ষে তাবীজ কবচও জায়েজ।
না জায়েজের কোন কারণ নেই।
44113 views

Related Questions