1 Answers
ফিকাহ্ ও মাসায়েল সংক্রন্ত আলোচনা ও চর্চা তো স্বয়ং নবী সা.-এর পবিত্র যুগেই শুরু হয়ে গিয়েছিলো। তিনি স্বয়ং সাহাবায়ে কিরামকে মাসায়েল শিক্ষা দান করতেন।
তবে তখন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত মুস্তাহাব, শর্ত, রুকন ইত্যাদি বিভাজন ছিলো না। উদাহরণ স্বরুপ নবী সা.-এর উযু দেখে সাহাবায়ে কিরাম উযু শিক্ষা করতেন, তদ্রুপ সাহাবায়ে কিরামের উযু দেখে তাবেঈন উযু শিক্ষা করতেন।
সালাত সম্পর্কেও একই কথা। রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর ইরশাদ ছিলো, "আমাকে যেভাবে সালাত পড়তে দেখো তোমরা সেভাবেই সালাত পড়ো।"
তখনকার সহজ সরল জীবনে এর বেশী কিছুর প্রয়োজনও ছিলো না। কিন্তু ব্যাপক বিজয়াভিযানের মাধ্যমে যখন ইসলামী উম্মাহ্র পরিধি সুবিস্তৃত হলো এবং বিচিত্র সব সমস্যার উদ্ভব হলো এবং সমাধান ও সিদ্ধান্ত প্রদানের প্রয়োজন দেখা দিলো।
ফলে ইজতিহাদ প্রয়োগ অনিবার্য হয়ে উঠলো। এজন্য উসূল ও মূলনীতি নির্ধারণেরও প্রয়োজন দেখা দিলো। আর বলা বাহুল্য যে, ইজতিহাদের পন্থা ও পদ্ধতি এক ও অভিন্ন হওয়াও সম্ভস ছিলো না এবং শরীআতের সেটা চাহিদাও ছিলো না।
কেননা, বনূ কুরায়যার অবরোধ ঘটনায় নবী সা. সকলকে আসরের সালাত বনূ কুরায়যার বস্তিতে পড়ার আদেশ করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে কতিপয় সাহাবায়ে কিরামের আসরের সালাত হয়ে গেলো।
তখন একদল সাহাবা নবী সা.-এর বাহ্যিক আদেশের উপর আমল করে বনূ কুরায়যার বস্তিতে গিয়েই আসর পড়লেন। কিন্তু একদল সাহাবা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, নবী সা.-এর আদেশের উদ্দেশ্য তো ছিলো এই যে, চেষ্টা করো যাতে আসরের সময় হওয়ার পূর্বে বস্তিতে পৌছতে পারো।
এ উদ্দেশ্য ছিলো না যে, অনিবার্য কারণে পথিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলেও সালাত বিলম্বিত করতে। সুতরাং তারা পথেই সালাত পড়ে নিয়েছিলেন।
নবী সা.-এর খিদমতে যখন বিষয়টি পেশ হলো তখন তিনি উভয় পক্ষর চিন্তাকেই অনুমোদন করেছিলেন, কাওকে তিরস্কার করেন নি।
বিজয়াভিযান কালে যেহেতু সাহাবায়ে কিরাম বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন সেহেতু ইজতিহাদগত পার্থক্য দেখা দেয়াও স্বাভাবিক ছিলো। মোটকথা সাহাবা যুগেই নিত্য-নতুন ঘটনা, সমস্যাও জটিল উদ্ভুত হয়েছিলো এবং সাহাবায়ে কিরাম নিজ নিজ ইজতিহাদ মুতাবিক ফয়সালা ও সামাধান পেশ করেছিলেন।
এভাবে সাহাবায়ে কিরামের যুগেই ফিকাহ্ ও মাসায়েলের একটা উল্লেখযোগ্য ভান্ডার তৈরী হয়ে গিয়েছিলো।
সাহাবায়ে কিরামের মাঝে ফিকাহ্ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাদের বিশিষ্ট স্থান ছিলো তাদের কয়েক জন হলেন, হযরত উমর, হযরত আলি, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন্ মাস'উদ, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন্ আব্বাস, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন্ উমর রা.।
সূত্রঃ
গ্রন্থঃ আল-হিদায়া, প্রথম খন্ড,
(ভূমিকার অংশ- ফিকাহ্ শাস্ত্রের কতিপয় জরুরী জ্ঞাতব্য)
প্রকাশকালঃ জানুয়ারী ১৯৯৮
লেখকঃ বুরহান উদ্দীন আলী ইব্ন আবূ বকর (রা.)
তরজমাঃ মাওলানা আবূ তাহের মেছবাহ্
প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy