2 Answers

শুধু জায়েজই নয়;বরং সুন্নত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা উপমহাদেশের মুসলিমরা সেটি বেমালুম ভুলে গিয়েছি। কিন্তু আরবে সেটি আজো চলছে। সহীহ বুখারীতে এই বিষয়ে একটি অধ্যায়ই আছে। যেমন- একটি হাদীসে আছে---- আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু’আ করতে থাকবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১০৪০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

2903 views

সূর্যগ্রহণের সময় নামায বা প্রার্থনা করা জায়েজ। এই সময় আল্লাহর যিকির, সসালাত আদায়, দু’আ, ইসেত্মগফার, সাদকাহ ও দাসমুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন।


স্বালাতুল কুসূফ অল-খুসূফ বা চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের নামায ৪ রুকূতে ২ রাকআত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ।


নাবী (সাঃ) এর যুগে যখন সূর্যগ্রহণ লাগলো তখন তিনি ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় চাদর টানতে টানতে দ্রুত মসজিদের দিকে বের হয়ে গেলেন। দিবসের প্রথম ভাগে যখন সূর্য উদিত হওয়ার পর দুই বা তিন বর্শা পরিমাণ উঁচু হলো তখন সূর্যগ্রহণটি লেগেছিল। তিনি অগ্রসর হয়ে দুই রাকআত সলাত পড়লেন। প্রথম 


চন্দ্রে অথবা সূর্যে গ্রহণ লাগা শুরু হলে ‘আস-স্বালা-তু জামেআহ’ বলে আহবান করতে হবে মুসলিমদেরকে।


জামাআতে কাতার বাঁধা হলে ইমাম সাহেব নামায শুরু করবেন। সশব্দে সূরা ফাতিহার পর লম্বা ক্বিরাআত করবেন এবং তারপর রুকূতে যাবেন। লম্বা রুকূ থেকে মাথা তুলে পুনরায় বুকেহাত রেখে (সূরা ফাতিহা পড়ে) আবার পূর্বাপেক্ষা কম লম্বা ক্বিরাআত করবেন। অতঃপর দ্বিতীয়বার অপেক্ষাকৃত কম লম্বা রুকূ করে বাকী রাকআত সাধারণ নামাযের মত শেষ করে দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরুপ ২ বার ক্বিরাআত ও ২ বার রুকূ করে নামায সম্পন্ন করবেন। এ নামাযের সিজদাও হবে খুব লম্বা। প্রথম রাকআতের চেয়ে দ্বিতীয় রাকআত অপেক্ষাকৃত ছোট হবে। মুক্তাদীগণ যে নিয়মে ইমামের অনুসরণ করতে হয়, সেই নিয়মে অনুসরণ করবে। এই নামায এত লম্বা হওয়া উচিৎ যে, যেন নামায শেষ হয়ে দেখা যায়, সূর্য বা চন্দ্রের গ্রহণ ছেড়ে গেছে।


অনুরুপভাবে নামায শেষ করে দাঁড়িয়ে মহানবী (সাঃ) খুতবা দিয়েছিলেন। হামদ ও সানার পর বলেছিলেন, “সূর্য ও চন্দ্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের জন্য উভয়ে গ্রহণ লাগে না। অতএব তাতে গ্রহণ লাগতে দেখলে তোমরা আতঙ্কিত হয়ে নামাযে মগ্ন হও।” (বুখারীঃ ১০৪৭, মুসলিম, সহীহ)


নামাযের সাথে সাথে এই সময় দুআ, তাকবীর, ইস্তিগফার ও সদকাহ করা মুস্তাহাব। যেহেতু মহানবী (সাঃ) বলেন, “সূর্য ও চন্দ্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের জন্য উভয়ে গ্রহণ লাগে না। অতএব তাতে গ্রহণ লাগতে দেখলে তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ কর, তাকবীর পড়, সদকাহ কর এবং নামায পড়।” (বুখারীঃ ১০৪৪, মুসলিম,  মিশকাতঃ ১৪৮৩)


অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তোমরা আতঙ্কিত হয়ে আল্লাহর যিকর, দুআ ও ইস্তিগফারে মগ্ন হও।” (মিশকাতঃ ১৪৮৪)


এই সময় তিনি কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেও আদেশ করেছেন। (বুখারীঃ ১০৫০)


পূর্বেই বলা হয়েছে যে, চন্দ্র-সূর্য গ্রহণের নামায সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। কিন্তু এর তুলনায় যে নামাযের গুরুত্ব বেশী সেই নামাযের সময়ে এই নামাযের সময় হলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নামাযই পড়তে হবে। যেমন, জুমুআহ বা ঈদের সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হলে, অথবা তারাবীহর সময় চন্দ্রগ্রহণ শুরু হলে গ্রহণের নামাযের উপর ঐ সকল নামায প্রাধান্য পাবে।


নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে; যেমন ফজর ও আসরের পর গ্রহণ লাগলেও ঐ নামায পড়া যায়। ফরয নামাযের সময় এসে গেলে ঐ নামায হাল্কা করে পড়তে হবে। নামাযের পরও গ্রহণ বাকী থাকলে দ্বিতীয়বার ঐ নামায পড়া বিধেয় নয়।


যেমন গ্রহণ প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত কেবল পঞ্জিকার হিসাবের উপর নির্ভর করে ঐ নামায পড়া বিধেয় নয়। অনুরুপ বিধেয় নয় গ্রহণ দৃশ্য না হলে।


ভূমিকম্প, ঝড়, নিরবচ্ছিন্ন বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরির অগ্নি উদগিরণ প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও গ্রহণের মত নামায পড়ার কথা হযরত আলী, ইবনে আব্বাস ও হুযাইফা সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত আছে। (আলমুমতে’, শারহে ফিকহ, ইবনে উষাইমীনঃ ৫/২৫৫)


2903 views

Related Questions