প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক করি, তাই মেসওয়াকের সুন্নত তরীকা এবং তা কিভাবে করবো জানতে চাই?
3492 views

1 Answers

মিসওয়াকের ফজিলত ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ব্যবধান নেই। উভয়ের জন্যই মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি হাদিস পেশ করা হল–

১. আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  বলেছেন,

السِّواكُ مَطهَرةٌ للفمِ مَرضاةٌ للرَّبِّ

মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখের পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। (নাসায়ী ৫)

২. আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  বলেছেন,

لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ

যদি আমি আমার উম্মতের উপর কঠিন মনে না করতাম তাহ’লে প্রত্যেক ওযূর সাথে তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (বুখারী ২/৩০৮)

৩. আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  বলেছেন,

ما جاءَني جبريلُ قطُّ إلَّا أمرَني بالسِّواكِ حتَّى لقد خَشيتُ أن أُحْفيَ مُقدَّمَ فَمي

এমনটি কখনো হয়নি যে, জিবরাইল আ. আমার নিকট এসেছেন আর আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেন নি। এতে আমার আশংকা হচ্ছিল যে, মিসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি। (আল মুযামুল কাবীর লিত তবারানী ৭৮৪৭, মুসনাদে আহমদ ২২২৬৯)

দুই. মিসওয়াক করার পদ্ধতি

রাসূলুল্লাহ  যাইতুন ও খেজুর গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করেছেন। তাই এই দুটো হলে উত্তম। এছাড়া তিক্ত স্বাদযুক্ত গাছের ডাল হলেও ভাল। মেসওয়াক কাচা ও নরম গাছের ডাল হওয়া উচিত, এতে মিসওয়াকে বাড়তি ফায়দা হাসিল হয়।

মিসওয়াক নিজ হাতের আঙ্গুলের মত মোটা ও এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া উচিত। এতে মিসওয়াক করতে যেমন সুবিধা হবে তেমনি বেশী ফায়দাও পাওয়া যাবে।

মিসওয়াক ধরার পদ্ধতি হল, ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি মেসওয়াকের নিচে থাকবে। মধ্যমা ও তর্জনী উপরে ও বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে রেখে মিসওয়াক ধরা। এতে করে মুখের ভিতর ভালভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মেসওয়াক করা যায়। এপদ্ধতিটি  ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে।

মিসওয়াক করার মাসনূন পদ্ধতি হল, মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা এবং উপর থেকে নিচে মেসওয়াক করা। আড়াআড়ি ভাবে না করা। মিসওয়াক করার সময় দাঁতের ভিতর বাহির সহ মইসওয়াক করা এবং জিহবাও গোড়া পর্যন্ত মিসওয়াক করা।

মিসওয়াসের মাঝে দুটি বিষয় সুন্নত, এক. মুখ পরিষ্কার করা। দুই. গাছের ডাল হওয়া। তাই গাছের ডাল ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে দাঁত মাজলে একটি সুন্নত আদায় হবে। অপরটি হবে না। সুতরাং মিসওয়াক না থাকলে আঙ্গুল ও শুকনো কাপড় দ্বারাও মইসওয়াক করা যেতে পারে। ব্রাশের মাধ্যমেও দাঁত মাজা যেতে পারে।

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর ও ঘুমানোর পূর্বে, নামাজের আগে, মজলিসে উপস্থিত হবার পূর্বে, কুরআন ও হাদীস পাঠের পূর্বে, খাওয়ার পর মিসওয়াক করা মুস্তাহাব।

3492 views

Related Questions