1 Answers
জীবরাঈল (আঃ) এর পরিবর্তে মাঝে মাঝে ইসরাফিল (আঃ) ওহী নিয়ে এসেছেন এটা নিয়ে মতবিরোধ আছে। তবে সাহাবিদের মধ্যে দাহয়িয়াতুল কালবি (রাঃ) এর সুরতে জীবরাঈল (আঃ) আসতেন। কোন মানুষই এ মর্যাদার অধিকারী নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তিনি কথা বলেন হয় অহীর মাধ্যমে, অথবা পর্দার আড়াল থেকে,কিংবা তিনি কোন বার্তাবাহক (ফেরেশতা) পাঠান এবং সে তার হুকুমে তিনি যা চান ওহী হিসেবে দেয়। তিনি সুমহান ও সুবিজ্ঞ। (সূরাহ আস-শূরাঃ ৫১)। এই আয়াতে ওহীর তিনটি প্রকারের কথা বর্ণিত হয়েছে। প্রথমঃ অন্তরে কোন কথা প্রক্ষিপ্ত করা (ঢুকিয়ে দেওয়া) অথবা স্বপ্নে বলে দেওয়া এই প্রত্যয়ের সাথে যে, তা আল্লাহরই পক্ষ হতে। দ্বিতীয়ঃ অদৃশ্য থেকে সরাসরি কথা বলা। যেমন, মূসা (আঃ)-এর সাথে ত্বুর পাহাড়ে বলা হয়েছিল। তৃতীয়ঃ ফেরেশতার মাধ্যমে স্বীয় ওহী প্রেরণ করা। যেমন, জীবরাঈল (আঃ) ওহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নবীদেরকে শুনাতেন। নবুয়তের শুরুর দিকে কয়েক বছর, বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে তিন বছর জীবরাঈল (আঃ) ওহী নিয়ে আসেননি। তখন হজরত ইসরাফিল (আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন। তবে ইসরাফিল (আঃ) কি কোরআন নিয়ে আসতেন নাকি সাধারণ নির্দেশনা নিয়ে আসতেন এ বিষয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ আছে। একদল মুহাদ্দিস ও মুফাসসির বলেনে, ইসরাফিল (আঃ) এক-দুইটি সূরা নিয়ে এসেছেন। আরেক দল মুহাদ্দিস ও মুফাসসির বলেন, না, সম্পূর্ণ কোরআন জীবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমেই অবতীর্ণ হয়েছে। তাই ইসরাফিল (আঃ) কর্তৃক সূরা নাজিলের বিষয়টি তারা সঠিক মনে করেন না। (ফাতহুল বারিঃ ১/২২-২৩)।