2 Answers
হ্যাঁ, অমুসলিম ব্যাক্তিকেও যে কোন ধরণের সাহায্য করা যাবে৷ আর এর প্রতিদানও আল্লাহ দান করবেন৷
নন-মুসলিম ব্যক্তিকে টাকা পয়সা অথবা কাপড় দিয়ে সাহায্য করা যাবে। ইসলামে অমুসলিম অসচ্ছল হলে তাদের সাহায্য করতে উৎসাহ দিয়েছে। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা যেন কেবল মুসলিমদেরই দান সদকা করে। তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আয়াত নাযিল হল, অমুসলিমদের হেদায়েত দেওয়া আপনার কাজ না। আর মুসলমানদের বলা হল, যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, তার পুরস্কার তোমাদের পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে। [সুরা বাকারা, আয়াতঃ ২৭২]। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সকল ধর্মের লোকজনকে দান-সদকা করবে। [নাসবুর রাইয়াঃ ২:৩৯৮]। এমনিভাবে হযরত সায়িদ ইবনুল মুসাইয়াব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের একটি সম্প্রদায়কে সদকা দিয়েছিলেন। [নাসবুর রাইয়া]। এ জন্য নফল সদকা অমুসলিমদেরও দেওয়া যাবে। সকল ইমামের অভিমত হল অমুসলিমদের নফল সদকা দেওয়া যাবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মত হল ওয়াজিব সদকাও অমুসলিমদের দেওয়া জায়েয। শুধু যাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ যাকাতের জন্য শর্ত হল মুসলিমদের থেকে নিয়ে মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া। [তাবয়িনুল হাকায়েকঃ ১:৩০০]। বাস্তবিক জীবনে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে অমুসলিমদেরও সাহায্য করতে হবে। এমনিভাবে কোনো অমুসলিম অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করা। তাদের কারো মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলে বিয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করা। এতিম-বিধবাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এ সবই পুণ্যের কাজ। প্রতিবেশী কাফির হলেও প্রতিবেশী হিসেবে তার অধিকার রয়েছে। প্রতিবেশী যদি কাফির হওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়ও হয়, তাহলে তার অধিকার দ্বিগুন: প্রতিবেশী হিসেবে এবং আত্মীয় হিসেবে। প্রতিবেশী দরিদ্র হলে তাকে যাকাত না দিয়ে আর্থিকভাবে সাহায্য করুন। কারণ প্রতিবেশী হিসেবে এই সাহায্য পাওয়ার অধিকার তার আছে। এই সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ্ তো ন্যায়-পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। [সূরা মুমতাহিনাহ আয়াতঃ ৮ ]