আর তার উপর দরূদ পড়লে তিনাকে জিবীত ভাববো নাকি?
2757 views

2 Answers

আলহামদুলিল্লাহ। সন্দেহ নেই, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী প্রিয় ও সম্মানিত তিনি, এ কথার অর্থ তার থেকে মনুষ্য বৈশিষ্ট্য দূরীভূত করা নয়, অথবা তাকে আল্লাহর কোনো কর্তৃত্ব সোপর্দ করাও নয়। তিনি মানুষ ছিলেন, অন্যান্য মানুষ যেরূপ অসুস্থতা ও মৃত্যুর সম্মুখীন হয়, তিনিও সেরূপ হয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।” [সূরা যুমার: ৩০]। অপর আয়াতে তিনি বলেন: আর তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি, সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে থাকবে?” [সূরা আম্বিয়া: ৩৪]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেছেন, তাকে কবরে দাফন করা হয়েছে, এ জন্য আবুবকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেনঃ “যে মুহাম্মদের ইবাদত করত, [সে জেনে নিক] নিশ্চয় মুহাম্মদ মারা গেছেন, আর যে আল্লাহর ইবাদত করত, [সে জেনে নিক] নিশ্চয় আল্লাহ জীবিত আছেন, কখনো মারা যাবেন না।” [সহীহ বুখারি;অধ্যায়: আল-মাগাজী;হাদীস নং:৪৪৫৪]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহিদ তথা সাক্ষী বা প্রত্যক্ষদর্শী এবং মুবাশশির, সতর্ককারী ও কিয়ামতের দিন সাক্ষীর অর্থ এ নয় যে, তিনি সকল উম্মতের সময় উপস্থিত ছিলেন, কিংবা তার জীবন কিয়ামত পর্যন্ত প্রলম্বিত, আবার এ অর্থও নয় যে, তিনি কবরে থেকে সবকিছু দেখছেন, কারণ সাক্ষীর জন্য উপস্থিত থাকতে হবে এরূপ জরুরি নয়, বরং তিনি আল্লাহর সংবাদের উপর ভিত্তি করে সাক্ষী দিবেন, কারণ তিনি গায়েব জানেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম।” [সূরা আরাফঃ ১৮৮]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত হতে সক্ষম নন, বরং তিনি এক স্থানেই আছেন, অর্থাৎ তার কবরে। আহলে সুন্নাহ আল-জামাআতের অনুসারী সকল মুসলিম এ মত পোষণ করেন।

2757 views

ইন্তেকাল, মৃত্যুবরণ এক-ই অর্থ বহন করে। কেবমাত্র শহীদ কথাটি ভিন্ন। আল্লাহ তায়ালা বলেন প্রত্যেকটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সব কিছুই নশ্বর, অবিনশ্বর কেবল আল্লাহর সত্ত্বা। তুমি (রাসুল) তো মরনশীল এবং তারাও (অন্য মানুষ) মরণশীল। (সুরা যুমারঃ ৩০) ভুপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর (মরণশীল) (সুরা আর রাহমানঃ ২৬) আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (সূরা আম্বিয়াঃ ৩৪) প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আম্বিয়াঃ ৩৫) যেহেতু রাসূল (সাঃ) মানুষ ছিলেন আর ইতিহাস থেকে জানি তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন ,তাই অবশ্যই তিনি মৃত। তবে মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার চিত্রটি নিয়ে মত দ্বৈততা আছে, এ প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত পেশ করা হয়েছে। আর এখান থেকে এভাবে সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে যে, যেহেতু শহীদরা জিবীত থাকেন তা প্রমানিত, তাই শহীদদের থেকেও অনেক বেশী সম্মানিত নবীগণ অবশ্যই জিবিত। আসুন আমরা এ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু সূত্র জেনে নেই: এবং যারা হিজরত করেছে আল্লাহর পথে, অতপর নিহত হয়েছে অথবা মারা গেছে তাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই উৎকৃস্ট জীবিকা দান করবেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোৎকৃস্ট রিজিকদাতা। (সুরা হজ্জঃ ৫৮) যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাহাদেরকে কখনই মৃত মনে করো না, বরং তাহারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তারা জীবিকা প্রাপ্ত। (সুরা ইমরানঃ ১৬৯ল এবং যারা হিজরত করেছে আল্লাহর পথে, অতপর নিহত হয়েছে অথবা মারা গেছে তাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই উৎকৃস্ট জীবিকা দান করবেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোৎকৃস্ট রিজিকদাতা। তিনি (আল্লাহ) তাহাদেরকে অবশ্যই এমন স্থানে দাখিল করবেন যা তারা পছন্দ করবে এবং আল্লাহ সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল। (সুরা হজ্জ আয়াতঃ ৫৮,৫৯)।

2757 views

Related Questions