মা-বাবা বদদোয়া দিলে তা কাজে লাগবে?

আমার মায়ের সাথে আমার খারাপ সম্পর্ক না । তবে দুই-একসময় মায়ের ভুল কথার বিরোধীতা করলে মা রেগে যায় । আমাদের সমাজে কিছু সাধারণ বিষয় মায়ের কাছে খুব জটিল । আমার সাথে মায়ের কথা কাটাকাটি তো একটু হতেই পারে তাই না? কিন্তু মা কিছুই সহ্য না করে রেগে গিয়ে বা এমনিতেই আমায় বদদোয়া দেন । যতদুর মনে পড়ে , আমি যখন অবুঝ বাচ্চা প্রাইমারীর থ্রি-ফোরের ছাত্র তখন থেকেই বদদোয়া চলছে । একই বদদোয়া তিনি বারবার দেন । আর তিনি বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিজের ভুল বুঝতে পারেন না , ভুল অস্বীকার করেন । উনার সাথে আমার দুই-একসময় তর্ক হলে আমার যুক্তি তিনি মেনে নেন না , তার কথায় অটল থাকেন । বাইরের মানুষদের মতো উপহাস করেন যা আমার কাছে খারাপ লাগে , আমি মাকে সেটা বলেছি । আমার ভিতরের হৃদয়টা ভেঙ্গে যায় বারবার... এমন অভিশপ্ত জীবণ আমার । সব আয়োজন কি ব্যর্থ হবে? আমি কি করব? একবার আমি সুইসাইডও করতে গেছিলাম , তখন আমি অনেক ছোট । এখন ওসব চিন্তা নেই । আমি ভালোভাবে বাঁচতে চাই । আমার কি হবে? মা তো তিনি , আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না , আমি শুধু জাস্ট একটা কার্যকর সমাধান চাই । আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বহুবার ভেবেছি , কিন্তু সেরকম ব্যবস্থাও নেই । ছোটবেলায় একবার পালিয়েও গিয়েছিলাম । আমি কি করব? আমি কি চিরদিনের জন্য গৃহত্যাগ করব নাকি?
3064 views

2 Answers

ভয় দেখানোর জন্য অনেক মা বদদোয়া করেন । এতে কিছু নাও হতে পারে। তবে মন থেকে দিলে তা অবশ্যই কাজে লাগবে । আপনার উচিত মা বদদোয়া দিবেন এমন আচরণ বা কাজ থেকে বিরত থাকা ।          

3064 views Answered

হাদীসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, অর্থাৎ তোমরা কোনো মুহূর্তেই নিজের বিরুদ্ধে, নিজের সন্তান বা সম্পদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করো না। কারণ, হতে পারে যে সময় তুমি দু‘আ করছো, তা দিনের মধ্যে ওই সময় যখন যা-ই দু‘আ করা হোক না কেন তা কবুল করা হয়। তোমরা তো এ সময় সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান প্রাপ্ত নও। (মুবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতীহ : ৭/৭০৩) হাদীসটি বর্ণনা করে আরেক ব্যাখ্যাকার বলেন, ﻦﻋ ﻲﻬﻨﻟﺍ ﻰﻠﻋ ﻝﺪﻳ ﺚﻳﺪﺤﻟﺎﻓ ﻪﻠﻫﺃ ﻰﻠﻋ ﻮﻋﺪﻳ ﻥﺎﺴﻧﻹﺍ ﻥﻮﻛ ﻪﻟ ﻞﺼﺤﻳ ﺎﻣﺪﻨﻋ ﻚﻟﺫﻭ ،ﻪﻟﺎﻣﻭ ﻮﻫﻭ ،ﺀﺎﻋﺪﻟﺍ ﻪﻨﻣ ﻞﺼﺤﻴﻓ ﺐﻀﻏ ﺔﻠﻌﻟﺍ ﻥﺎﻴﺑ ﻰﻠﻋ ًﺎﻀﻳﺃ ﻞﻤﺘﺸﻣ ﺪﻗ ﻪﻧﺃﻭ ،ﻚﻟﺫ ﻲﻓ ﺔﻤﻜﺤﻟﺍﻭ ﺔﻋﺎﺳ ﻖﻓﺍﻮﻳ ﺀﺎﻋﺪﻟﺍ ﺍﺬﻫ ﻥﻮﻜﻳ ﺎﻤﻴﻓ ﻥﺎﺴﻧﻺﻟ ﺏﺎﺠﺘﺴﻴﻓ ﺔﺑﺎﺟﺇ ﻱﺬﻟﺍ ﺀﻲﺸﻟﺍ ﻦﻣ ﻭﺃ ﺮﺸﻟﺍ ﻦﻣ ﻝﺄﺳ ﻪﻟﺎﻣﻭ ﻪﻠﻫﻷ ﻲﻐﺒﻨﻳ ﻻ. ‘হাদীসটি রাগের মাথায় মানুষের তার পরিবার ও সম্পদের বিরুদ্ধে দু‘আ করার নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে। হাদীসটি এর কারণও তুলে ধরে। আর তা হলো, এ দু‘আটি কবুলের বিশেষ মুহূর্তে পড়ে যেতে পারে। ফলে মানুষের সবই কবুল হয়ে যায় চাই তা ভালো হোক বা মন্দ, যা সে তার পরিবার বা সম্পদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা করে না।’ [আবদুল মুহসিন, শারহু সুনান আবী দাউদ : ৮/২৮৮]

3064 views Answered

Related Questions

Next steps