4 Answers

সালাতুত তাসবিহ হাদীস শরীফে ‘সালাতুত তাসবীহ’ নামাযের অনেক ফযীলত বর্ণিত আছে। এই নামায পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়ার পাওয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামায পড়লে আল্লাহ আয-যাওযাল আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন।
তিনি বলেন, চাচা জান ! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন ।
সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়মঃ চার রকাত । প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রকাতে ৭৫ বার করে, চার রকাতে মোট ৩০০ বার তাসবীহ পড়তে হবে।
তাসবীহঃ سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।
@ ১ম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে
@ তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত তিন আয়াত পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
@ এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পরার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে
@ এরপর রুকু হতে দাড়িয়ে গিয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
@ এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
@ প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
@ এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
@ তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, ( সুরা ফাতিহা পড়ার আগে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।)
@ অতপর ২য়রাকাত এর ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…”, দরুদ আর দোয়া পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ২য় রাকাত এর মতো ৩য় এবং ৪থ রাকাত একই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে (তাসবীহ টি ১৫ বার পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) ।
কোন এক স্থানে উক্ত তাসবীহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নিবে। আর এই নামাযে কোন কারণে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সাজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে না। তাসবীহের সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙ্গুলের কর গণনা করা যাবে না, তবে আঙ্গুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে

2931 views Answered

যে নামাজে একটি বিশেষ তাসবিহ বিশেষ নিয়মে পড়া হয় তাকে সালাতুত তাসবিহ বলা হয়।

ব্যাখ্যাঃ সালাতুত তাসবিহ আদায়ের নিয়মঃ
চার রাকাত নফল সালাত আদায়ের নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা,সানা,সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠ করে নিম্নোক্ত তাসবিহ টি পনের বার পাঠ করবে। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পাঠ শেষে তাসবিহ টি দশ বার পাঠ করবে।রুকু থেকে উঠে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা লাকাল হামদ' পাঠ করে তাসবিহ টি দশ বার পাঠ করবে। সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবিহ পাঠ করে দশ বার পাঠ করবে।সেজদা থেকে উঠে দশ বার। দ্বিতীয় সেজদায় সেজদার তাসবিহ পাঠ শেষে তাসবিহ টি দশবার পাঠ করবে।সেজদা থেকে উঠে বসে দশ বার পাঠ করবে। এভাবে এক রাকাতে পঁচাত্তর বার পাঠ করে চার রাকাতে মোট তিন শত বার পাঠ করতে হয়।আবু দাউদ ১২৮৯, তিরমিযী ৪৭৬
এই বিশেষ নিয়মে আদায়কৃত সালাত কে সালাতুত তাসবিহ বলে।
তাসবিহ টি এই; আরবি سبحان الله و الحمدلله ولا اله الا الله و الله اكبر
বাংলা উচ্চারণ, সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার।
উল্লেখ্য,বাংলায় আরবির সঠিক উচ্চারণ সম্ভব নয়।তাই আরবি উচ্চারণ কারো কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
2931 views Answered

সালাতুত তাসবীহ নামায দুইভাবে পড়া যায়। এখান থেকে আপনি সালাতুত তাসবীহ নামায কী ও এর নিয়ম সহ বিবিধ কিছু জানতে পারবেন।

2931 views Answered

সালাত শব্দের অর্থ নামাজ। আর তাসবীহ বলতে ‘সুবাহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার এ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবীহ পড়ানো হয় তা সালাতুত তাসবীহ বা তাসবীহের নামাজ হিসেবে পরিচিত। ইসলামে অনুসারীদের জন্যে এটি একটি ঐচ্ছিক ইবাদত। এটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো বাধ্যতামূলক নয়। অধিক তাসবীহ পাঠের কারণে এই সালাতকে ‘সালাতুত তাসবীহ’ বলা হয়। সালাতুত তাসবীহ নামাজের নিয়মঃ দিনে বা রাতে চার রাকআত সালাত এক সালামে আদায় করবে। ১ম রাকআতে কিরাআত শেষে সুবহানাল্লা-হি, ওয়াল হামদুলিল্লা-হি, অলা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লাহ-হু আকবর ১৫ বার পড়বে। অতঃপর রুকূতে গিয়ে দোআ পাঠ শেষে উক্ত তাসবীহ ১০ বার পড়বে। অতঃপর রুকূ থেকে উঠে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ ও রববানা লাকাল হামদ বলার পর ১০ বার পড়বে। অতঃপর সিজদায় গিয়ে দোআ পাঠের পর ১০ বার পড়বে। অতঃপর সিজদা থেকে উঠে দোআ পাঠের পর ১০ বার পড়বে। অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে দোআ পাঠের পর ১০ বার পড়বে। অতঃপর উঠে দাঁড়ানোর পূর্বে বসা অবস্থায় ১০ বার পড়বে যা মোট ৭৫ বার। এই তাসবীহ প্রত্যেক রাকআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাআত নামাজের প্রতি রাকআতেই এক নিয়ম অনুসারে আদায় করতে হবে। এইভাবে চার রাকআতে সর্বমোট তাসবীহ ৪×৭৫=৩০০ বার পড়বে। পারলে দিনে একবার, নইলে সপ্তাহে, নইলে মাসে, নইলে বছরে, নইলে জীবনে একবার পড়বে। তাতে আগে-পিছের, জানা-অজানা, ছোট-বড় সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। (আবু দাঊদঃ ১২৯৭-৯৯, ইবনু মাজাহঃ ১৩৮৬-৮৭; মিশকাতঃ ১৩২৮)

2931 views Answered

Next steps