কারো জানা থাকলে উত্তর দিলে উপকৃত হবো..?
2 Answers
আপনি সম্ভবত শারিরীক দুর্বলতায় ভুগছেন।আপনি ডাক্তার দেখান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন।আর যদি শারিরীক সমস্যা মনে না হয় তাহলে সকালে এবং সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন।আয়াতুল কুরসি না পারলে সূরা নাচ এবং ফালাক তিনবার করে পড়ুন।এগুলোই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। আশা করি আপনি উত্তর পেয়েছেন।
বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস স্রেফ একটা ইন্দ্রিয়ঘটিত, মানসিক ব্যাপার। যখন শরীর গভীর ঘুমের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যায়, তখনই এটা ঘটে থাকে। বোবা ধরলে একেকজনের একেক রকম অভিজ্ঞতা হয়।অনেকের ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রায়ই শত্রুর উপস্থিতি অনুভূত হয়, বুকে চাপ লাগা বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায়, আপনি ঘুম থেকে আতংকে জেগে ওঠেন। -এর নাম স্লিপ প্যারালাইসিস, বাংলায় যাকে বলা হয় বোবা-য় ধরা।
বোবায় ধরাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় (Sleep Paralysis) যার বাংলা রুপ হলো বোবায়ধরা। মনস্তাত্তিত্বকদের মতে এ সময় ৩ধরণের হ্যালুসিনেশন এর সৃষ্টি হয় যার প্রথম ধাপে কেউ অতি প্রাকৃতিক বস্তুর অস্তিত্ব টের পায়, দ্বিতীয় ধাপে সেটি তার বুকের উপর চেপে বসে আর তৃতীয় বা শেষ ধাপে মনে হয় যে, কেউ তাকে শূন্যে তুলে ফেলেছে।
বোবায় ধরলে চিৎকার করতে চাইলেও শব্দ বের হয় না আর তার সাথে নড়ে না হাত-পা সহ অন্যান্য অঙ্গ।এ পক্ষাঘাত অবস্থায় সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় কিন্তু তখন এক এক সেকেন্ড কেও অনেক বেশি মনে হয়। অনেকে ধারণায় বোবায় ধরার জন্য দায়ী করা হয় বিভিন্ন অশরীর আত্মাকে কিংবা কোনো শয়তানবা ভূতকে যা বিজ্ঞানে ব্যাখ্যাতে সম্পূর্ণ ভূল ধারণা।
বোবায় ধরা (Sleep Paralysis) নিয়ে বিজ্ঞান কীভাবে এর ব্যাখ্যাদেয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বোবায় ধরা তেমন কোন গুরুতর বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।তাদের মতে এটি ঘুমের একটি অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থা যেখানে আমরা ঘুম ও জাগরণের একটি মাঝামাঝি দশায় অবস্থান করি।
আমরা অনেক সময় হঠাৎ করে ঘুমথেকে জেগে উঠলে আমাদের মস্তিস্কের চেতনা অংশের পুরোটা একসাথে কাজ করতে পারে না আর সেই কাজ না করায় সাধারণত এই ঘটনা ঘটে থাকে। বিভিন্ন সময়ে কম ঘুমানো, ঘুমের পরিবর্তন কিংবা নিদ্রাজনিত অন্যান্য কারণেও সাধারণত এই সমস্যা হয়।
বিশ্বের প্রায় ৭.৬ ভাগ মানুষ এ সমস্যায় ভোগেন।
আমাদের মন দু’ধরনের অবস্থায় বিরাজ করে-চেতন ও অবচেতন। আর অবচেতন মনের বিরূপ একটি ঘটনা স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরা। শরীরের পেশী সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে গেলে মানুষ ঘুমের মধ্যে অসাড় হয়ে পড়ে, হার্টবিট কমে যায়, বুকে চাপ অনুভূত হয়। জাগ্রত অবস্থায়ও এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তবে, যতই বোবায় ধরুক না কেন কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বিদঘুটে অবস্থা থেকে রেহাই পেতে পারেন। যা কিছু করনীয়-
সঠিক সময় খাবার গ্রহণ :
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পূর্বে খাবার গ্রহণ করতে হবে আপনাকে। এ নিয়ম ব্যাহত হলে শারীরবৃত্তীয় সমস্যা হতে পারে যার বিরূপ প্রভাব পড়বে মনের ওপর। এর ফলে স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবা-য় ধরা-এ আক্রান্ত হতে পারেন আপনি।
ঘুমের অনিয়ম পরিহার :
ঘুমের অনিয়ম হলে কিংবা নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস না থাকলে স্লিপ প্যারালাইসিস-র সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই, অনিদ্রা পরিহার করতে হবে। চিত কিংবা উপুড় হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে শোওয়া উত্তম।
মানসিক চাপ বর্জন :
মানসিক চাপজনিত কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তাই, অবশ্যই দুশ্চিন্তা পরিহার করতে হবে। এর ফলে, শুধু স্লিপ প্যারালাইসিস নয় আরো অনেক জটিল সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন আপনি।
স্লিপিং পিল পরিহার :
স্লিপিং পিল বা ঘুমের ওষুধ বোবায় ধরা’র অন্যতম কারণ। তাই স্লিপিং পিল পরিহার করতে হবে।
আর ঘন-ঘন বোবায় ধরা’য় আক্রান্ত হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না যেন।