4 Answers
নিশ্চয় এটা যিনার অন্তর্ভুক্ত! নিকৃষ্ট ও মারাত্মক গোনাহের কাজ৷
আল্লাহর নবী সাঃ এর একাধিক হাদিস দ্বারা একথার উপর কটুর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে,তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের পায়ুপথে সঙ্গম করোনা!★আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ﷺ সে তার স্ত্রীর পশ্চাদদ্বারে সংগম করে; সে যেন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মুহাম্মদ ﷺ -এর উপর নাযিলকৃত দীন হতে মুক্ত হয়ে গেল। (আবু দাউদ ৩৯০৪)
★আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করে সে লা’নত প্রাপ্ত। (আবু দাউদ ২১৬২)
সুতরাং -বুঝা গেলো এটা যিনা তো বটে,বরং আরো জগণ্য অপরাধ! এখানে যিনা'র সব উদ্দেশ্য সাধিত হয়৷
ইসলাম যেমন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক কঠিনভাবে নিষেধ করে, তেমনি পায়ুপথে মিলন এবং রক্তস্রাব অবস্থায় মিলন নিষিদ্ধ। তাই বিবাহ সম্পর্ক বহির্ভূত যদি কোন ছেলে মেয়ে পায়ুপথে মিলন করে তাহলে তা যিনা হবে। কেননা, যিনা হলো অবিবাহিত দুইজন মানুষের মধ্যে যৌনক্রিয়া। ব্যুৎপত্তিগতভাবে: যিনা হলো ইসলামী বৈবাহিক নিয়ম অনুযায়ী পরস্পর অবিবাহিত একাধিক মুসলিমের মাঝে অবৈধ যৌন সম্পর্ক বিষয়ক একটি ইসলামী নিষেধাজ্ঞা। বিবাহোত্তর যৌনতা এবং বিবাহপূর্ব যৌনতা, যেমনঃ পরকীয়া, পারস্পারিক সম্মতিতে বিবাহিতের অবৈবাহিক যৌন সম্পর্ক, ব্যভিচার, দুজন অবিবাহিতের পারস্পারিক সম্মতিতে যৌনসঙ্গম। পতিতাবৃত্তি, অর্থের বিনিময়ে যৌনসঙ্গম, সমকামিতা সমলিঙ্গীয় ব্যক্তিদ্বয়ের পারস্পারিক সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক। পায়ুসঙ্গম ও মুখমৈথুন, অজাচার, পরিবারের সদস্য বা অবিবাহযোগ্য রক্তসম্পর্কের ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গম, অমানব পশুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম এবং ধর্ষণ জোরপূর্বক অবৈবাহিক যৌনসঙ্গম এসব-ই যিনার অন্তর্ভুক্ত। শরীয়তে সমমৈথুন প্রসঙ্গে বিধান হচ্ছেঃ পুরুষ সঙ্গম বা পুরুষ-পুরুষে পায়ুপথে কুকর্ম করাকে বলে। আর এরই অনুরূপ স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করাও। এটা সেই কুকর্ম, যা লুত (আঃ) এর সম্প্রদায় করেছিল। যেমন মহান আলাহ বলেন, মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই উপগত হও। (সূরা শূআরাঃ ১৬৫) তিনি আরও বলেন, তোমরা তো কাম তৃপ্তির জন্য নারী ত্যাগ করে পুরুষদের নিকট গমন কর! (সূরা আ’রাফঃ ৮১) আল্লাহ তাদেরকে এই কুকাজের শাস্তি স্বরূপ তাদের ঘর বাড়ী উল্টে দিয়েছিলেন এবং আকাশ থেকে তাদের উপর বর্ষণ করেছিলেন পাথর। তিনি বলেন, (অতঃপর যখন আমার আদেশ এলো) তখন আমি (তাদের নগরগুলোকে) ঊর্ধ্বভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করেছিলাম এবং আমি তাদের উপর ক্রমগত কঙ্কর বর্ষণ করেছিলাম। (সূরা হিজরঃ ৭৪) সুতরাং উক্ত সম্প্রদায়ের মতো কুকর্মে যে লিপ্ত হবে সেও উপর্যুক্ত শাস্তির উপযুক্ত। একাধিক হাদীসেও নবী (সঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে; এক হাদীসে তিনি বলেছেন, যাকে লুত সম্প্রদায়ের মত কুকর্মে লিপ্ত পাবে, তাকে এবং যার সাথে এ কাজ করা হচ্ছে, তাকেও তোমরা হত্যা করে ফেল। (তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, মিশকাতঃ ৩৫৭৫)