3 Answers
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত। তাদেরকে রিজিক প্রদান করা হয়। (সুরাহ আল ইমরানঃ ১৬৯) নবীগণ কবরে জীবিত এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। কুরআনে কারীমে শহীদগণকে জিন্দা বলা হয়েছে। আর উক্ত আয়াতের ইশারাতুন নছ তথা ইবারতের ইঙ্গীতবহ হালাত দ্বারা নবীগণও কবরে জিন্দা থাকা প্রমাণিত হয়ে যায়। কারণ শহীদগণ এ মর্যাদা লাভ করেছেন নবীদের বদৌলতে। সুতরাং শহীদগণ যদি এমন মর্যাদাই অধিষ্ঠিত হয়ে যান, তাহলে নবীগণতো অবশ্যই সে মর্যাদায় আরো উন্নতভাবেই অধিষ্ঠিত হবেন। আর হাদীসে এ বিষয়টি পরিস্কার ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে, হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, নবীগণ তাদের কবরে জীবিত। তারা সেখানে নামায পড়েন। (মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং ৩৪২৫ মুহাদ্দিসীনদের ঐক্যমত্বে এ হাদীসটি সহীহ)। তারপরও মুহাদ্দিসীনে কেরামের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করে দিচ্ছি আরো অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত উক্ত হাদীসটির বিষয়ে। আল্লামা হায়ছামী (রহঃ) বলেন আবী ইয়ালার বর্ণীত হাদীসের সনদটির রাবীগণ সিকা। (মাযমাউজ যাওয়ায়েদঃ ৮/২১৪) আল্লামা সূয়ুতী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান। (আলজামেউস সাগীর, বর্ণনা নং ৩০৮৯) শায়েখ আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি সহীহ। (সহীহুল জামে, বর্ণনা নং ২৭৯০ তিনি আরো বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ আততাওয়াসসুল, বর্ণনা নং ৫৯) এছাড়া তিনি আরো যেসব কিতাবে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন সিলসিলাতুস সহীহাহ, বর্ণনা নং ৬২১, আহকামুল জানায়েজ, বর্ণনা নং ২৭২) আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস সাবিত তথা প্রমাণিত। (নাইলুল আওতারঃ ৩/৩০৫) উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা একথা দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার হয়ে গেল যে, নবীগণ কবরে জীবিত এবং তারা সেখানে নামায আদায় করছেন মর্মে হাদীসটি সন্দেহাতীতভাবে সহীহ। হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত আরো একটি পরিস্কার হাদীসও এর প্রমাণবাহী। হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, আমি মেরাজের রাতে কাসীবে আহমার স্থান অতিক্রমকালে দেখতে পাই হযরত মুসা (আঃ) তার কবরে নামায পড়ছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৭৫) আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) “ইনবাউল আজকিয়া বিহায়াতিল আম্বিয়া” নামে হায়াতুন নবী (সাঃ) এর উপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। শুধু তাই নয়, হযরত ইমাম বায়হাকী (রহঃ) “হায়াতুল আম্বিয়া বা’দা ওয়াফাতিহিম” নামে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেখানে তারা পরিস্কার ভাষায় হায়াতুল আম্বিয়া প্রমাণ করেছেন।
নবীরা কবরে জীবিত অবস্থায় আছেন ।তাঁরা তাঁদের উম্মতদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন ।