প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে?
3 Answers
হুম তাঁদেরও প্রান আছে তাঁরা ও মৃত্যুবরণ করবে।সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করবে হযরত আযরাইল(আ)।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কোরআনে কারিমের মধ্যে এরশাদ করেন, আসমান এবং জমিনের মধ্যে যারা আছে, শিঙ্গায় প্রথম ফুতকারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সবার মৃত্যু হবে। শুধু আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যাকে বা যে জিনিস সম্পর্কে চাইবেন, সেগুলো ছাড়া। তারপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে। (সুরা যুমারঃ ৬৮) এর মধ্যে একদল ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, যারা আরশ বহন করবে, আটজন ফেরেশেতা, তারা এর মধ্যে থাকবে না। কিন্তু কেউ কেউ বলেছেন, না, এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি তাফসিরের বিষয়। এটা সরাসরি কোরআন অথবা হাদিসের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত কোনো বিষয় না। দেখুন মত গুলিঃ কারো কারো নিকট (অকস্মাৎ প্রথম ফুঁকের পর) এটা হবে দ্বিতীয় ফুঁক। অর্থাৎ, এটা হবে বেহুঁশ হওয়ার ফুঁক। যার ফলে সবারই মৃত্যু হয়ে যাবে। কারো কারো নিকট এ ফুঁকই প্রথম ফুঁক। এর ফলেই প্রথমতঃ সকলে কঠিন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং পরে সবারই মৃত্যু হয়ে যাবে। কেউ কেউ এই ফুঁকগুলোর পর্যায়ক্রম এইভাবে বর্ণনা করেছেন। প্রথমঃ (ধ্বংসের ফুঁক), দ্বিতীয়ঃ (পুনরুত্থানের ফুঁক), তৃতীয় (বেহুঁশ হওয়ার ফুঁক) এবং চতুর্থ, (বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হওয়ার ফুঁক)। (আয়সারুত তাফসীর)। আবার কারো কারো মতে ফুঁক কেবল দুটোই; (মৃত্যুর ফুঁক) এবং (পুনরুত্থানের ফুঁক)। আবার কারো কারো নিকট ফুঁক তিনটি হবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। অর্থাৎ, যার জন্য আল্লাহ চাইবেন তার মৃত্যু আসবে না। যেমন তারা হলেন জিবরাঈল, মীকাঈল, এবং ইসরাফীল (আঃ)। কেউ কেউ (বেহেশ্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত) রিযওয়ান ফিরিশতা, (আরশ উত্তোলনকারী ফিরিশতা) এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দারোগার কথাও বলেছেন। (ফাতহুল ক্বাদীর) তবে আহলুত তাহকিক মাহকি ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, আরশ বহনকারী যে আটজন ফেরেশতা রয়েছেন, তারা সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন, আল্লাহর চাওয়ায় যাদের মৃত্যু হবে না। এই তাফসির থেকে এতটুকু বোঝা যায় বা উপলব্ধি করা যায়। তবে আবার বলছি, এটি কিন্তু তাফসির। এর পক্ষে সরাসরি কোরআন বা হাদিসের কোনো আয়াত বা দলিল নেই। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আসমান ও যমীন বাসী সকলে মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর সবশেষে মালাকুল মাউত মারা যাবেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহ বাকী থাকবেন, যিনি চিরঞ্জীব। (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা যুমার ৬৮ আয়াত)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে, এমনকি ফেরেশতারাও। অবশেষে মালাকুল মউতও। (মাজমূ ফাতাওয়া ৪/২৫৯, ১৬/৩৪) ফেরেস্তাদের মৃত্যু ও এর পরের বিস্তারিত বর্ণণাঃ পৃথিবীতে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তাআলা সপ্তআকাশ ভেঙে দিবেন। সপ্ত আকাশে অবস্হানরত ফেরেশতারা মৃত্যুর দুয়ারে। সমস্হ ফেরেশতা মৃত্যুর পেয়ালা পান করবে। আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও বরণ করবে মৃত্যুর মালা। অতঃপর নির্দেশ হবে! => জিবরাইল! মৃত্যু বরণ কর! => মিকাইল! মৃত্যু বরণ কর! আল্লাহ তাআলার ইশক ও ভালোবাসা সুপারিশ করবে, হে আল্লাহ! জিবরাইল ও মিকাইলকে রক্ষা করো! তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, চুপ কর! আমার আরশের নিচে যারা আছে সকলের জন্যই আমি মৃত্যুর ফয়সালা করে দিয়েছি। মৃত্যুবরণ করবে জিবরাইল। মিকাইল ও শেষ সিঙা ফুৎকারের ইসরাফিলও ঢলে পড়বে মৃত্যুর কোলে। সিঙার ফুৎকার হাওয়ায় ভেসে উড়ে যাবে আরশে। আরশের উপরে আছেন আল্লাহ। নিচে কেবল আজরাইল। তখন আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, বলো আর কে বাকি আছে? বলবে, উপরে তুমি আর নিচে তোমার গোলাম। নির্দেশ করবেন, "তুমিও মরে যাও।" এতদিন পর্যন্ত যে সকলের রুহ কবজ করে ফিরতো আজ সে নিজেই নিজের প্রাণ কবজ করবে। যদি মানুষ বেঁচে থাকতো তাহলে মৃত্যুমুখে আজরাইলের সেই চিৎকার শুনে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে সকল মানুষ মারা যেত। => আজ কারও জন্য কাঁদবার মত কেউ নেই। => আজ কাউকে দাফন করার মত কেউ নেই। => আজ কাউকে কাফন পরানোর মত কেউ নেই। => আজ কারও জন্য মাতম করার কেউ নেই। => আজ সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার ফলে মামলা করার মত কেউ নেই। => আজ দরবার আছে। দরবারী কেউ নেই। => কুরসী আছে। কুরসীতে বসার কেউ নেই। => বাদশাহী আছে। বাদশাহ কেউ নেই। => পেয়ালা আছে পানকারী মত কেউ নেই। => আজ এক আল্লাহ আছেন। তার কোন শরীক নেই। আল্লাহ তাআলা যখন সবাইকে মৃত্যু দিয়ে দিবেন তখন ঘোষণা করবেন, আমার কোন শরীক আছে কি যে আমার মোকাবিলা করবে? তিনি তিনবার এই ঘোষণা দিবেন। বলবেন, আমার কোন প্রতিপক্ষ থাকলে সামনে এসো। অতঃপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে নত করে দিয়ে ঘোষণা করবেন, আমিই কুদ্দুস সালাম ও মু'মিন। পুণরায় ঝাঁকুনি দিয়ে একই বাণী উচ্চারণ করবেন। তৃতীয়বার উচ্চারণ করবেন, আমিই মুহাইমিনুল আজিজুল জব্বারুল মুতাকাব্বির। তারপর বলবেন আজ রাজারা কোথায়? জালেমরা আজ কোথায়? অহঙ্কারীরা আজ কোথায়? আজ বাদশাহ কে? কোন জবাব নেই। অতঃপর আল্লাহ নিজেই বলবেন পরাক্রমশালী এক আল্লাহরই নিরঙ্কুশ রাজত্ব। (সুরা মু'মিনঃ ১৬)