3 Answers
আপনাকে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে ভালো একটা চাকরি করতে হবে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে প্রতিবেশীর সাথে ভালো আচরণ করতে হবে মা-বাবা আত্মীয়-স্বজন সকলের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে তাহলে দেখবেন ইনশাআল্লাহ আপনি একজন ভালো এবং ঈমানদার ব্যক্তি হতে পেরেছেন।
সমাজে মানুষর মত মানুষ হতে গেলে অবশ্যই তাকে এই ৬টি গুন অর্জন করতে হবে.....
১. কল্যাণকামী
একজন ভালো মানুষ যিনি কল্যাণকামী তিনি অবশ্যই কারো জন্য কখনো খারাপ কিছু ভাবতে বা করতে পারবেননা, তিনি কখনো স্বার্থপর হবেন না অন্য সবার মতো, একজন কল্যাণকামী মানুষ হওয়া অনেক বড় একটি প্রশংসা করার মতো যোগ্যতা, সবাই চাইলেই এমন হতে পারেন না, একজন কল্যাণকামী কাউকে সাহায্য করেন কারন কল্যাণকামী মানুষটি তাকে নিয়ে ভাবেন বা তাকে নিয়ে চিন্তা করেন, আজকের এই ব্যস্ততার যুগে কয়জন এমন করতে পারে? তিনি এখানেই অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলতে পারেন চেষ্টা করলে বা ইচ্ছা থাকলে, একজন কল্যাণকামী মানুষ তিনি শুধু পরিচিত মানুষকেই সাহায্য করেন না, যাদের তিনি চিনেন না তাদেরও অনেক সাহায্য করে থাকেন কোন কারন ছাড়াই বিভিন্ন সময়,একজন কল্যাণকামী মানুষের সেই ক্ষমতা আছে যাতে সে নিজের জীবনে ও অন্যের জীবনে পরিবর্তন ঘটাতে পারেন সঠিক কাজটি করার মাধ্যমের।
২. সহানুভূতিশীল
সহানুভূতিশীল হওয়া একজন মানুষের মৌলিক কিছু গুনের মধ্যে একটি। সহানুভূতিশীল হওয়া ছাড়া একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে মানুষ বলা যায় না আর আপনি যদি একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে দেখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একজন সহানুভূতিশীলতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। মানুষ এমনই ভাবে যে, তিনি যেমন ভাবেন তার মতো অন্য কেউও দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, অপ্রাপ্তি নিয়ে ঠিক একই রকম ভাববে বা তার দুঃখ বোঝার মতো সমাজে কাউকে পাওয়া যাবে। একজন সহানুভূতিশীল মানুষ মূলত অন্যের ব্যাথা বুঝার মতো যোগ্যতা রাখবেন এবং অন্যের কষ্ট অনুধাবন করতে পারবেন, যেভাবে পারেন তার কষ্ট দূর করতে না পারলেও তার প্রতি সহানুভুতুশিল হয়ে তার বিপদে হাত বাড়িয়ে তাকে ঐ সমস্যা থেকে বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন নিজের ইচ্ছাতেই। আসলে সহানুভূতিশীল হওয়া অর্থ হলো কারো সমস্যা বুঝতে পারা ও তার সমস্যা অনুধাবন করা এই দুইয়ের সমন্বয়। আবেগের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা এর মানে এই নয় যে শুধু বুঝতে পারা যে তিনি কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু তাকে এই মহাসমস্যা থেকে বের করে আনার কোণ চেষ্টাই তিনি করলেন না।
৩ . দায়িত্বশীল
দায়িত্বশীল পরিপক্বমানুষ তার নিজের কাজের দায়িত্ব নিজেই নিয়ে থাকেন, অর্থাৎ তার কোন কাজের জন্য অন্য কাউকে কখনো দোষ দেন না, তিনি যা করেন তার জন্য কথা শুনতে ভয় পান না আর নিজের দোষ কোনদিন কোন কারনে অন্যের ঘারে চাপান না। এবং বলেন যে ব্যাপারটা আসলে ইচ্ছাকৃত ছিল বা অনিচ্ছাকৃত ছিল, একজন দায়িত্বশীল মানুষ সবসময় যৌক্তিক হয়ে থাকেন আর তিনি যানেন যে কখন কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে,এমনকি তিনি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হয়ে থাকেন যাতে কোন ভুল না হয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল মানুষ সাধারণত সময় ব্যবস্থাপনায় খুব উদ্যোগী থাকেন, কারণ তিনি যে কাজ যে সময়ের মধ্যে করতে চেয়েছেন সে কাজটি ঠিক সময় মতো ও সঠিকভাবে সচেতনতার সাথে করতে পারেন। দায়িত্বশিল ব্যক্তিরা সকল তথ্য জেনে নেন আগে থেকেই যাতে তার কোন সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলতে না পারে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পড়াশুনাকেবা জ্ঞ্যান অর্জনকে খুব মূল্য দেন এবং সারা জীবন জ্ঞ্যান অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে যেতে পছন্দ করেন।
৪. সততা
একজন ভালো মানুষ সবসময় বিশ্বাস করেন যে সততাই সবচাইতে ভালো পন্থা জীবন যাপনের জন্য। যিনি ভালো মানুষ তিনি নিজের সাথে ও অন্যের সাথে সব সময় সৎ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে। যারা নিজেদের কাছে সৎ থাকেন তারা নিজেকেই সবার সামনে উদাহরন হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। সাধারন মানুষের মধ্যে অনেকেই নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব করে থাকে কিন্তু সৎ মানুষ নিজেকে কখনোই বড় ভাবেন না, নিজেকে খুব নগন্য মানুষই ভেবে থাকেন অন্য সবার তুলনায়।
৫. ন্যায়ের পথে চলা ও নীতিবান থাকা
একজন নীতিবান মানুষ যে কোণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় নীতির ক্ষেত্রে কোন আপোষ করেন না কারো সাথেই চাই সেটা তিনি নিজেই হোক বা অন্য কেউ হোক না কেন। নীতির ক্ষেত্রে অটল থাকলে কখনোই কেউ ব্যাক্তিগতভাবে পক্ষপাতিত্বের দোষে আক্রান্ত হবে না বা হওয়ার উপক্রম হবে না। এর মাধ্যমে কোন মানুষের নিরপেক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা সত্যিই আজকের পৃথিবীতে বিরল। একটি যোগ্যতা বলা যেতে পারে, নিরপেক্ষতা প্রমান করে যে আপনি নিজের জন্য ও সবার জন্য ভালো কিছু করছেন এবং করে এসেছেন, নিরপেক্ষতা প্রতিশ্রুতি ও প্রমান দেয় যে আপনি অবশ্যই একজন ভালো মানুষ হওয়ার মৌলিক নীতিগুলোর ব্যপারে বেশ শক্ত ও সচেষ্ট।
৬. নম্রতা
একজন ভালো মানুষকে অবশ্যই একজন ভদ্রও নম্র মানুষ হিসেবে সমাজের মানুষ জানবে ও চিনবে। নম্রতা হল এমন একটু গুণ যার মাধ্যমে আপনি কোন মানুষের দুর্বলতা দেখেও না দেখার ভান করে তার দুর্বলতাকে প্রকাশ না করে তার ভালো দিকটিই সবার সামনে প্রকাশ করবেন যাতে তার সন্মান বৃদ্ধির পায় অন্যদের মাঝে। নিজের গুণ মানুষের সামনে কম উপস্থাপন করবেন, তিনি সবসময় নিরহঙ্কার থাকবেন এবং জীবনের প্রত্যেকটি অংশে নিরহঙ্কারিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন। নিরহঙ্কার ঐ ব্যাক্তিকে বলে যিনি নিজের গুণের থেকে অন্যের গণ বা সুনাম করতে বেশি পছন্দ করেন এবং নিজের গুণের কথা যথাসম্ভব কমই বলেন জনসম্মুখে। যেমন নিরহঙ্কারী ব্যক্তি কোন ব্যাপারে ভালো হলে সেই ব্যাপারে অন্যদের ভালো হতে সাহায্য করে থাকেন যাতে তারা ও ঐ ব্যপারে ভালো হয়ে উঠেন ও এর জন্য কারো কাছে অসন্মানিত না হন সময়ে-অসময়ে।
সমাজের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে । বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে , ছোটদের স্নেহ করতে হবে । কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করতে হবে । আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে । সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে ।