7 Answers
এ বিষয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে।
সুপ্রসিদ্ধ কিতাব কাসাসুল আম্বিয়া (আল্লামা ইবনে কাসীর) এর ৬৭ নং পৃষ্ঠায় হযরত আদম(আঃ) এর হায়াত ৯৩০ বছর উল্লেখ করা হয়।
"নিয়ামুল কোরআন" কিতাবে দুই ধরণের মত পাওয়া গেছে, কেউ বলেছেন ৯৩০ বছর, আবার কেউ বলেছেন ৯৬০ বছর। মিশকাতেও একই কথা উল্লেখ আছে।
আবার কেউ কেউ এক হাজার বছরের রেফারেন্স দিয়ে থাকলেও তা যথেষ্ট দুর্বল।
১০০০ বছরের রেফারেন্সঃ- এখানে।
হযরত আদম (আঃ) ১০০০ বছর জীবিত ছিলেন।
হযরত আদম (আঃ) পৃথিবীর প্রথম নবী ও মানুষ ।আল্লাহ্ তাঁর পাঁজর থেকে হাওয়া (আ:) কে সৃষ্টি করেন ।আদম (আ:) দীর্ঘ ৯৬০ বছর বাচেঁন।
হযরত আদম(আঃ) কে এক হাজার বছর দেওয়া হয়েছিল ।রূহের জগতে হযরত দাঊদ (আঃ) এর সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধ হয়ে তিনি নিজের বছর থেকে ৪০ বছর তাঁকে দান করেন । ফলে অবশিষ্ট ৯৬০ বছর তিনি জীবিত ছিলেন ।
হযরত আদম (আঃ) এর মৃত্যু ও বয়স প্রসঙ্গেঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম দিন হল জুমআর দিন। এ দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
আদম (আঃ) কে এক হাজার বছর বয়স দেওয়া হয়েছিল। রূহের জগতে দাঊদ (আঃ) এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি নিজের বয়স থেকে ৪০ বছর তাকে দান করেন। ফলে অবশিষ্ট ৯৬০ বছর তিনি জীবিত ছিলেন।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তার পিঠ মাসেহ করলেন। এতে তার পিঠ থেকে তার সমস্ত সন্তান বের হলো, যাদের তিনি কিয়ামাত পর্যন্ত সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাদেরকে আদম (আঃ) এর সামনে পেশ করলেন। আদম (আঃ) বললেন হে প্ৰভু! এরা কারা?
আল্লাহ বললেন, এরা তোমার সন্তান। আদমের দৃষ্টি তার সন্তানদের একজনের উপর পড়লো যার দুই চোখের মাঝখানের ঔজ্জল্যে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, হে আমার প্রভু! ইনি কে?
আল্লাহ তাআলা বললেনঃ শেষ যামানার উম্মাতের অন্তর্গত তোমার সন্তানদের একজন। তার নাম দাউদ (আঃ)।
আদম (আঃ) বললেন, হে আমার রব! আপনি তার বয়স কত নির্ধারণ করেছেন?
আল্লাহ বললেন, ৬০ বছর। আদম (আঃ) বললেনঃ পরোয়ারদিগার! আমার বয়স থেকে ৪০ বছর (কেটে) তাকে দিন। আদম (আঃ) এর বয়স শেষ হয়ে গেলে তার নিকট মালাকুল মাওত এসে হাযির হন। আদম (আঃ) বললেনঃ আমার বয়সের কি আরো ৪০ বছর অবশিষ্ট নেই?
তিনি বললেন, আপনি কি তা আপনার সন্তান দাউদকে দান করেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদম (আঃ) অস্বীকার করলেন, তাই তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আদম (আঃ) ভুলে গিয়েছিলেন, ফলে তার সন্তানরাও ভুলে যায়। আদমের ক্রটি-বিচূতি হয়েছিল, তাই তার সন্তানদেরও ক্রটি-বিচূতি হয়ে থাকে।
রেফারেন্সঃসূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৬ সহীহঃ আয যিলাল ২০৬, তাখরীজুত তাহাবীয়াহ ২২০, ২২১।
মুওয়াত্ত্বা, আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৩৫৯; সনদ সহীহ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১১৮ সনদ সহীহ।
তিরমিযী হা/৩০৭৬ একই হাদীছ মিশকাত হা/৪৬৬২ যেখানে আদম তার বয়স থেকে ৬০ বছর দান করেন বলা হয়েছে। তিরমিযী হাদীছটিকে ‘হাসান গরীব’ বলেছেন ছাহেবে মিরক্বাত ও ছাহেবে তোহফা উভয়ে বলেন যে, ৪০ বছর দান করার হাদীস অগ্রগণ্য (الأرجح)।
-
হযরত আদম (আঃ) ৯৩০/৯৬০/১০০০ বছর বেঁচে ছিলেন। যেহেতু হযরত আদম (আঃ) পৃথিবীর প্রথম মানব ছিলেন। তাই হাজার হাজার বছর পর এসে ওনার হায়াৎ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তাঁর হায়াৎ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। ইসলামী কোনো বিষয়ে বিতর্ক তৈরি না করাই উত্তম। ৯৩০/৯৬০/১০০০ এই তিনটি মতের মধ্যে যার কাছে যেটি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়, সে সেটি গ্রহণ করবে। তবে মধ্যমপন্থা হিসেবে ৯৩০ আর ১০০০ এর মধ্যবর্তী ৯৬০ গ্রহণ করাই উত্তম। সুতরাং, হযরত আদম (আঃ) ৯৬০ বছর বেঁচে ছিলেন।
-
সূত্রঃ মুসলিম বিশ্বের ডায়েরী
-
(আবুল কালাম আজাদ)
-
ধন্যবাদ।