মুসলমানদের উপর অত্যাচার করতাছে বে ধর্মিরা?
2 Answers
এসব কিছু কিয়ামতের আলামত।পৃথিবীতে রাজত্ব করবে বে ধর্মিরা।দেশ শাসন করবে মহিলারা।পৃথিবীতে অল্প সংখ্যক আল্লাহ ভক্ত লোক থাকবে।তার পর মাহাদি (আ) এর সন্ধান মিলবে।এবং পৃথিবীতে ইসলামের জয় সংসংগঠিত হবে।এসব কিছু হওয়ার পর আবার পৃথিবীতে বে ধর্মিরা রাজত্ব করবে এমন এক সময় আল্লাহর নাম জপ করার মতো কেউ থাকবে না এবং পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
মুসলমান কেন নির্যাতিত হচ্ছে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী।
মুসলমানের রক্তে ভাসছে পুরো পৃথিবী। মুসলমানের মৃতদেহ নিয়ে উল্লাস করছে বিধর্মীরা। শিশু থেকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই নির্মম নির্যাতনের শিকার। নারীদের আর্ত চিৎকারে কেঁপে ওঠছে আকাশ-বাতাস। ফিলিস্তিন, কাশ্মির, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাকসহ সর্বত্র করুণ কান্না।
রাসুল সা. চৌদ্দশত বছর আগে বিধর্মীদের দ্বারা মুসলমানদের নির্যাতিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী ঘোষণা করে গেছেন। আজ তার ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুনানে আবু দাউদের একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, ‘তোমাদের ওপর এমন একটি সময় আসবে, তোমাদের বিরুদ্ধে সকল জাতি এমনভাবে ডাকবে, যেমনটি খাওয়ার দস্তরখানের দিকে লোকদের ডাকা হয়ে থাকে! এ কথা শোনে একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সে দিন কি আমাদের মুসলিমদের সংখ্যা কম হবে? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, না, সেদিন তোমরা সংখ্যায় কম হবে না। বরং তোমরা সেদিন আরো অনেক বেশি হবে।
তবে তোমরা বন্যার পানির উপরিভাগে ভাসমান খড়কুটার মত হবে। মহান আল্লাহ তোমাদের দুশমনদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন। আর তোমাদের অন্তরে ‘ওহান’ ঢেলে দেবেন। এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ওহান জিনিসটি কী? আল্লাহর রাসুল সা. বলেন, দুনিয়ার মহব্বত আর মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (সুনানে আবু দাউদ/ ৪২৯৭) উল্লেখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. মুসলমানদের নির্যাতিত ও লাঞ্চিত হওয়ার দু’টি কারণ উল্লেখ করেছেন। এ দু’টি কারণ বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলমানের মাঝে পাওয়া যায়। একটি হলো দুনিয়ার মহব্বত, আরেকটি হলো মৃত্যুর ভয়।
তারা দুনিয়ার মহব্বতে এমন পাগল যে, দুনিয়ার ধনসম্পদ ও সম্মান-মর্যাদা অর্জনে সদা ব্যস্ত থাকায় আল্লাহর হুকুম আহকাম পালনের প্রতি চরম উদাসীন। আর মৃত্যুর ভয়ে এমন ভীত যে জালিম কাফির মুশরিকদের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিহাদ করার সাহস পায় না। ঈমানদারগণ ঈমান গ্রহণের পর দুনিয়ার মোহে পড়ে সৎ আমল করতে অবহেলা না করলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে খিলাফত দান, ইসলাম প্রতিষ্ঠা এবং বিধর্মীদের অত্যাচার থেকে নিরাপত্তা দানের ওয়াদা করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের ওয়াদা দিয়েছেন, তাদের অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন।
তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য। (সুরা নুর : আয়াত ৫৫) আর মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে জিহাদ করা ব্যতিত কাফির বেঈমানদের অত্যাচার থেকে অসহায় মাজলুম মুসলমানদের রক্ষার কোন উপায় নেই। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। (সুরা নিসা: আয়াত ৭৫)
ইসলাম এক পূর্ণাঙ্গ দীন ব্যাবস্থা৷ ইসলাম'ই একমাত্র শান্তিও মুক্তির ধর্ম!আর একথা কাফের-মুশরীকরাও জানে৷ তাই এমন সুন্দর একটা দ্বীনের নেয়ামতের কারণেই ইসলামের দুশমনগুলো আজ মুসলমানদের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ অন্যদের কাছে ধর্ম নামে যা রয়েছে তার অসারতা তাদের কাছে লুকায়িত নয়। মানব জাতিকে পথ দেখানো এবং নৈতিক অবক্ষয় ক্ষেত্রে রক্ষা করার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা তাতে নেই। সে ব্যবস্থা একমাত্র ইসলামেই রয়েছে। ইসলামের কারণেই মুসলমানদের ব্যাপারে তাদের এত দুশমনি। এ বিষয়ে আল্লাহর কাছ থেকে শুনুন। আহলে কিতাবদের অনেকেই চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে দিতে। তাদের কাছে সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার পরও প্রতিহিংসা বশত: তারা এমনটি করে যাচ্ছে।.............’’(বাকারা-১০৯) আল্লাহ বলেন, তারা চায় তোমরা কাফির হয়ে যাও, যেভাবে তারা কাফির হয়ে গেছে, তাহলে তোমাদের আর তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। (আন নিসা -৮৯) এ অবস্থা শুধু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঘটেছে তাই নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সময় থেকে তা শুরু হয়েছে, দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘‘আর তারা সর্বদাই তোমাদের সাথে দনদ্ব কলহে থাকবে, যাতে করে তোমাদের দ্বীন থেকে সরিয়ে নিতে পারে, যদি তা সম্ভব হয়.......। (বাকারা-২১৭) কিন্তু আল্লাহ কি তাদেরকে সফল করবেন? আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তারা চায় মুখের ফুৎকার দিয়ে আল্লাহর আলোকে নিভিয়ে দিতে। আর আল্লাহ চান অবশ্যই তার আলো কুরআন তথা এর বৈশিষ্ট্যকে পূর্ণতায় পৌঁছিয়ে দিতে। তা কাফেরদের যতই অপছন্দ হোক।’’ (তাওবা-৩২) ইসলামের ব্যাপারে তারা যতই দুশমনি অব্যাহত রাখুক না কেন, ইসলামকে পর্যুদস্ত করতে তারা কখনো সফল হবে না। কারণ ইসলামের হেফাযতের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন,‘‘এ কুরআনকে আমি নাযিল করেছি। আমিই তার হেফাযত করবো।’’ -(হিজর-৯)এর বাস্তব প্রমাণ হলো দেড় হাজার বছর থেকে দুশমনদের পক্ষ থেকে ইসলাম বহুমুখী ও চরম আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ও তার চরিত্রে বৈশিষ্ট্যে এতটুকুন কলঙ্ক লেপন করতে তারা সক্ষম হয়নি। ইসলামের সুমহান বাণী আজও পর্যন্ত সাবলীল ও সতেজভাবে বহমান রয়েছে যেমনি ছিল স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে। শত অসৎ প্রচেষ্টার মোকাবিলায় দ্বীন ইসলামের সাবলীল নির্ভেজাল রূপকে ধরে রাখার জন্য একদল নিরলস কর্মী বাহিনীকে আল্লাহ সর্বদাই নিয়োজিত রাখছেন। তারা এ দ্বীনের রক্ষণাবেক্ষণে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেন। দুশমনের সকল চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন। মানুষের কাছে দ্বীনের সঠিক চিত্র উদ্ভাসিত করে তুলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের একটি অংশ সদা সর্বদা হক এর উপর এমন মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে যে, প্রতিপক্ষ তাদের সাথে যতই দুশমনী করুক না কেন, তাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আল্লাহর চূড়ান্ত সময় না আসা পর্যন্ত তারা কাজ চালিয়ে যেতেই থাকবে (বুখারী)
হায় আফসোস! নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা তো অনেক দূরের কথা তাদের আশ্রয় দিতেও বর্তমানে মুসলিমরা রাজি নয়। কোন মুসলমান রাষ্ট্র নির্যাতিতদের সাহায্যে তেমন জোরালোভাবে এগিয়ে আসছে না।তাই আজও আমরা মুক্ত হতে পারছি না!!দুনিয়ার লোভ আর মৃত্যু ভয় আমাদের ঈমানকে নড়বড় করে রেখেছে৷ আর এজন্য ই আমাদের এদশা,এ অবস্থা!!
কিন্তু একদল আছে,যারা গোপনে-প্রকাশ্যে করেই যাচ্ছে সংগ্রাম! আল্লাহ আমাকেও ঐদলের একজন বানান!(আমিন)