তালাক সম্পর্কে কোরআন ও হাদিস কি বলছে জানতে চাই?
1 Answers
পদ্ধতিগত দিক দিয়ে তালাক তিন প্রকারঃ ১। আহসান বা সর্বোত্তম তালাক। ২। হাসান বা উত্তম তালাক। ৩। বিদ'ই বা শরিয়া বিরূদ্ধ তালাক। কোরআন মোতাবেক তালাক দুই ধরণের। ১। তালাক-আল-রাজী। ২। তালাক-আল-বিদায়াহ। তালাক-আল-রাজী অর্থ প্রত্যাহার। যে তালাকগুলো প্রত্যাহারযোগ্য সেগুলোই আসলে তালাক-আল-রাজী। তালাক-আল- রাজী আবার দুই ধরণের। ১। তালাক-আল- আহসান। ২। তালাক-আল-হাসান। তালাক-আল-আহসান হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা, অখণ্ডনীয় এবং রাসুল (সাঃ) দ্বারা অনুমোদিত। তালাক-আল-আহসান – এ স্বামী এক তুহুরে একবার উচ্চারণ করে বলবে “আমি তোমাকে তালাক দিলাম” এবং ইদ্দতকাল অর্থাৎ ৯০ দিন পার হতে দিবে। ৯০ দিন পর তাদের তালাক কার্যকর হয়ে যাবে যদি এই সময়ের মধ্যে তারা সহবাসে না যায়। যদি সহবাসে যায় বা প্রত্যাহার করে তবে এই তালাক আর কার্যকর থাকবে না। তালাক-আল-হাসান হল উত্তম পন্থা। এর নিয়ম হচ্ছে স্বামী ৩ তুহুরে উচ্চারণ করে বলবে, “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”। এই সময়ে তারা সহবাসে যেতে পারবে না। এটি অপ্রত্যাহারযোগ্য। ৩ উচ্চারণের পূর্বে যদি সহবাসে যায় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। তালাক আল-বিদায়াহ হচ্ছে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। যখন তালাকদাতা একসাথে, এক বাক্যে ৩ তালাক দিয়ে দিবে এবং কোন ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষো করবে না সেটাই তালাক-আল-বিদায়াহ। সূরা আত-তালাক-এ আল্লাহ এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। হাদিসে এসেছে, মহানবী (সাঃ) এর কাছে এক মহিলা এরকম অভিযোগ নিয়ে আসে যে তার স্বামী তাকে তিন বার তালাক দিয়ে দিয়েছে যদিও সে এখন পবিত্র নয়। মহানবী (সাঃ) তার স্বামীকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে বললেন তার স্ত্রী কে গ্রহণ করতে এবং তুহুরে তাকে তালাক দিতে কারণ এই তালাক গ্রহণযোগ্য নয়। ইলাঃ ইলা হচ্ছে শপথ নেয়া যে সে তার সহধর্মীনীর সাথে ৪ মাস কোন সহবাসে যাবে না। শপথ করার ইদ্দতকাল পার হলেই তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। জাহিরঃ তালাকদাতা যখন বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ এমন কারো সাথে তার অর্ধাঙ্গীনীর তুলনা করে এবং এ কারণে যদি সহবাসে না যায় এবং প্রায়শ্চিত্ত না করে সেটা জাহির। সহবাসে না যাওয়ার ইদ্দতকাল পার হলেই তার মধ্যকার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। এই পদ্ধতি এখন আর প্রচলিত নয়। মুবারাতঃ মুবারাত হচ্ছে সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করা। যখন দুই পক্ষের কেউই এই বৈবাহিক সম্পর্কে খুশি না তখন তারা এই পদ্ধতিতে তাদের বিবাহ নিষ্পত্তি করতে পারে। এই ধরণের ডিভোর্স স্বামী বা স্ত্রী যে কেউই সূচনা করে থাকে। স্বামী ও স্ত্রী সম্মিলিত-ভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার উপর নির্ভর করে স্ত্রী তার স্বামীকে কোন বিনিময় দিবে নাকি দিবে না। হাদিসে এ ব্যাপারে এসেছে, দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রাঃ) এর কাছে এক দম্পতি আসে যে তারা আর একসাথে থাকতে পারছেন না। উমর (রাঃ) স্ত্রীকে এক নোংরা ঘরে তিন দিন এবং তিন রাত বন্ধ করে রাখলেন। তিন দিন পর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই কয়দিন তার কেমন লেগেছে। উত্তরে স্ত্রী বললেন, এই তিন দিন ছিল আল্লাহ্র রহমতে বিবাহের পর আমার জীবনের সবচেয়ে শান্তির রাত। এই কথা শোনার পর হযরত উমর (রাঃ) বুঝতে পেরেছেন যে তাদের মধ্যে বিদ্রোহের মাত্রা অনেক এবং তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy