নামাযের মধ্যে ইমামের পিছনে সুরা পড়তে হবে কী না ? একটু বিস্তারিত জানান?    
2622 views

2 Answers

ইমামের পিছনে ইক্তেদা করে নামাজ পড়লে আর নিজের কোনো সূরা পড়তে হয় না। রাসূল সা: বলেছেন, যার ইমাম আছে তার উপর কোনো কিরাআত নেই।

2622 views

নামাযে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে

অতিরিক্ত কোন সূরা না পড়লে নামায পূর্ণ হয়

না। কোন নামায শুদ্ধ হতে হলে সূরা ফাতিহা

পড়া আবশ্যক। সেই সাথে সূরা ফাতিহার পর

কুরআনের অন্য কোন সূরার কিছু আয়াত পড়াও

আবশ্যক।

হাদীসে পরিস্কার এসেছে-

ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ :

‏« ﻻَ ﺻَﻼَﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟﻜِﺘَﺎﺏ«ِ

উবাদা বিন সামেত রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেন, সূরা ফাতিহা না পড়লে

নামায হবে না। [বুখারী, হাদীস নং-৭৫৬]

ﺃَﻥَّ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓَ ﺑْﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ

ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﺄُﻡِّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ‏» ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎﻩُ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕُ ﺑْﻦُ

ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ، ﻭَﻋَﺒْﺪُ ﺑْﻦُ ﺣُﻤَﻴْﺪٍ، ﻗَﺎﻟَﺎ : ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣَﻌْﻤَﺮٌ، ﻋَﻦِ

ﺍﻟﺰُّﻫْﺮِﻱِّ، ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺈِﺳْﻨَﺎﺩِ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻭَﺯَﺍﺩَ ﻓَﺼَﺎﻋِﺪًﺍ

উবাদা বিন সামেত রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেন, সূরা ফাতিহা না পড়লে

নামায হবে না, [আরেক বর্ণনায় এসেছে] এবং

অতিরিক্ত সূরা না পড়লেও নামায হবে না।

[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৩৯৪]

উপরোক্ত দু’টি হাদীস দ্বারা আমাদের কাছে

পরিস্কার যে, সুরা ফাতিহা ও এর সাথে

অতিরিক্ত সূরা না মিলালে নামায পূর্ণ হয় না।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, ব্যক্তি যখন মুক্তাদী হয়,

তখনো কি তার নামায সূরা ফাতিহা এবং অন্য

সূরা সাথে না মিলালে তার নামায হবে না?

লা-মাযহাবীরা বলেন, মুক্তাদী সূরা ফাতিহা

না পড়লে তার নামায হবে না, কিন্তু মুক্তাদী

যদি সূরা ফাতিহার পর সূরা না মিলায় তাহলে

তার নামায হয়ে যাবে।তখন ইমাম যে সূরা

মিলাবে, তা মুক্তাদীর পক্ষ থেকে হয়ে যাবে।

আমরা বলি মুক্তাদীর কোন কিরাতই পড়তে হবে

না। কারণ ইমামের কিরাতই মুক্তাদীর কিরাত।

ইমাম সূরা ফাতিহার পর বাকি সূরা মিলালে

যেমন তা মুক্তাদীর পক্ষ থেকে হয়ে যায়,

তেমনি সূরা ফাতিহা পড়লেও তা মুক্তাদীর পক্ষ

থেকে হয়ে যাবে। মুক্তাদীর আলাদাভাবে সূরা

ফাতিহা ও পড়তে হবে না, সেই সাথে অতিরিক্ত

সূরাও মিলাতে হবে না।

কারণ তিলাওয়াত করলে পিছনে চুপ থাকার

নির্দেশ পবিত্র কুরআনে যেমন এসেছে, তেমনি

সহীহ হাদীসেও এসেছে। সেই সাথে ইমামের

সকল কিরাতই মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট হয় মর্মে

সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮٍ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ

ﺇِﻣَﺎﻡٌ، ﻓَﻘِﺮَﺍﺀَﺓُ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡِ ﻟَﻪُ ﻗِﺮَﺍﺀَﺓٌ »

হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ

ইরশাদ করেছেন, যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের

কিরাত মানেই হল তার কিরাত। {মুয়াত্তা

মালিক, হাদীস নং-১২৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস

নং-১৪৬৪৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৫০,

তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১২৯৪,মুজামে ইবনুল

আরাবী, হাদীস নং-১৭৫৫,সুনানে দারা কুতনী,

হাদীস নং-১২৩৩,মুসন্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস

নং-২৭৯৭,মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার,

হাদীসনং-৩৭৬৪, সুনানে কুবরা

লিলবায়হাকী,হাদীস নং-২৮৯৭, মুসন্নাফ ইবনে

আবীশাইবা, হাদীস নং-৩৭৭৯, মুসনাদে

আবীহানীফা, হাদীস নং-২৫}

#আহলে হক মিডিয়া

2622 views

Related Questions