ফিতরা কাকে দিবো?

বর্তমান সময়ে আমাদের এলাকাতে এমন কোন গরীব , ফকির-মিসকিন নেই যারা অনাহারে থাকে কিংবা ঈদের দিনের জন্য খাদ্য কিনতে না পারে ।  মোটামুটি সবাই স্বচ্ছল, গরীব হলেও খাদ্য কেনার মতো সামর্থ্য নেই এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর । শুধু আমাদের এলাকাতেই না । এমনটা বাংলাদেশ এর প্রায় প্রতিটা জায়গাতেই । আর আমাদের আত্মীয় স্বজনদের মাঝেও এমন গরীব নেই । কিন্তু ইসলামে তাদেরকেই ফিতরা দিতে বলা হয়েছে যারা গরিব, ফকির-মিসকিন । যারা অর্থাভাবে খাদ্য কিনতে পারেনা । তাই ইসলামে এই উত্তম ফায়সালা করে দিয়েছে যেন গরীবদের খাবার কিনে দিয়ে সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া যায় । এমতাবস্থায় কাকে ফিতরার খাদ্য প্রদান করা যায় । নিজের মন মতো উত্তর না দিয়ে অবশ্যই হাদিসের আলোকে দিবেন । 
2966 views

2 Answers

যে সমস্ত ব্যক্তিরা যাকাত খাওয়ার যোগ্য  আপনি তাদের কে ফিতরা দিতে পারবেন। আর যাকাত খাওয়ার যোগ্য তারাই যাদের নেসাব পরিমান মাল নেই। আল্লাহ বলেন, যাকাত তো কেবল ফকীর, মিসকীন, আমিলীন- যাকাত সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য ও যাদের চিত্তাকর্ষণ প্রয়োজন তাদের জন্য এবং তা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্থদের জন্য। আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। ( সূরা তাওরা: 60)

2966 views Answered

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি মুসলমানদের উপর সাদকাতুল ফিতর তথা ফিতরা ফরজ করেছেন। আর এই ফিতরা প্রদান করার বিশুদ্ধ খাত হচ্ছেঃ ফকীর ও মিসকীন। সাদকাতুল ফিতরাকে হাদীসে মিসকিনদের খাবার বলা হয়েছে। এজন্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া ইমাম শাওকানী (রহঃ) সহ কিছু আলেমগন বলেছেনঃ যেহেতু আল্লাহর নবী (সাঃ) হাদীসে শুধু মিসকিনদের কথা বলেছেন সুতরাং ফিতরা কেবল মিসকিনরাই পাবে। তবে কিছু তাত্ত্বিক আলিম বলেন যে, ফিতরার মাল কেবল ফকীর মিসকীনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না যাকাতের মত তা আটটি খাতে ব্যয় করা যাবে এ ব্যাপারে শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ উক্তি এই যে, ফিতরা ও যাকাতের মত আটটি খাতে ব্যয় করা ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) সহ সংখ্যাগরিষ্ট আলেমগনের মতে, যাকাত যে আটটি খাতে ব্যয় করা হয় ফিতরা-ও সেই আটটি খাতে ব্যয় করতে হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা হতে পবিত্রকরণ এবং মিসকীনদের জন্য খাদ্যের উৎস হিসেবে রোযা পালনকারীর উপর ফিতরা ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের আগে তা আদায় করবে তা কবুলযোগ্য ফিতরা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পর আদায় করবে সেটা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদঃ ১৬০৯) আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ সাদকা তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (আত-তাওবাহঃ ৬০) জনাব! আপনার এলাকায় এই আট খাতের লোক যদি নাই পাওয়া যায় তাহলে ইয়াতিম খানায় দিতে পারেন। মালিকীদের মতে কেবল ফকীর ও মিসকীনদের দেয়া জরুরী। যদি কোন জায়গায় ফকীর বা অভাবী না থাকে তাহলে ঐ জায়গায় নিকটবর্তী কোন এমন জায়গায় তা স্থানান্তরিত করতে হবে, যাতে করে ফিতরাও মাল কমে না যায়।

2966 views Answered

Next steps