শিশুর পস্রাব পাক নাপাক সম্পর্কে?

ছোট বাচ্চারা গায়ে পস্রাব করলে করনীয় কি??? সে অবস্থায় নামাজ আদায় করা সম্ভব??? 
2944 views

3 Answers

শিশু হোক আর বড় হোক প্রসাব নাপাক

2944 views Answered

সকল ইমামগণ এ ব্যাপারে একমত যে, যদি কোনো শিশু দুধ ব্যতীত অন্য কোনো খাবার গ্রহণ না করে, তবুও তার পেশাব নাপাক। তাই, আপনাকে শিশুর পেশাব ধৌত করে নামায পড়তে হবে।


তবে,  শিশুর পেশাব ধৌত করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ আছে। 

যদি মেয়ের পেশাব হয়, তাহলে সবার মতে ধৌত করতে হবে। আর, ছেলের পেশাব নিয়ে মতানৈক্য।

ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ (র) এর মতে, এ ক্ষেত্রে শুধু পানি ছিটালেই, যে কাপড়ে বা শরীরে লাগবে, তা পাক হয়ে যাবে।

আর, ইমাম আবু হানিফা ও মালিক (র) এর মতে, এ ক্ষেত্রে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক ধৌত ব্যতীত পবিত্র হবে না। তবে, ছেলের পেশাব হালকা ভাবে ধৌত করলেই পবিত্র হয়ে যাবে। আর মেয়ের পেশাবের ক্ষেত্রে পূর্ণরুপে ধৌত করতে হবে। যাইহোক,  ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, পেশাব লাগলে ধৌত করতে হবে।
2944 views Answered

এই মাসআলায় বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, শিশু যদি পুরুষ হয় এবং শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ তার খাদ্য হয়, তবে তার পেশাব হালকা নাপাক। এটাকে পবিত্র করার জন্য পানির ছিটা দেয়াই যথেষ্ট। অর্থাৎ হাতে পানি নিয়ে কাপড়ের উপর এমনভাবে ছিটিয়ে দিবে যাতে সম্পূর্ণ স্থানকে শামিল করে, ঘঁষতে হবে না এবং তাতে এত বেশী পরিমাণ পানি ঢালতে হবে না যে, চিপে পানি বের করতে হয়। এর কারণ হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে, একদা একটি শিশু পুত্র নিয়ে এসে তার কোলে রেখে দেয়া হল। সে পেশাব করে দিলে, তিনি পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তার উপর ছিটা দিলেন, কিন্তু তা ধৌত করলেন না। দুগ্ধপোষ্য শিশুর পেশাবে পানি ছিটানো প্রসঙ্গেঃ উম্মু কুইস বিনতু মিহসান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। সে তখনও শক্ত খাবার ধরেনি। বাচ্চাটি তার কোলে পেশাব করে দিল। তিনি পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা পেশাবের জায়গায় ছিটিয়ে দিলেন। (সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১ হাদিসের মানঃ সহিহ)। আর শিশু যদি কন্যা সন্তান হয়, তবে তার পেশাব অবশ্যই ধৌত করতে হবে। কেননা পেশাব মূলতঃ অপবিত্র। উহা ধৌত করা ওয়াজিব। কিন্তু শিশু পুত্রের পেশাব এর ব্যতীক্রম। কেননা সুন্নাতে নববীতে এর প্রমাণ বিদ্যমান। আবু ঈসা বলেনঃ একাধিক সাহাবা, তাবিঈ ও তাদের পরবর্তীগণ, যেমন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের মতে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছেলে হলে পেশাবের জায়গায় পানি ছিটিয়ে দিলেই চলবে, আর কন্যা সন্তান হলে ঐ জায়গা ধুয়ে নিতে হবে। এই বিধান কার্যকর হবে যতক্ষণ পর্যন্ত শিশু শক্ত খাবার না খায়, আর যখন শক্ত খাবার খেতে শুরু করবে তখন ছেলে-মেয়ে উভয়ের পেশাবের জায়গাই ধুয়ে নিতে হবে। জনাব! শিশুর পেশাব ধৌত করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ আছে। কেননা এটি একটি ইখতিলাফী মাসআলা। তাই এই অবস্থায় উক্ত যায়গা ধুয়ে নিয়ে নামাজ আদায় করাই উত্তম হবে। কেননা এতে সন্দেহ দূর হবে।

2944 views Answered

Related Questions

Next steps