হাইপোথাইরয়েডিজম রোগটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন?
2 Answers
আয়োডিনের অভাবই হাইপোথাইরয়েডিজমের সর্বপ্রধান কারণ। এমন একটি কারণ যা দূর করা কঠিন নয়। অথচ এখনো এই দূরণীয় কারণের প্রকোপ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ শিশুর মানসিক জড়তা ঘটিয়ে চলেছে। আয়োডিনের অভাবই প্রধান কারণ হলেও হাইপোথাইরয়েডিজমের একমাত্র কারণ নয়। নানান কারণে থাইরয়েড গ্রন্থিতে হর্মোন উৎপাদনের অভাব হতে পারে, যার পরিণাম সাময়িক অথবা স্থায়ী হতে পারে। যেমন হাইপারথাইরয়েডিজমের ট্রিটমেন্ট করবার সময় তেজস্ক্রীয় আয়োডিন-১৩১ প্রয়োগ করা হয় যা থাইরয়েড গ্রন্থিতে জমা হয় ও থাইরয়েড গ্রন্থির তীব্র ক্ষতি করে যার স্থায়ী ফল হিসাবে আয়াট্রোজেনিক (অর্থাৎ ঔষধজনিত বা চিকিৎসাঘটিত) হাইপোথাইরয়েডিজম ঘটে এবং তখন বাকী সারা জীবন এই রোগীদের থাইরয়েড হর্মোন ওষুধ হিসাবে খেতে হয়।
হাইপোথাইরয়েডিজ মমানুষ ও পশুর একটি রোগ যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদনের স্বল্পতার কারণে হয়ে থাকে। আয়োডিনের অভাবই হাইপোথাইরয়েডিজমের সর্বপ্রধান কারণ। আয়োডিনের স্বল্পতা ছাড়াও হাশিমোতোর থাইরয়েডিটিস বা থাইরয়েড গ্রন্থির এক প্রকার প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন), অথবা হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থির থেকে নিসৃত থাইরয়েড স্টিম্যুলেটিং হর্মোনের স্বল্পতাও এই রোগের কারণ হতে পারে। গর্ভধারণের সময় দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধির কারণে থাইরয়েড হর্মোনের প্রয়োজন এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে সাময়িক ভাবে থাইরয়েড হর্মোন কম পড়তে পারে যা জন্মদানের পর আপনি ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে কারো যদি আগে থেকেই মৃদু হাইপোথাইরয়েডিজম থাকে তাহলে তা আরো প্রকট হয়ে পড়তে পারে। পোস্টপার্টাম থাইরয়েডিটিজথেকেও হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। রোগের লক্ষণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমের নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায়। প্রাথমিক লক্ষণ *.ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, ঠাণ্ডার প্রতি স্পর্শকাতরতা বৃদ্ধি পায়। *.ওজনবৃদ্ধি, এমনকি কম খেলেও। *.শরীরে আন্তঃকোষীয় কলা বৃদ্ধি ওপানি জমাশুরু।*.ব্রাডিকার্ডিয়া(নাড়ির গতি হ্রাস পাওয়া—স্পন্দন মিনিটে ষাট বারেরও কম হয়) *.ঘামের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া *.ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া *.পেশিতে হালকা ব্যাথা বা ক্রাম্প - প্রধানতঃ মাসল হাইপোটোনিয়া বাশৈথিল্যেরকারণে। *.দৈহিক অবসাদ বা অস্বস্তি এবং সারা দেহে এবং অস্থিসন্ধিতে (অর্থাৎ গাঁটে) ব্যাথা । *.বিষণ্ণতাবা মানসিকঅবসাদগ্রস্থতাযাকে সিউডো-ডিপ্রেশন বলা হয়। *.গলগণ্ডথাকতে পারে, বা নাও থাকতে পারে। *.চিকন,ভঙ্গুর আঙ্গুলের নখ *.চিকন,ভঙ্গুর চুল, বেশীচুল পড়া। *.মলিনতা *.কোষ্ঠকাঠিন্য *.রজঃস্রাবপ্রাথমিক দশায় বৃদ্ধি পেতে পারে। বিলম্বিত লক্ষণ *.শরীরে আন্তঃকোষীয় কলা বৃদ্ধি ওপানি জমারজন্য এমনকিকার্পাল টানেল সিনড্রোমপর্যন্ত হতে পারে।*.মিক্সিডিমাঅর্থাৎ আন্তঃকোষীয় লসিকার মধ্যে শ্লেষ্মার মত (মিক্সয়েড) পদার্থ জমা হয়ে ইডিমা যার উপরে চাপ দিলেও তা সরে গিয়ে পিটিং বা গর্ত তৈরী হতে দেয় না। *.ত্বক শুষ্ক এবং ফুলে যায়, বিশেষ করে মুখ *.স্বরতন্ত্রীর স্ফীতির জন্য স্বর ভেঙে গিয়ে ভারি হয়ে যায়।*.চিন্তাধারার গতি স্লথ হয়ে যায়। *.দুই কারণেই কথা ধীরে ধীরে বলতে হয়। *.চোখের ভ্রু চিকন হতে শুরু করে এবং ভ্রর বাইরের অংশ প্রায় মুছে যায় (ম্যাডারোসিস)। *.রজঃচক্রঅনিয়মিত হয়ে পড়ে *.শরীর তাপমাত্রাহ্রাস পায়অ-সাধারণ লক্ষণাদি *.স্মৃতি শক্তির অবক্ষয় *.অমনোযোগ *.ধীরতর হৃদস্পন্দন *.টাক পড়া *.ত্বক বাদামী হওয়া *.ধীর স্নায়বিক রিফ্লেক্স *.গলধঃকরণের সমস্যা *.অস্থির মেজাজ *.যৌনউত্তেজনার হ্রাস *.ঘ্রাণশক্তির হ্রাস