বিষয় টা হচ্ছে---  আমাদের গ্রামে বা যে খানেই হো না কেন অনেক স্থানেেই  এরকম দেখা যাই যে-----জমি কটে নেওয়া---  নির্দিষ্ট মেয়াদে কোন ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে জমিটা কটে দেওয়া,,, হয়,,, এবং আবার টাকা ফিরিয়ে দিলে জমিটাও ফিরে পাই মালিক-----  এক্ষেত্রে যে জমি কটে নিচ্ছে  ,, বা যিনি দিচ্ছেন,,,,  ইসলামে কি এর কোন বিধান রয়েছে????  এটা কি সুদের মধ্যে গন্য হবে???   সঠিক ভাবে কেউ জানলে দলিল সহ জানাবেন প্লিজ--- অনেক উপকৃত হবো-----    জাযাকাল্লাহ হু খাইরান  । 
2705 views

1 Answers

জমি ভাগচাষে দেওয়া যা এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ ও অর্ধেক ফসলের শর্তে বর্গা চাষ করা জায়েয। এতে হারাম হবেনা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বর্গাচাষ প্রথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেননি। বরং তিনি পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। (সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৮৫ হাদিসের মানঃ সহিহ)। নবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহযোগিতা করতেন। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ ও অর্ধেক ফসলের শর্তে বর্গা চাষ করত। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তির নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা তা কাউকে দিয়ে দেয়। যদি তা না করে তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে। রবী ইবনু নাফি আবূ তাওবা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার নিকট জমি রয়েছে, সে যেন তা নিজে চাষ করে, অথবা তার ভাইকে দিয়ে দেয়, যদি এটাও না করতে চায়, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ২১৮৯ হাদিসের মানঃ সহিহ) গ্রাম-গঞ্জে অনেক সময় দেখা যায় যে জমি বন্ধক রাখা হয়। এই বন্ধক রেখে কিছু টাকা নেওয়া হয়। যাকে বন্ধক দেওয়া হয় সে হয়তো ওই জমিটা ভোগ করে। পরে যখন হাতে টাকা আসে তখন জমিটি আসল মালিক ছাড়িয়ে নেয়। এটার সাথে সুদের সম্পর্ক আছে। কেননা, জমি বন্ধক রাখা এটি সুদ কোনো সন্দেহ নেই। এটি সুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম। যে ঋণের মাধ্যমে মূলত যেকোনো ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকে, সেই ঋণ হারাম এবং সে কাজটি সুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, সেটি জায়েজ নেই। বন্ধকদাতা যতদিন টাকা পরিশোধ করতে পারবে না ততদিন বন্ধকী জমিন বন্ধক গ্রহীতা ভোগ করবে ও চাষাবাদের মাধ্যমে ফায়দা অর্জন করবে এ শর্তে জায়গা-জমি বন্ধক রাখা ও গ্রহণ করা ঈমানদারের জন্য হারাম ও মারাত্মক অপরাধ। যা বর্তমানে আমাদের দেশে রেওয়াজ ও প্রচলন হয়ে গেছে। জায়গা-জমিন বন্ধক রেখে নির্দিষ্ট অংক গ্রহণ করা ঋণ ও কর্জ গ্রহণ করার নামান্তর। আর উক্ত ঋণ বা কর্জের টাকা উসূল করার জন্য ঋণ গ্রহীতা হতে জায়গা-জমি বা অন্য কোন বস্তু বন্ধক রাখা হয়। এটাই বন্ধক রাখা বা বন্ধক গ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য, যা কিতাবুল হেদায়ার উদ্ধৃতিসহ ইলমূল হাদিস ও ইলমূল ফিকাহ এর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট। কর্জ বা ঋণ উসূল করার জন্য যে সব জায়গা-জমি বন্ধক গ্রহণ করা হয় তা হতে বন্ধক গ্রহীতার জন্য ফায়দা অর্জন করা নিঃসন্দেহে ইসলামী শরীয়তের বিধান মতে সুদ ও হারাম। যেমন হাদীস শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ অর্থাৎ প্রত্যেক ঋণ বা কর্জ যা হতে কর্জদাতা ফায়দা অর্জন করে তা সুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য যে, সুদী কারবার বা লেনদেন যারা করে এবং যারা এ জাতীয় লেনদেনে স্বাক্ষী হয় সকলে গুনাহের মধ্যে বরাবর। হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম সুদী কারবারে বা লেনদেনের সাথে জড়িত সকলের উপর লানত করেছেন। (সহীহ মুসলিম শরীফ)

2705 views

Related Questions