বর্ণনা করে বলবেন।বুঝিয়ে বলবেন
3871 views

1 Answers

আমরা লক্ষ্য করেছি যদি একটা শুকনা কিসমিসকে পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখি তাহলে সেটি ফুলে উঠে। এটি কিসমিস দ্বারা পানি শোষণের কারণে ঘটে এবং পানি শোষণ অভিস্রবণ দ্বারা ঘটে। অভিস্রবণও এক প্রকার ব্যাপন। অভিস্রবণ কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে এবং একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবণের সময় দুটি তরলকে পৃথক করে রাখে। কিসমিসের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা এখানে বুঝানো হলো।

আমরা জানি দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একত্র মিশ্রিত হলে স্বাভাবিক ভাবেই এদের মধ্যে ব্যাপন সংঘটিত হয়। লক্ষ করে দেখ কিসমিসের ভিতরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কিসমিসগুলো কুচকে গেছে। কিসমিস খেতে মিষ্টি লাগে কারণ কিসমিসের ভিতরে পানির অণুর ঘনত্ব খুবই কম এবং চিনির অণুর ঘনত্ব খুবই বেশি। এখন কিসমিসগুলো পানিতে রাখলে, নিয়ম অনুসারে চিনির (দ্রাব) অণু পানির (দ্রাবক) দিকে এবং পানির অণু চিনির দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু কিসমিসের ক্ষেত্রে তা ঘটছে না, কিসমিসটি শুধু পানি শোষণ করে ফুলে উঠছে। কারণ কিসমিসের ভিতরে চিনির একটি গাঢ় দ্রবণ একটি পর্দা দ্বারা পানি থেকে পৃথক হয়ে আছে। ফলে শুধু পানির অণু কিসমিসের অভ্যন্তরে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, কিন্তু চিনির অণু এই রকম পর্দা ভেদ করে বাইরে আসতে পারছে না। এ ধরনের পর্দাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। অর্থাৎ যে পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবক (পানি) শুকনা কিসমিস অভিস্রবণ দ্বারা পানি শোষণের ফলে কিসমিসগুলো স্ফীত হয়েছে


এটাই অভিস্রবণ বা অসমোসিস। তাহলে অভিস্রবণের সংজ্ঞা আমরা এভাবে দিতে পারি, একই দ্রাবক (পানি) বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের (অধিক পানি ) দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের (কম পানি) দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।

৮ম বি জ্ঞা ন বই


3871 views

Related Questions