4 Answers
মাসিক চলাকালীন সময় ও সাওম পালনরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া নিষিদ্ধ। তাছাড়া অার কোন বার বা সময় নিষিদ্ধ নয়।
কোন সময় স্ত্রী সহবাস করা একদম উচিত না
স্বামী স্ত্রীর পবিত্র মিলকে স্বর্গ সুখের সাথে তুলনা করা হয়েছে।স্ত্রী সহবাস করে স্বামী যেমন পরম তৃপ্তি লাভ করে তেমনি স্ত্রী ও পরম সুখ লাভ করে।তবে স্ত্রী সহবাস সব সময় করা ঠিক নয়।কারণ কি? হ্যা বেশ কিছু কারণ আছে ঐ সময়গুলোতে স্ত্রী সহবাস হতে পারে মারাক্তক ক্ষতি।
তাই ইসলামে সহবাসের কোন নিষিদ্ধ সময়
আছে কি? সে গুলো কি কি? উত্তম
সময় কখন ও কি কি বার?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জি সহবাসের নিষিদ্ধ সময় বা
দিনগুলি হচ্ছে মেয়েদের ঋতু
চলাকালীন অবস্থায়, রমযান মাসে
দিনের বেলা, ইতিকাফরত অবস্থায়,
হজ্জের বা উমারার ইহরাম করে
থাকলে তখন স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ।
এছাড়া আলাদা কোন দিন বা
সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই বরং এসব
নিয়ে অনেক কুসংস্কার আমাদের
সমাজে প্রচলিত আছে যে অমুক দিন,
অমুক সময় সহবাস করা যাবে না
ইত্যাদি যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
আর সব বিষয়ে আল্লাহই অধিক
জ্ঞাত।
ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন - বাংলাদেশ।
চন্দ্র মাসের 15,16 তারিখে শয়তানের প্রভাব বেশি,তাই এ তারিখে সহবাস করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত।(ফতুয়া)
ইসলামে যে সব সময়গুলোতে সহবাস করা নিষেধ কোরআনের আলোকে তা বর্ণনা করা হলো। (১) হায়েজ বা নেফাস চলাকালীন সময়ে। কোরআনে এসেছে, সূরা আল বাক্বারাহ:222 - আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। (২) হজ্ব বা উমরার ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব বা উমরা শেষ হওয়া পর্যন্ত। সূরা আল বাক্বারাহ:197 - হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই। (৩) রমজান মাসে দিনের বেলা।এবং ইতিকাফরত অবস্থায়। সূরা আল বাক্বারাহ:187 - রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।