এই রকম কেন হয় এটা কী কোন রোগ এর লক্ষণ?

আমি যখন ই কোন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত বা সামান্য চিন্তা বা টেনশন করি তখন ই আমার ব্লাড প্রেশার কমে যায় একে বারে লো হয়ে যায়।যার ফলে আমাকে স্যালাইন নিতে হয় বা হসপিটাল এ এডমিট হতে হয়। কিন্ত এটা কেন হয়...!?? আমার ব্লাড প্রেশার প্রায় সব সময় লো থাকে...!? এই গুলা কী বড় রোগ এর লক্ষণ। 
2715 views

1 Answers

Dr Md Billal Hossain
ভিডিও কল এ রোগী দেখার সময়ঃ-
প্রতি দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১ টা ও বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১২ টা চেম্বার এ রোগী দেখার সময়ঃ- .

অনেকের ধারণা যাঁদের স্বাস্থ্য দুর্বল তাঁরাই নিম্ন রক্তচাপে ভুগেন। চিকন বা মোটা যেকোন ব্যক্তির এ সমস্যা হতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে এ সমস্যা হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই এর কারণ,লক্ষণ ও করণীয় সন্মন্ধে।  


নিম্ন রক্তচাপের বা লো প্রেসারের কারণসমুহ


কোনো কারণে পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হলে।

অতিরিক্ত রক্তপাত বা রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে।

গর্ভকালীন সময়ে সময়মতো ও পরিমাণ মতো না খেলে।

থাইরয়েডের সমস্যার কারণে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে।

লিভারের অসুখ, হজমে দুর্বলতা, বাত, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদির কারণে।

মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার কারণে।

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম হলে।

কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা কোন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে।

নিম্ন রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ সমূহ:


লো ব্লাড-প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে মাথা ঘোরা ও চোখে ঘোলা দেখা।

শরীরে প্রচণ্ড দুর্বল লাগে এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠার প্রবনতা দেখা দেয়। বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে শরীরে ভারসাম্যহীনতা পরিলক্ষিত হয়।

শরীরের রক্তচাপ বেশী কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত এবং অক্সিজেনের অভাব হয়। ফলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রচণ্ড বুকে ব্যথার কারণে রোগী হঠাৎ জ্ঞান হারাতে পারে।

রোগীর অস্বাভাবিক দ্রুত হূৎস্পন্দন হতে পারে ও তাঁকে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে দেখা যায়।

অনিয়মিত হার্টবিট অর্থাৎ হার্টবিট রেট উঠানামা করতে পারে।

কোন নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা হতে পারে।

দীর্ঘদিন যাবত রোগী ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগতে পারে।

লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক কিছুপ্রাথমিক পদক্ষেপ:


ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন স্ট্রং কফি, হট চকোলেট ইত্যাদি দ্রুত ব্লাড প্রেশার বাড়াতে সাহায্য করে। তাই হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন।

লবণে সোডিয়াম থাকে যা রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম জাতীয় উপাদান দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে পুদিনাপাতা বেটে তাতে মধু মিশিয়ে পান করলে কাজে দেয় ৷

বিটের রস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এটি হাই ও লো প্রেশার- উভয়টির জন্য উপকারী। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে বিটের রস খাওয়া যেতে পারে।

নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়:


নিম্ন রক্তচাপের রোগীরা বেশী সময় একই স্থানে শুয়ে বা বসে থাকবেন না।

দীর্ঘক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার পর ওঠার সময় ধীরে ধীরে ও সাবধানে ঐ জায়গা থেকে উঠুন।

বেশি সময় খালি পেটে থাকলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তাই ঘন ঘন হালকা খাবার খান।

খাবার সাথে অতিরিক্ত এক চিমটি লবণ বেশী খান।

দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় গ্লুকোজ ও স্যালাইন রাখুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

উচ্চরক্তচাপের মতো নিম্ন রক্তচাপও শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তাই কারও সমস্যাটি থাকলে অবহেলা না করে যথাসময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরী। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করা উচিত।


এছাড়াও নিয়মিত পুষ্টিকার খাবার গ্রহণ করুন।

2715 views Answered

Related Questions

Next steps