2 Answers
ঈদে মীলাদুন্নবী নামে কোন ঈদ ইসলামী শরীয়তে নেই। বিস্তারিত জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন-
ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিধান
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, কল্যাণ ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবীজী মুহাম্মাদ(সঃ) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
কুরআন এবং সুন্নাহতে খুব স্পষ্টভাবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলী অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় ব্যাপারে নতুন কিছু সূচনা করাকে স্পষ্টত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
ভাবার্থ:
“বলুন [হে নবী]: যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১)
ভাবার্থ:
“তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে, তোমরা তার [কুরআন ও সুন্নাহ] অনুসরণ কর, আর তাঁকে [আল্লাহ] ছাড়া আর কোন আউলিয়ার [সেই সব সত্তা যারা আল্লাহর সাথে শরীক করার নির্দেশ দেয়] অনুসরণ করো না…” (সূরা আল আরাফ, ৭:৩)
ভাবার্থ:
“আর এটিই আমার সরল-সঠিক পথ, অতএব তোমরা এ পথেই চল এবং অন্যান্য পথে পরিচালিত হয়োনা, কেননা সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।…” (সূরা আল আনআম, ৬:১৫৩)
এবং নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“সবচেয়ে সত্য ভাষণ হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দিকনির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদের দিকনির্দেশনা, আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের ব্যাপারে) নব উদ্ভাবিত বিষয়।”
এবং তিনি(সঃ) বলেছেন:
“যে কেউই আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর কোন অংশ নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম শরীফে অপর এক রিওয়ায়াতে এসেছে:
“যে কেউই এমন কিছু করবে যা আমাদের এই দ্বীনের সাথে মেলে না, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”
মানুষ কর্তৃক উদ্ভাবিত এরূপ তিরস্কারযোগ্য নব উদ্ভাবনের মধ্যে একটি হচ্ছে রবিউল আউয়াল মাসে নবীজীর(সঃ) জন্মোৎসব বা মিলাদুন্নবী উদযাপন। লোকে বিভিন্নভাবে এই উপলক্ষকে উদযাপন করে থাকে:
কেউ কেউ এ উপলক্ষে জমায়েত হয়ে নবীজীর জন্মের ঘটনা আলোচনা করে এবং বক্তৃতা ও কাসীদা পড়ে থাকে।
কেউ বা মিষ্টি-খাবার প্রভৃতি তৈরী করে বিতরণ করে।
কেউ কেউ মসজিদে তা উদযাপন করে, কেউ বা উদযাপন করে বাড়িতে।
আর কেউ কেউ এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়ে এধরনের মজলিসে হারাম ও দূষণীয় কাজের সমাবেশ ঘটায়: যেমন নারী ও পুরুষের মেলামেশা, নাচ ও গান-বাজনা, এবং বিভিন্ন শিরকী কাজ যেমন নবীজীর সাহায্য চাওয়া, তাঁকে ডাকা এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি।
এই উদযাপনের প্রকৃতি যেমনই হোক না কেন আর পালনকারীদের নিয়ত যাই হোক না কেন, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে এই অনুষ্ঠান একধরনের বিদাত, মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা এই হারাম বিদাতের প্রচলন ঘটায় প্রথম তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর। এদের পরে সর্ব প্রথম এই মিলাদুন্নবী উদযাপন করে হিজরী ষষ্ঠ শতকের শেষে এবং সপ্তম শতকের প্রারম্ভে ইরবিলের সম্রাট আল-মুযাফফার আবু সাঈদ কাওকাবূরি – যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইবনে খালকান এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ। আবু শামা বলেন: মসুলে সর্বপ্রথম এটা চালু করেন শেখ উমার ইবনে মুহাম্মাদ আল মালা, যিনি ছিলেন একজন সুপরিচিত ধার্মিক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ইরবিলের সম্রাট এবং অন্যান্যরা তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে।
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে আল হাফিয ইবনে কাসীর আবু সাঈদ কাওকাবূরি সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেন:
“তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ উদযাপন করতেন এবং এ উপলক্ষে বিশাল উৎসবের আয়জন করতেন…”
ওয়াফিয়াত আল আ’য়ান গ্রন্থে ইবনে খালকান বলেন:
“সফর মাসের পয়লা তারিখ থেকেই তারা গম্বুজগুলোকে বিভিন্ন রকমের জমকালো সজ্জায় সজ্জিত করত, প্রতি গম্বুজেই গায়ক, পুতুল নাচিয়ে এবং বাদকদের একটি করে দল থাকত, এবং কোন গম্বুজই এ থেকে বাদ যেত না।
লোকেরা এসময় কাজকর্ম বাদ দিয়ে ঘুরেফিরে এই উৎসব দেখত। এমনিভাবে মিলাদের ঠিক দুইদিন আগে তারা অনেক উট, গরু ও ভেড়া নিয়ে আসত, যা বর্ণনাতীত, তারা ঢোল, সঙ্গীত এবং বাদ্যসহকারে এগুলোকে চত্বরে নিয়ে আসত…মিলাদের রাত্রিতে কবিদের নাশীদ পাঠ চলত রাজপ্রাসাদে।”
এই হচ্ছে মিলাদুন্নবী উদযাপনের উৎস। সামপ্রতিক কালে এই বিদাতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অনর্থক রং-তামাশা, অত্যধিক সাজসজ্জা এবং অর্থ ও সময়ের অপচয়, যে সম্পর্কে আল্লাহ পাক কোন হুকুমই নাযিল করেননি।
মুসলিমদের উচিৎ সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং এই বিদাতের পরিসমাপ্তি ঘটানো, যেকোন কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান না জানা পর্যন্ত তাদের উচিৎ নয় সেটা সম্পাদন করা।
মিলাদুন্নবী উদযাপন সংক্রান্ত শরীয়াতের বিধান
মিলাদুন্নবী উদযাপন হারাম এবং বেশ কয়েকটি কারণে পরিত্যাজ্য:
প্রথম কারণ:
এটি রাসূলুল্লাহ(সঃ) কিংবা তাঁর খলীফাদের সুন্নাত ছিল না। ফলে এটি একটি নিষিদ্ধ নব উদ্ভাবন, কেননা নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“আমি তোমাদেরকে আমার এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খলীফাদের অনুসরণের ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি; তোমরা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাক। [দ্বীনের মধ্যে] নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও, কেননা প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাত, এবং প্রতিটি বিদাতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।” (আহমাদ, তিরমিযী)
মিলাদুন্নবী একটি বিদাত যা মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা চালু করেছিল প্রথম তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর। কেউ যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে যা রাসূল(সঃ) করেননি কিংবা করতে বলেননি এবং তার উত্তরসূরী খলীফারাও করেন নি, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে সে দাবী করছে যে রাসূল(সঃ) মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ব্যাখ্যা করেননি [নাউযুবিল্লাহ], ফলে সে আল্লাহর এই আয়াতকে অস্বীকার করে:
“আজ আমি, তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম।” (সূরা আল মায়িদাহ, ৫:৩)
কারণ সে দ্বীনের মধ্যে বাড়তি কিছু সংযোজন করছে এবং দাবী করছে যে তা দ্বীনের অংশ অথচ রাসূল(সঃ) তা [আল্লাহর পক্ষ থেকে] নিয়ে আসেননি।
দ্বিতীয় কারণ:
মিলাদুন্নবী উদযাপনের দ্বারা খ্রীস্টানদের অনুসরণ করা হয়, কেননা তারা মসীহের(আঃ) জন্মদিন পালন করে। আর তাদের অনুসরণ করা চূড়ান্ত হারাম কাজ। হাদীসে আমাদেরকে কাফিরদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের থেকে ভিন্ন হতে আদেশ করা হয়েছে।
নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“যে কেউই কোন জাতির অনুসরণ করে, সে তাদেরই একজন হিসেবে পরিগণিত।”(আহমদ, আবু দাঊদ)
এবং তিনি বলেন:
“মুশরিকদের থেকে ভিন্ন হও।”(মুসলিম)
– বিশেষত এই নির্দেশ সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন এবং আচার অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত।
তৃতীয় কারণ:
বিদাত এবং খ্রীস্টানদের অনুসরণ করার মত হারাম কাজ হওয়া ছাড়াও মিলাদুন্নবী উদযাপন অতিরঞ্জন এবং নবীজীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ উন্মোচন করে, যা কিনা আল্লাহকে ডাকার পরিবর্তে নবীজীকে ডাকা এবং তাঁর সাহায্য চাওয়া পর্যন্ত রূপ নিতে পারে, যেমনটি বিদাতী এবং মিলাদ পালনকারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘটে থাকে, যখন তারা আল্লাহর পরিবর্তে রাসূলকে(সঃ) ডাকে, তাঁর সহযোগিতা চায় এবং “কাসীদায়ে বুরদা” জাতীয় শিরকপূর্ণ প্রশংসাসূচক কাসীদা আউড়ে থাকে। নবীজী(সঃ) তাঁর প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে বলেছেন:
“আমাকে এমনভাবে প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রীস্টানরা মরিয়মের পুত্রকে করে থাকে। কেননা আমি তাঁর বান্দাহ মাত্র। সুতরাং [আমার সম্পর্কে] বল: আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল।” (বুখারী)
অর্থাৎ খ্রীস্টানরা যেমন মসীহের(আঃ) প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিবর্তে তার ইবাদত করা শুরু করে দিয়েছে, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে তেমনটি করো না। আল্লাহ তাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে আয়াত নাযিল করেছেন:
ভাবার্থ
:“হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলো না। মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসা তো আল্লাহর রাসূল ও মরিয়মের নিকট প্রেরিত তাঁর বাণী ছাড়া আর কিছুই নন, এবং আল্লাহর সৃষ্টি করা এক রূহ।…” (সূরা আন নিসা, ৪:১৭১)
আমাদের নবীজী(সঃ) তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, পাছে না আমাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে, যা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাই তিনি(সঃ) বলেছেন:
“অতিরঞ্জনের ব্যাপারে সাবধান! কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা অতিরঞ্জনের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।” (নাসাঈ, আলবানী কর্তৃক সহীহ হিসেবে স্বীকৃত)
চতুর্থ কারণ:
মিলাদুন্নবীর এই বিদাত উদযাপন অন্যান্য বিদাতের দ্বারকে উন্মুক্ত করে এবং সুন্নাত থেকে বিমুখ করে দেয়। তাই বিদাতপন্থীদেরকে দেখা যায় বিদাতের ক্ষেত্রে খুব উৎসাহী আর সুন্নাত পালনের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা; তারা একে ঘৃণা করে এবং সুন্নাতের অনুসারীদেরকে শত্রুজ্ঞান করে, শেষ পর্যন্ত তাদের গোটা ধর্মই পরিণত হয় বাৎসরিক বিদাতী অনুষ্ঠানাদি এবং মিলাদের সমষ্টিতে। এভাবে তারা বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এবং সাহায্যের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে এইসব তথাকথিত বুজুর্গ ব্যক্তিদের ডাকে, তারা ধারণা করে যে এইসব ব্যক্তি উপকার কিংবা ক্ষতি বয়ে আনতে সক্ষম, এমনিভাবে তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে সরে গিয়ে জাহেলিয়াতের যুগের লোকেদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
ভাবার্থ:
“এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর উপাসনা করে যা তাদের কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না। তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।” (সূরা ইউনুস, ১০:১৮)
ভাবার্থ:
“…আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: আমরা তো এদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়…” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৩)
মিলাদুন্নবী বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবস পালন একটি বিদআত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা তাঁর সাহাবীগণ অথবা তাবেয়ীগণ হতে এই দিবস পালনের অনুমোদনমূলক কোন উদ্ধৃতি পাওয়া যায় না। বরং এর উদ্ভব করেছে- উবাইদি শাসকগণ 'এরা ফাতেমী নামে পরিচিত'। যারা আরো অনেক ভ্রান্ত আমল ও বিদআত চালু করেছিল।
প্রথমেই আমরা যদি নবীর মিলাদ বা জন্ম তারিখ নিয়ে পর্যালোচনা আসি- এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত কিনা? বিপরীত দিকে তাঁর মৃত্যু তারিখ নিয়েও পর্যালোচনা করি এ তারিখ সাব্যস্ত কিনা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়বান ব্যক্তির উত্তর হবে- নবীর জন্মতারিখ সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু নবীর মৃত্যুতারিখ সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। যদি আমরা সিরাত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করি তাহলে দেখব সিরাত লেখকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মতারিখের ব্যাপারে একাধিক অভিমত ব্যক্ত করেছেনঃ
১. সোমবার ২ রা, রবিউল আউয়াল।
২. ৮ই, রবিউল আউয়াল।
৩. ১০ই, রবিউল আউয়াল।
৪. ১২ই, রবিউল আউয়াল।
৫. যুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেনঃ তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।
যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ জানার উপর দ্বীনের কোন কিছু নির্ভর করত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন অথবা তিনি নিজেই তাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করতেন। অথচ এর কোনটি ঘটেনি।
পক্ষান্তরে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওউয়া সাল্লামের মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে কোন মতভেদ হয়নি। তাঁর মৃত্যু তারিখ হিজরী ১১ সালের ১২ই রবিউল আউয়াল।
এরপর আমরা যদি দেখি এ বিদআতপন্থী লোকগুলো কখন মিলাদুন্নবী নবীর জন্মবার্ষিকী পালন করে? তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন।
উবাইদি সম্প্রদায় যারা বংশ পরিচয়ে জালিয়াতি করে নিজেদেরকে ফাতেমা (রাঃ) এর সাথে সম্পৃক্ত করে ফাতেমী দাবী করে এভাবে এ কর্মের প্রচলন করে গেছেন এবং লোকেরা নির্বোধের মত এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। অথচ তারা ছিল জিন্দিক, নাস্তিক বা ধর্মত্যাগী সম্প্রদায়। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুতে ফুর্তি করার জন্য এমন একটি উপলক্ষের উদ্ভব করেছে। এর জন্য তারা জমায়েত হত এবং খুশি প্রকাশ করত। আর নির্বোধ মুসলমানদেরকে এভাবে ধোকা দিত যে, তাদের অনুকরণে এ অনুষ্ঠান করার মানে- নবীর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা। এভাবে তারা তাদের নিকৃষ্ট ও মন্দ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ও ভালবাসার অর্থকে বিকৃত করণে সফল হল। তাদের কাছে নবীর ভালবাসা হচ্ছে- মিলাদের কাসিদা পড়া, সিরনি ও মিষ্টি বিতরণ, বেপর্দাপনা, পাপাচার, বিভিন্ন বিদআতী দুআ ও শিরকী কথাবার্তা, যেগুলো মিলাদের মজলিসে বলা হয়ে থাকে।
এগুলো ইসলামি শরিয়তে নব-সংযোজন, যেগুলোর পক্ষে আল্লাহ তাআলা কোন দলিল-প্রমাণ নাযিল করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা নব-প্রচলিত বিষয় গুলো থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ প্রতিটি অভিনব বিষয়— বিদআত। আর প্রতিটি বিদআত হচ্ছে— ভ্রান্তি। (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযি)
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy