আমি এখন বিদেশ স্কলার শিপ পেতে চাই কি করলে আমি সহজেই স্কলারশিপ পাব?
1 Answers
স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাবেন তাদের বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে স্কলারশিপের মেয়াদ কত। সেটি নবায়ন করা যাবে কিনা। স্কলারশিপ যদি নবায়ন করাও যায় তবে তা কী ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে তা জানতে হবে। স্কলারশিপের অর্থে কী কী খরচ করা যাবে তা জেনে রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেখানকার জীবনযাত্রা কেমন ব্যয়বহুল এবং আপনার পক্ষে স্কলারশিপের অর্থে সবকিছু নির্বাহ করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না তা ভাবতে হবে ভালো করে। তবে অনেকেই আবার নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে পড়তেও পিছপা হন না। তাদের ক্ষেত্রে পছন্দের কোর্সটি সম্পন্ন করতে সর্বমোট কত খরচ হতে পারে এবং কীভাবে পরিশোধ করতে হবে সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সহজ একটি উপায় হতে পারে উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-মেইল করা। তারা ফিরতি মেইলে মোট খরচের একটি খসড়া হিসাব ও পরিশোধের পদ্ধতি জানিয়ে দেবে। হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে টিউশন ফি, আবাসন খরচ, খাবার খরচ, বইপত্র বাবদ খরচ, ইন্সু্যুরেন্স খরচ ইত্যাদি। খরচ কমানোর বিকল্প ব্যবস্থা অথবা সেমিস্টারের টিউশন ফিতে কিছুটা কমিশন পাওয়া যায় কিনা সেটার খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে না থেকে অনেকে আলাদা পরিবারের সঙ্গে থাকেন। এতে নির্ধারিত খরচের অনেকটায় কমে আসে। দেশটির জীবনযাত্রা কেমন ব্যয়বহুল এবং আপনার পক্ষে তা নির্বাহ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না জেনে নিতে হবে।
আপনি যখনই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দেশের বাইরে পড়তে যাবেন, তখনই মাথায় রাখতে হবে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আপনার অর্জিত সব সার্টিফিকেট আপনাকে শো করতে হবে। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে প্রথমেই একাডেমিক কাগজপত্রসহ যাবতীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত করতে হবে। এক্ষেত্রে সব ধরনের কাগজপত্র ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে বোর্ড বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার সনদপত্র বা নম্বরপত্রগুলো ইংরেজিতে প্রদান করা হয়। তবে এর মাঝেও যদি কোনো কাগজপত্র বাংলায় থাকে সেগুলো অবশ্যই ইংরেজিতে অনূদিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কাগজপত্রগুলো দুভাবে অনুবাদ করা যায়। বোর্ডের একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিয়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদপত্র ও নম্বরপত্রের অনুবাদ কপি তোলা যায়। এক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের মূলকপি বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। এটাই হচ্ছে সনদপত্র ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের উত্তম পদ্ধতি। তবে একটু সময় বেশি লাগলেও আপনি নোটারি পাবলিক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুবাদ করাতে পারেন। এক্ষেত্রে পূর্বের মূলকপি এবং অনুবাদকৃত কপি একসঙ্গে রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে যে ছবি এবং প্রয়োজনীয় সব ফটোকপি দেওয়া হবে তা অবশ্যই সত্যায়িত করে নিতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন সত্যায়িত ছাড়া এ ধরনের কাগজের কোনো মূল্যায়ন হয় না। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ শাখা থেকে সব কাগজপত্রের মূলকপি দেখানো সাপেক্ষে বিনামূল্যে সত্যায়িত করা যায়। এ ছাড়া নোটারি পাবলিক থেকেও সত্যায়িত করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে, দরকারি এসব কাগজের একটিও বাদ গেলে চলবে না।
বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ভেবে দেখুন আপনি কেন যেতে চান। নিজেকে বাছাই করা কিছু প্রশ্ন করে তার উপযুক্ত উত্তর দিন। তাতে কিছুটা সময় লাগলেও লাগতে পারে। মনে রাখা জরুরি, এই কারণগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। নতুন একটি সংস্কৃতি, নতুন ভাষা শেখা, নতুন জীবিকা নির্বাহ পদ্ধতি, নতুন জীবন পদ্ধতি কিংবা দেশের প্রচলিত পড়ালেখার বাইরে নিজেকে ভিন্নমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আগ্রহী। অথবা চাকরির বাজারে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি ডিগ্রি নিয়ে নিজের কদর বাড়াতে চান। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, সবকিছুই একটি নোট বইয়ে লিখে ফেলুন। তবে হ্যাঁ, উদ্দেশ্যগুলো অবশ্যই যেন সার্থক ও ইতিবাচক হয়। নিজের লক্ষ্য উদ্দেশ্য যত বেশি সচেতন ও উদ্যোগী হবে, বাস্তব জীবনে তত বেশি লাভবান হবেন। এ ধরনের মানবিকচর্চাও বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্রের জন্য নিজেকে সমৃদ্ধ করার পদ্ধতি হতে পারে। এ ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু কোর্স গ্রহণ। পেশাগত উন্নতির জন্য সহায়ক কোর্সের কোনো বিকল্প নেই। আপনি যে ধরনের পড়াশোনা করতে চাচ্ছেন সে ধরনের কিছু শর্ট কোর্সও করে নিতে পারেন আগেভাগে। কোন ধরনের পেশা আপনার জন্য উপযুক্ত তা খুঁজে বের করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পেশাগত সফলতা বা আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে সেই পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণও কম তাত্পর্যপূর্ণ নয়। তাই বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের যুগে উচ্চশিক্ষার অনেক কোর্সের মধ্যে আপনাকে এমন একটি সঠিক কোর্স বেছে নিতে হবে যা আপনার ভবিষ্যৎ পেশাগত দক্ষতার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আপনি একেবারে একটি নতুন বিষয়ও বেছে নিতে পারেন। আমাদের দেশে প্রচলিত নয় কিন্তু বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এবং চাহিদাসম্পন্ন এরকম কোনো বিষয়কেও আপনি পছন্দ করতে পারেন। তবে বিদেশের পাশাপাশি আমাদের দেশেও যথেষ্ট চাহিদা আছে এরকম কোনো কোর্সকে উচ্চশিক্ষায় নির্বাচন করাই শ্রেয়। আপনি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে পারেন। এ ছাড়া ওই কোর্সে পড়াশোনা করেছেন বা করছেন এরকম কোনো বিদেশি বা দেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ করে নিতে পারেন।
বিদেশে পড়ালেখার জন্য যখন আবেদন করবেন তখন অনেক ধরনের কাগজপত্র সোপর্দ করতে হবে তা মাথায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। একাডেমিক সনদপত্রের পাশাপাশি আপনাকে আরও কিছু সহায়ক সংযুক্তি রাখতে হবে। যেমন ভাষাগত দক্ষতার জন্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। আপনার পছন্দনীয় দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তানুযায়ী যে ভাষার দক্ষতা থাকতে বলা হবে সে ভাষায় দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ ভাষা শিক্ষা কোর্সের সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিন। ইংরেজিতে দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ IELTS ও TOFEL-এর সনদপত্রের সত্যায়িত কপি উপযুক্ত হবে। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার সনদপত্র লাগে না।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।