1 Answers
একজন দাঈ’র জন্য অপরিহার্য পূবা শর্তাবলী কী সে সম্পর্কে নিম্নে আলোকপাত করা হলো-
মহান আল্লাহ্র দীনের দাওয়াত দানকারী হিসাবে একজন দাঈকে এই দাঈ’র সঠিক মর্যাদা অনুধাবন করতে হবে। দীনের দাওয়াত দানকারীকে বুঝতে হবে যে এই দাওয়াত দানের কাজ করেছেন সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম (আঃ)। তাই আল্লাহ্র রাস্তায় আহ্বানকারীকে কিছু নির্দিষ্ট গুণাবলী অর্জন করতে হয় ।
*দাঈ’কে সর্বপ্রথম একজন ‘মুসলিম’ হতে হবে
*দাঈকে মুখলিছ তথা পরিশুদ্ধ নিয়তের অধিকারী হতে হবে।
*শারঈ জ্ঞানে পারদর্শী হওয়া : দ্বীনী ইলম ছাড়া জাতিকে পথ প্রদর্শনকরা সম্ভব নয়।
*আল্লাহ্র সাথে যথাযথ সম্পর্ক স্থাপনে প্রয়োজন মৌলিক ইবাদতসমূহে মনোযোগী হওয়া । যেমন : নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত।
*পরিবার গঠন : সফল দাঈ হচ্ছেন তিনি, যিনি তার নিকটাত্মীয়দের তথা পরিবারের সদস্যদের দীনের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
*আহূত ব্যক্তিদের সাথে বিনম্র ব্যবহার করা : দাঈর জন্য আবশ্যক হ’ল আহূত ব্যক্তির সাথে বিনীত ও নম্র ব্যবহার করা। কেননা দাঈর ইলম বা জ্ঞান ও বুঝার সামর্থ্য রয়েছে, যা আহূত ব্যক্তির নেই। সুতরাং দাঈর জন্য আবশ্যক হ’ল তিনি আহূত ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশায় তার নীতি-পদ্ধতিতে বিনম্র হবেন। আহূত ব্যক্তি যুবক, বৃদ্ধ স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, গরিব নিঃস্ব, যে কোন দল বা গোষ্ঠীরই হোক না কেন, তাদের সাথে বিনয়ী আচরণ করতে হবে।
*সঠিক সময় দান : নিশ্চয়ই দাঈ যখন বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্র দীনের প্রতি মানুষকে আহ্বান করা একটি সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব, একটি গৌরবময় ইবাদত এবং তাকে তার কর্মের ভিত্তিমূল ও মূল দায়িত্বে পরিণত করবে এবং তাকে নিজের উপর আবশ্যকীয় কাজ হিসাবে ফরয করে নিবে, তখন সে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার শক্তি-সামর্থ্য তথা তাওফীক্ব পাবে। তখন সে এ কাজকে অবসর সময় বা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ফেলে রাখবে না। আমরা যদি দাওয়াতকে আমাদের দিবা-রাত্রি বা দৈনন্দিন আবশ্যকীয় কাজের অন্তর্ভুক্ত করে নেই তাহ’লে ঐ কাজ করতে আমরা সমর্থ হব। এখানে দাওয়াত বলতে শুধু ভাষণ ও বক্তৃতা প্রদানকে বুঝাতে চাইনি; বরং দাওয়াতের সাথে পারস্পরিক সাক্ষাৎ, হাদিয়া, উপঢৌকন বিনিময় প্রভৃতিও অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ বলেন,
قُلْ هَـذِهِ سَبِيْلِيْ أَدْعُوْ إِلَى اللّهِ عَلَى بَصِيْرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِيْ ‘বলুন, এটাই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে’ (ইউসুফ ১২/১০৮)। ইত্যাদি, ইত্যাদি।