বুকে ও ঘাড়ে ব্যাথা করে কেন?
1 Answers
***বুকে ব্যথার কিছু কারণ| জেনে নিন|
১.বুকে ব্যথা:
বুকে ব্যথার প্রধান কারণ হল কার্ডিয়াক উৎপত্তি যা মেডিক্যাল ভাষায় 'এনজিনা' | গবেষণায় বলে, যে কোনো ব্যক্তি এনজিনাতে ভুগতে পারে, স্বল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য এবং তা নির্ভর করে তার হৃদরোগের ধরনের উপর| এই ক্ষেত্রে, বুকের ব্যথা কাঁধ অঞ্চলে অনুভূত হয় এবং এই ব্যথা হাত ও পা পর্যন্ত ছড়াতে পারে|
টেনশনের থেকে
অনেকেই এটি জানেন না যে টেনশনের থেকেও বুকে ব্যথা হতে পারে| যখন ধমনীতে রক্তচাপের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ফুসফুসে রক্ত বহন করে, এটা বুকের ব্যথার কারণ হতে পারে|
২.অম্লতা:
গ্যাস্ট্রোফাগিয়েল রিফ্লাক্স ডিজিজ, GERD নামেও পরিচিত, বুকে ব্যথার আরেকটি কারণ| অম্লতা বা বুকে জ্বালা কিছু সাধারণ কারণ| এর সাথে বারংবার ঢেঁকুর তোলা, বুক ভার ও কাঁধ অঞ্চলে ব্যথা অনুভবও হতে পারে|
৩.ফুসফুসের সমস্যা:
আমাদের মনে হয়তো এটা আসেই না যে ফুসফুসের সমস্যায় বুকে ব্যথা হতে পারে কিন্তু আসলে ফুসফুসের অদ্ভুত অস্বাভাবিকতা বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে| পালমোনারি এম্বোলিজম একটি ফুসফুসের ব্যাধি যেখানে ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধে, ফুসফুসের টিস্যুতে রক্ত প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করে এবং এইভাবে বুকের ব্যথা ঘটায়|
৪.চাপ:
চাপ হল অন্তর্নিহিত সমস্যা ও বুকে ব্যথার জন্য আর একটি কারণ| যখন শরীর চাপের মধ্যে থাকে, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, এবং রক্তচাপ দ্রুত হয় যা সংবহনতন্ত্র প্রভাবিত করে, ফলে বুকে ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়|
৫.ডিপ্রেশন:
ডিপ্রেশন এক ব্যক্তির জীবনে প্রচুর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষভাবে হৃদয়ের ওপর| আপনি যখন বিষন্ন বোধ করেন হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়, যার ফলে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব হতে পারে|
৬.ইনজুরির কারণে
পাঁজরে, পেশী বা বক্ষ প্রাচীরে আঘাত, বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে| এই ধরনের বুকে ব্যথা সাধারণত স্থির হয়ে থাকে যা ওষুধের মাধ্যমে সরিয়ে তোলা যেতে পারে|
৭.দেহের পরিশ্রম:
শরীর যখন বিপাকীয় প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায়্ না, পেশী এবং অঙ্গের উপর পরিশ্রমের প্রতিফলন ঘটে| এই পরিশ্রম বুকের অঞ্চলে প্রভাব ফেলে বুকের ব্যথার কারণ হয়ে ওঠে| পরিশ্রম, বুকে ব্যথার অন্যতম কারণ এবং সঠিক বিশ্রাম গ্রহণ করে এর চিকিৎসা করা উচিত।
★★ঘাড় ব্যথার কারণ:
ঘাড় ব্যথার নানাবিধ কারণ রয়েছে। যেমন -রোগীর ঘাড়ের অস্বাভাবিক অবস্থান যেটা হতে পারে কম্পিউটিং এর সময়, টেলিভিশন দেখার সময়, খেলাধুলা বা শখের কাজের সময়, শোয়ার সময় বালিশের ভুল ব্যবহার, অনেক সময় ঘাড়ে আঘাত পেলে, মাংসপেশী হঠাৎ ছিড়ে গেলে বা মচকে গেলে, সারভাইকাল স্পনডাইলোসিস,বা ঘাড়ের হাড়ের বা ডিস্কের সমস্যা, স্পাইনাল ক্যানেল স্টেনোসিস, সারভাইকাল স্পনডাইলোলিসথেসিস, সারভাইকাল রিব, সারভাইকাল ফ্যাসেট জয়েন্ট সিনড্রম, অ্যাকুয়াট টরটিকলিস, ভারটিবেরাল অ্যাট্যারি ইন সাফেসিয়েন্সি, নিউরাইটিস, বোন টি-বি, ঘাড়ে আঘাত বা ট্রমা, ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে গেলে, মাংসপেশীর সংকোচন ইত্যাদি ।