আমরা যারা বাংলাদেশী, তারা কি সবাই একসাথে গাইতে পারবো, 'আমার সোনার বাংলাদেশ, আমি তোমায় ভালোবাসি'?
'জাতীয়' এবং 'বিজাতীয়' বলতে কি বুঝ? 'জাতীয়তা' এবং 'জাতীয় বিষয়াবলী' কি?
কিভাবে কোনো দেশের জাতীয় বিষয়াবলী নির্বাচন করা হয়?
ভারতের কোনো নাগরিক কি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ ছাড়াই বাংলাদেশের জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পারে? যতক্ষণ না পর্যন্ত সে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তো তার জাতীয়তা ভারতীয়, বাংলাদেশী না। তাহলে, বাংলাদেশী না হয়েও কি কোনো ভারতীয়, ব্রিটিশ, আমেরিকান বাংলাদেশের জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পারে? অথবা তাদের কোনো লেখা বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলীতে যোগ হতে পারে? কোনো দেশের জাতীয় বিষয়াবলী তো সে দেশের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়, সেই দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সেই দেশের নিজস্ব নাগরিক বা ব্যক্তিত্ব, সেই দেশের নিজস্ব নাগরিক বা ব্যক্তিদের লেখা? অন্য দেশের নাগরিক বা তাদের লেখা জাতীয় পরিচয় বহন করে না। কেননা, তারা আমাদের জাতীয় না, তারা বিজাতীয়। দেশের ভেতরের হলে, তা জাতীয় এবং দেশের বাইরের হলে, তা বিজাতীয়। বিজাতীয় ব্যক্তি, বিজাতীয় ব্যক্তিদের লেখা গান-কবিতা-সঙ্গীত, বিজাতীয় সংস্কৃতি কখনো জাতীয় ব্যক্তি, জাতীয় গান-কবিতা-সঙ্গীত বা জাতীয় সংস্কৃতি হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, বিশ্বকবি, বিশ্বলেখক, বিশ্বগায়ক হলেও কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব অর্জন ব্যতিত, সে দেশের জাতীয় বা জাতীয়তার অধিকারী হতে পারে না। কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের কবি ছিলেন, তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে, তারপর বাংলাদেশের জাতীয় কবি বানানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে তিনি ভারতীয় বা বিজাতীয় ছিলেন, পরে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশী বা এ দেশের জাতীয় পরিচয় বহন করেছেন। তাই তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি বানানো সম্ভব হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন নি। তাঁর জাতীয়তা বাংলাদেশী না, তিনি ভারতীয়। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় বহন করেন না, ভারতের নাগরিক হওয়ার কারনে ভারতের জাতীয় পরিচয় বহন করেন। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত তাঁর লেখা হতেই পারে, কারণ তিনি ভারতীয় বা সে দেশের নিজস্ব সম্পদ বা ব্যক্তি। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত, নিজস্ব জাতি, জাতীয় বা জাতীয়তার দিকে লক্ষ না রেখে, শুধুমাত্র বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতকে খুশি করার জন্য অসতর্কভাবে, জাতীয়তার বাইরে গিয়ে, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে, বিজাতীয়তাকে আঁকড়ে ধরে করা হয়েছে। আবেগ দিয়ে সব হয় না। আমাদের বর্তমান জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে আমরা কেবল রবীন্দ্রনাথের সোনার পশ্চিম বাংলাকেই ভালোবাসছি, সোনার বাংলাদেশকে নয়। কারন, রবীন্দ্রনাথের যখন মৃত্যু হয়, তখন সোনার বাংলাদেশেরই জন্ম হয়নি। তাহলে মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' লিখলেন কিভাবে? আসলে তিনি তাঁর গানে সোনার পশ্চিম বাংলা বা ভারত বন্দনাই গেয়েছেন। তাঁর লেখা এই সঙ্গীতটি এ দেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হয়ে গেছে বিধায় আমরা গাইতে গাইতে এটিকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি, যে কারনে এটাকে বিজাতীয় বললে খারাপ লাগে, আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। কিন্তু আসলেও কি আমরা ঠিক করছি? কবে আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে পশ্চিম বাংলা বা ভারত বন্দনা ছেড়ে, বাংলাদেশ বন্দনা শুরু করবো? কবে আমরা আবেগকে ছেড়ে সত্যকে আঁকড়ে ধরবো? কবে আমরা 'আমার সোনার (পশ্চিম) বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' বাদ দিয়ে গাইবো, 'আমার সোনার বাংলাদেশ, আমি তোমায় ভালোবাসি'?
2984 views
1 Answers
আমরা যারা বাংলাদেশি তারা সবাই একসাথে গাইতে পারবো "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি"
2984 views
Answered
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy