ট্যাটু করেছি ইসলামের এই সম্পর্কিত নীতিমালা না জেনে,এখন আমি কি করতে পারি?
5 Answers
নবী (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে উমার (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে নারী পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে নারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি বা ট্যাটু আঁকে বা আঁকতে বলে তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। (সহীহ বুখারী) এমন আরও একটি হাদিস মুসলিম শরীফে এসেছে যেটা হজরত আল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া স্বাভাবিক শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে শরীরে সৌন্দর্য সৃষ্টি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। যেমন, অনেকে আলাদা চুল লাগায়, ভ্রু কেটে ফেলে কিংবা শরীরে ট্যাটু লাগায় ইত্যাদি সকল কাজই ইসলামে নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামোয়। (সূরা-তীন, আয়াত-৪) মানুষকে সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করা হয়েছে, এ কথার মানে হচ্ছে এই যে তাকে, এমন উন্নত পর্যায়ের দৈহিক সৌন্দর্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোনো প্রাণীকে দেয়া হয়নি। তাকে এমন উন্নত পর্যায়ের চিন্তা ,উপলদ্ধি জ্ঞান ও বুদ্ধি দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেয়া হয়নি। তারপর যেহেতু নবীগণই হচ্ছেন মানব জাতির প্রতি এই অনুগ্রহ ও পূর্ণতাগুণের সবচেয়ে উন্নত পর্যায়ের নমুনা এবং মহান আল্লাহ তার সৃষ্টিকে নবুওয়াত দান করার জন্য নির্বাচিত করে নিয়েছেন তার জন্য এর চাইতে বড় মর্যাদা আর কিছুই হতে পারে না, তাই মানুষের সর্বোত্তম কাঠামোর সৃষ্টি হবার প্রমাণ স্বরূপ আল্লাহর নবীদের সাথে সম্পর্কিত স্থানসমূহের কসম খাওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, যখন আল্লাহ ও তার রসূল কোনো বিষয়ের ফায়সালা দিয়ে দেন তখন কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সেই ব্যাপারে নিজে ফায়সালা করার কোনো অধিকার নেই। আর যে কেউ আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়। (সূরা-আহযাব, আয়াত-৩৬) সুতরাং মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা.) আদেশ পালন করা। আর আমাদের রাসূল (সা.) যেহেতু আমাদেরকে ট্যাটু লাগাতে নিষেধ করেন তাই আমাদেরকে অবশ্যই ট্যাটু লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন
ইসলামে বলা আছে যে আমাদের দেহকে কোনোভাবে বিকৃত করা হারাম | ট্যাটু permanent হলেও তা তুলে ফেলা যায়
ট্যাটু আঁকা ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম কাজ। হারাম কাজ করলে গুনা হয়। তবে সে গুনাহ মোচনের ব্যবস্থাও রয়েছে। আল্লাহর নিকট কায়মনোবক্যে তাওবা করা হলে আল্লাহ সে গুনা ক্ষমা করে দেন। সুতরাং এ মুহূর্তে আপনার করণীয় হলো, যদি ক্ষত সৃষ্টি না করে সহজভাবে ট্যাটু তুলে ফেলা সম্ভব হয় তাহলে তুলে ফেলুন। অপারেশন কিংবা এ জাতীয় উপায় অবলম্বন করে ট্যাটু তোলার প্রয়োজন নেই। মানুষের দৃষ্টিগোচর না হয় সেভাবে উপর দিয়ে কোনো কিছুর প্রলেপ দিয়ে দিন। আর আল্লাহর নিকট এ গুনাহের জন্য তাওবা করুন। আশা করা যায় আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন।