2 Answers
http://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/fahimhasan2015/30101873 এই লিংকে আপনার উত্তর পাবেন আশা করি।
মতবৈচিত্র মানুষের একটি স্বভাবজাত চরিত্র। পৃথিবীতে সর্বদিক বিবেচনায় মতৈক্যপূর্ণ বিষয়ের উপস্থিতি নিতান্তই বিরল। সহজাতিক এ বিষয়টি জাগতিক অঙ্গন ছাপিয়ে ধর্মীয় অঙ্গনেও সমানভাবে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞানবৈচিত্র, মতবৈচিত্র এবং বিবেক ও রুচিবৈচিত্র দিয়েই মানব জাতিকে সৃজন করেছেন। সৃষ্টিগত এ প্রাকৃতিক প্রবাহকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ধর্মীয় অঙ্গনে মতবিচিত্রা ও মতস্বাতন্ত্র্য গ্রহণ-বর্জনের স্বীকৃত কিছু নীতি রয়েছে। মূলগত বিষয়ে মতবৈচিত্র ও মতভিন্নতার ক্ষেত্রে শিথিলতা ও উদারনীতি গ্রহণের অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কুরআন-হাদীস আশ্রিত মতটিই প্রবলভাবে প্রাধান্য লাভ করবে। বিপরীত মতটিকে সাহসিকতার সাথেই ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নমনীয়তার কোনোই ফাঁক-ফোকড় নেই। পক্ষান্তরে শাখাগত বিষয়ে উদারনৈতিক মনোভাব ব্যক্ত করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। বরং এক্ষেত্রে কাঠিন্য-নীতি পরিহারপূর্বক শৈথিল্য-নীতি গ্রহণই ইসলামী শরীয়তের রুচিসঙ্গত নির্দেশনা। ধর্মীয় বিষয়ে মতবৈচিত্রের এ ধারা সাহাবায়ে কেরামের মাঝেও বিদ্যমান ছিলো। এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে এ রূপ মতভিন্নতা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় মতকেই যথার্থ গণ্য করেছেন। বস্তুত একান্ত স্বভাবজাত এ মতবৈচিত্রকে কেন্দ্র করেই চার মাজহাবের সৃষ্টি। মূলত মাজহাব চারটি ছিলো না। আরো অনেক ছিলো। কিন্তু সেগুলোর কোনো লিখিত রূপ অবশিষ্ট ছিলো না। এ চারটি মাজহাবেরই লিখিত রূপ অবশিষ্ট থেকে যায়। ফলে এ চারটি মাজহাব প্রশিদ্ধ লাভ করে। দেখুন, যারা এক আল্লাহ, এক রাসূল এক দীন বলে মাজহাবের উপর আপত্তি তুলতে চায় তাদের মাঝে কি মতভিন্নতা নেই ? অসংখ্য মতভিন্নতা তাদের মাঝে বিদ্যমান। এমন কি তাদের এক পক্ষ অপর পক্ষকে কাফের বলার মত ঘোষণাও শোনা গিয়েছে। এবং এ নিয়ে স্বতন্ত্র বইও হয়েছে। কুরআন সুন্নাহকে সামনে রেখে ইজতিহাদ বা বিধি অনুসন্ধানে বিচ্যুতিও ঘটে গেলে হাদীসের ভাষ্য মতে তাতেও প্রতিদান মিলবে। সুতরাং শাখাগত বিষয়ে মতভিন্নতা জটিল কোনো বিষয় নয়। তবে এটা সত্য আপন স্বার্থসিদ্ধি কিংবা নিজের মতকে শ্রেষ্ঠ ও একমাত্র বিশুদ্ধ করার চিন্তা থেকে যদি মতভিন্নতা সৃষ্টি করা হয় তাহলে সেটা হবে নিন্দিত মতভিন্নতা। পক্ষান্তরে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, দীনে ইসলামের উন্নতি সাধনের পবিত্র লক্ষে যদি মতভিন্নত সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা হবে নন্দিত মতভিন্নতা।