2 Answers
মৃত ব্যক্তির নামে বলতে মৃত ব্যাক্তির পক্ষ হতে তার আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে দোয়া পাঠ, দান করা বা খাওয়ার আয়োজন করা যাবে তবে সেখানে যাতে গরীব অসহায় মানুষ প্রধান্য পায় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন।
মৃতব্যক্তির জন্য দুআ ও সাদকায়ে জারিয়া সুন্নাত। খাওয়ার অনুষ্ঠান করা সুন্নাত বহির্ভূত কর্ম। এরূপ কর্ম করে সাওয়াব পাওয়ার চেষ্টা করার অর্থ মুমিন সুন্নাত পদ্ধতিকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের হাজার হাজার আপনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। কথনোই তাঁরা খাওয়ার অনুষ্ঠান জাতীয় কিছুই করেন নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর মৃত্যুর পরে তার সন্তানগণ, সাহাবীগণ, খলীফাগণ কেউ কখনোই এরূপ কর্ম করেন নি। পারসিয়ান ও ভারতীয় ধর্মের সংস্পর্শে আসার আগে মুসলিমগণ কখনোই এ সকল কর্ম করেন নি। রাসূলুল্লাহ সা., তাঁর সহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খানাপিনার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺟَﺎﺅُﻭ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻹِﺧْﻮَﺍﻧِﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺳَﺒَﻘُﻮﻧَﺎ ﺑِﺎﻹِﻳﻤَﺎﻥِ ﻭَﻻ ﺗَﺠْﻌَﻞْ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻨَﺎ ﻏِﻼًّ ﻟِّﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺭَﺅُﻭﻑٌ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি ¯েœহশীল দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন, ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠﻴْﻪِ ﻭﺳَﻠَّﻢَ ﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﺧَﺮَﺟُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﻘَﺎﺑِﺮِ ، ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺎﺋِﻠُﻬُﻢْ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺪِّﻳَﺎﺭِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻜُﻢْ ﻻَﺣِﻘُﻮﻥَ ، ﻧَﺴْﺄَﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ﺇﺫﺍ ﻣﺎﺕ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﻘﻄﻊ ﻋﻨﻪ ﻋﻤﻠﻪ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺛﻼﺛﺔ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺻﺪﻗﺔ ﺟﺎﺭﻳﺔ ﺃﻭ ﻋﻠﻢ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻪ ﺃﻭ ﻭﻟﺪ ﺻﺎﻟﺢ ﻳﺪﻋﻮ ﻟﻪ যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy