দুধ ও ডিম কি কাঁচা খেলে কোন উপকার হয়?

দুধ ও ডিম কাঁচা খেলে কোন উপকারে আসে? নাকি এর বিপরিত হয়?? এবং দুধে চিনি দিয়ে খেলে বেশি উপকার নাকি চিনি ছারা হাল্কা লবন ছিটা দিয়ে খেলে বেশি উপকার? বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।

4654 views

1 Answers

কাঁচা দুধ আর ডিম খেলে কোন উপকার হয় না, বরং ক্ষতি হয়।
দুধ:
অনেকেরই কাঁচা দুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, আবার অনেকে দুধ খুব ভালো করে জ্বাল না দিয়েই পান করে থাকেন। অনেকের মতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডিস যা কাঁচা দুধে রয়েছে তা জ্বাল দিলে নষ্ট হয়ে যায়, সুতরাং কাঁচা দুধই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু আপনি জানেন কি, কাঁচা দুধ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়? গবেষণায় দেখা যায়, কাঁচা দুধ পানের কারণে ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথা, জ্বর এমনকি মারাত্মক কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষকগণ বলেন, ‘দ্য সায়েন্টিফিক লিটারেচার প্রমাণ করে যে, পাস্তুরাইজড দুধের তুলনায় কাঁচা দুধ পান নানা ধরণের খাদ্য সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি’। আগে ভাবা হতো কাঁচা দুধ, যার মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডিস, প্রোটিন এবং ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তা পাস্তুরাইজড দুধের চাইতে বেশি স্বাস্থ্যকর এবং খেতেও বেশ সুস্বাদু। এবং এটিও ভাবা হতো যে কাঁচা দুধ পান করার কারণে ল্যাক্টোস ইন্টলারেন্স এবং দুধে অ্যালার্জি কমে যায়।
কিন্তু নতুন গবেষণায় পাওয়া যায়, যে মাইক্রোবিয়াল কন্টামিনেটস দুধে পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে স্যালমোনেলা, ক্যামপিলোব্যাকটার, এবং লিস্টেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো খাদ্য সংক্রান্ত রোগ বিশেষ করে বাচ্চা, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক মানুষের মধ্যে এইধরনের রোগ বেশি হয়। জার্নালে প্রকাশিত ১০০০ আর্টিকেলে প্রকাশ হয় এই কাঁচা দুধ খাওয়ার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে।
- কাঁচা দুধ পানের ফলে ফুড পয়েজনিং ধরণের সমস্যা দেখা দেয়, এবং নানা ছোটোখাটো রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়
- মাঝে মাঝে মারাত্মক কিছু সমসসার সম্মুখীন হতে হয় যেমন, কিডনি নষ্ট হওয়া, স্ট্রোক ইত্যাদি।
- কাঁচা দুধ পানের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক মানুষের অর্থাৎ যাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম একটু দুর্বল।
গবেষণায় বলা হয়, ‘সায়েন্টিফিক লিটারেচার মতে, কাঁচা দুধ পান করা যতটা স্বাস্থ্যকর মনে করা হতো ঠিক তা নয়, বরং কাঁচা দুধে স্বাস্থ্যহানিকারক উপাদানই বেশি রয়েছে। ছোটোখাটো নানা সমস্যা সহ অনেক মারাত্মক কিছু সমস্যাও হতে পারে কাঁচা দুধ খাওয়ার অভ্যাসের কারণে। বিশেষ করে যাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কম তারা খুব সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন নানা শারীরিক সমস্যায়’।
ডিম:

কাঁচা ডিম খেলে শরীরের মারাত্নক ক্ষতি হয়।
আমরা জানি ডিম শরীরের খুব
প্রয়োজনীয় উপাদান প্রোটিনের বড উৎস । কিন্তু তাই বলে কি ভুড়ি ভুড়ি ডিম খেলেই চলবে নাকি? আমরা সাধারনত ডিম ভেজে বা রান্না করে খাই। আবার ডিম অনেকেই কাঁচা খায় ।
কিন্তু ডিম কাঁচা খাওয়া ঠিক নয় ।
কেন ঠিক নয় সেটা জানতে হলে নিচে পড়ুন-
একটি ডিম এ রয়েছে সব ধরনের
প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড, ভিটামিন এ, ডি , ই, বি২, বি৯, বি৬। এছাড়াও রয়েছে Choline , আয়রন,
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম।
ডিমের সাদা অংশের ৮৭% জল আর ১৭ % প্রোটিন , কোন কোলেস্টেরল ও ফ্যাট নেই। ডিমের সাদা অংশ হতে
১৫ ক্যালরী শক্তি পাওয়া যায়।
ডিমের কুসুম অংশে একটি বড় ডিমে ( ৫০ gm) ৫ gm ফ্যাট থাকে যার ২৭% হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট যাতে কোলেস্টেরল থাকে । একটি ডিমের কুসুমে ৩০০ mg কোলেস্টেরল থা কে যা প্রতিদিন যেই পরিমান কোলেস্টেরল খাওয়া উচিত তার ২/৩ অংশ।
ডিমের কুসুমে কোলিন নামক একটি প্রোটিন থাকে যেটি মস্তিস্ক গঠনে ভুমিকা রাখে। তাই গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের খাদ্য তালিকায় ডিমের কুসুমের উপস্থিতি বাঞ্ছনীয়। যদিও ডিম উপকারী কি অপকারী এই
নিয়ে অনেক গবেষনা হয়েছে। কিছু গবেষনা বলছে ডিম এর কোলেস্টেরল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবার কিছু
গবেষনা বলছে প্রতিদিন ১টি করে
ডিম খাওয়া একজন স্বাভাবিক মানুষের জীবনে স্ট্রোক বা হার্ট ডিজিসের কোন ভয়ের কারন হতে পারেনা বরং শরীর গঠনে সহায়ক।
২০০৯ তে ২১০০০ জনের মধ্যে একটি গবেষনায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৬ টি ডিম মোটেই কোন প্রভাব ফেলে না স্ট্রোক বা হার্ট ডিজিসে। তবে সপ্তাহে ৭+ ডিম ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। ডায়বেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম ক্ষতিকর। এমনকি
একটি গবেষনায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ডিম খাওয়া টাইপ ২ ডায়বেটিস এর একটি কারনও বটে। ডিম এর মাধ্যমে কিছু রোগ ছড়াতে পারে বার্ড ফ্লুর মত কঠিন রোগ ছাড়াও । ডিমের গায়ে লেগে থাকা পায়খানা থেকে এমনকি ডিমের ভেতরে ও Salmonella enteritidis
and Salmonella
typhimurium নামক জীবানু থাকতে পারে। যা স্বাস্থ্য ঝুকির কারন । তাই ডিম অবশ্যই কাঁচা খাবেন না।
তথ্যসূএ: বিস্ময় আনসার থেকে সংগ্রহিত।
4654 views Answered

Related Questions

Next steps