আমার প্রথম প্রশ্ন: মাযহাব মানা কী ওয়াজীব? দ্বিতীয় প্রশ্ন: বর্তমানে আমাদের দেশে আহলে হাদীস ও হানাফী এই দুই দলের মধ্যে তুমুল বাক বিতর্ক চলছে । আমার প্রশ্ন হলো, এই দুই দলের মধ্যে কোনটি পুরোপুরি ইসলামের মধ্যে রয়েছে এবং অধিক গ্রহনযোগ্য? তৃতীয় প্রশ্ন: আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ কেমন লোক, এবং তিনি যে কথাগুলো বলেন সবগুলো কী গ্রহোনযোগ্য?
2756 views

1 Answers

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর আসলে অনেক বড়। সবিস্তারিত আলোচনা জরুরী। তবে আপনাকে সংক্ষেপে উত্তর দেই। যদি বুঝের লোক হন তবে সমস্যা হবে না বুঝতে।

1. মাযহাব মানা ওয়াজিব কিনা? অবশ্যই ওয়াজিব। 

আপনি কোন এক মাসআলাতে আটকিয়ে গেলেন। তখন কি করবেন? মাযহাব মানবেন সমাধানের জন্য নাকি আহলে হাদিসদের বলা মতে কুরআন হাদিস ঘাটবেন? এবার আমাকে বলুন, আমার আপনার মত লোক এমনকি বর্তমান কালের আলেমরাও কি ততটুকু জ্ঞান রাখে যে কুরআন হাদিসের সূক্ষ্ম রহস্য বের করবে? তাই ইসলামে মাসআলা মাসাইল গুলো যেন   প্রত্যেকে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে নিতে না পারে সে জন্য আল্লাহর তরফ থেকেই এমন কিছু ব্যক্তি পাঠানো হয়েছে যারা কুরআন হাদিসের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকেও আলোকপাত করে গেছেন। আর ইমাম আবু হানিফা হচ্ছেন তাবেয়ী। আর তাবেয়ী তাদের বলা হয় যারা সাহাবীদের সাহচর্য পেয়েছেন। আর হাদিস অনুযায়ী তা স্বর্ণ যুগের তিনটির একটি।

2. আহলে হাদিসদের আগমন ইসলামে নতুন। তাদের এমন কোন নেতা নেই যারা ইসলামের তিন স্বর্ণযুগের মধ্যে পরে। ইমাম আবু হানিফা হচ্ছেন তাবেয়ী। নিসন্দেহে তাবেয়ী এই নব্য ফেতনা থেকে উত্তম এবং উত্তম। বরং এই দুজনের মধ্যে তুলনাটাও বেমানান। কেননা কেহ নাপাক পানি আর পবিত্র পানির সাথে তুলনা করে তা কেমন দেখায়? ইসলামী বিশ্ব চার মাযহাব মেনে বেশ শান্তিতেই চলছিল। আবদুল কাদির জিলানী যিনি নিজেও শাফেয়ী মাযহাবের ছিলেন এভাবে প্রতিটি ইসলামী মহান ব্যক্তিত্ব কোন না কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। কয়েক শতাব্দীতে জন্ম নেয়া আহলে হাদিসগণ এই শান্তি প্রিয় মুসলিমদের মাঝে তৈরি করলো বিভেদ। জারি করছে ঢালাও ভাবে ফতোয়া। নষ্ট করছে ইসলামের শান্তি। লাগাচ্ছে ফ্যাসাদ। মসজিদ থেকে কালিমার দ্বিতীয় অংশ মুছে ফেলছে। আহলে হাদিস নামে দলিয় মসজিদ বানাচ্ছে। সেখানে তাদের মত নামায না পড়লে করছে হেনস্তা। করছে অপমান।

3. ইউসুফ, তার না কুরআন তেলাওয়াত শুদ্ধ আছে না কথার কোন লাগাম আছে। দেখুন ভিডিওটি তবেই বুঝতে পারবেন।

https://www.facebook.com/IslamiJibon.com.bd/videos/1030756753657492/

এই যে এভাবে লেকচার দিচ্ছে, না কোন কুরআনী বানী বলছে, না কোন হাদিস বলছে। এমন ব্যঙ্গ করে ছোট ছোট বাচ্চারাও আলোচনা করতে পারবে। কথা হচ্ছে অর্থবহ হবে না। আর হিন্দু রাষ্ট্র ভারতে নাকি শিরিক নাই। দেশটা পুরা শিরিক মুক্ত। বাক্যটির দিকে একবার নজর দিবেন। 

অবশেষে  আপনাকে পরামর্শ দিবো নব্য ফিতনা (কাদিয়ানী, আহলে হাদিস) এসব থেকে বেঁচে ইসলামী স্বর্ণ যুগের ইমামদের অনুসরণ করুন। কেননা, এর দ্বারা নিজেরই কল্যান।

জা‘আল হক্ব নামের একটি কিতাব আছে। সেখানে সবিস্তারিতভাবে মাযহাব বিষয়ে বর্ণিত আছে।

2756 views