আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,

আমি আপনাদের এক ভাই। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে চাইছি, আশা করি পুরোটা পড়বেন এবং আমাকে উত্তরগুলো জানিয়ে আমাকে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। কারণ এটা আমার আখিরাতের জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিষয় !

আমি  নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতাম ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত (হস্তমৈথুন) এর গুনাহ থেকে। কিন্তু এটা আমার জন্য এতটা সহজ ছিল না কারণ আমি সেই গুনাহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমি যখনই এই গুনাহ করতাম পরে সাথে সাথে তাওবা করতাম যে আর এই গুনাহতে নিজেকে লিপ্ত করবো না। কিন্তু এই গুনাহ একেবারে ত্যাগ করতে পারছিলাম না। তাই অনেকবার তাওবা করার পরও সেই একই গুনাহতে পুনরায় পতিত হয়েছি।

একদিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই গুনাহ থেকে একেবারে ফিরে আসবো এবং আর কখন এতে লিপ্ত হবো না।

*তাই আমি একদিন নামাজের পর আল্লাহর সাথে দৃঢ় ওয়াদা করলাম। এই বলে যে, "হে আমার রব ! আমি আপনার ঘরে বসে, আপনার কিতাব এর উপর হাত রেখে, আপনার সাথে এই মর্মে ওয়াদা করছি, নিকাহ এর আগ পর্যন্ত আর কখনোই ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত এর এই গুনাহ করবো না, এটাই আমার শেষ তাওবা এবং এরপর আর কোনো তাওবা নেই।" 

এভাবে বেশ অনেক দিন যাবত উক্ত গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখেছিলাম।

কিন্তু অনেক দিন পর আজ হটাত করে আমার দ্বারা সেই গুনাহ হয়ে গেল !

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ-

যদি ওয়াদা না করে এই গুনাহ করতাম তাহলে তাওবা করলে মাফ পাওয়া যেত ইনশাআল্লাহ।

কিন্তু যেহেতু আল্লাহর সাথে ওয়াদা করার পর তা ভঙ্গ করেছি এবং তাও আবার মসজিদের বসে, কুরআনের উপর হাত রেখে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ওয়াদার সময় বলেছিলাম "এর পর আর কোনো তাওবা নেই, এটাই শেষ তাওবা"

(১) এখন কি আমার জন্য আরেকবার তাওবা করার কোনো সুযোগ আছে ?

(২) আল্লাহর সাথে ওয়াদা ভঙ্গের কি শাস্তি ? এবং এর জন্য কি কোনো কাফফারা আছে ?

(৩) এখন আমি কি করবো ? আমার তো দুনিয়া-আখিরাত সব কিছুই বরবাদ হয়ে গেল !


3180 views

2 Answers

হস্তমৈথন ত্যাগ করার অনেক গুগলে লেখালেখি আছে দেখেনিন http://www.bdmorning.com/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF/61598 এইরকম কোনে ওয়াদা করা ঠিক না। কারণ আপনি যতদিন বাসবেন ততদিন  কোনো না কোনো গুনাহ করবেন আপনি না সবাই গুনাহ করে।আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহর তেকে বাচান আমিন।আল্লাহ ক্ষমাশিল,আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।১।এক বার কেন আপনার যত বার ইচ্ছা ততবার তওবা করার সুযুক পাবেন কিন্তু আপনি যে পাপ একবার করবেন ২য় বার করার ছেষ্টা করবেন না।২।তার কোনো ধর্ম নাই মুসলিম হয়ার জন্য পড়ুন,লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মদু রাসুল। ওয়াদা ভংগের শাস্তির গুগলে অনেক লেখালেখি আছে সার্চ দিলে পেয়ে যাবেন।নামাজ পরুন ঈমান আনুন আল্লহর উপর ও আল্লাহর সৃষ্টির উপর।

3180 views

একটা বিষয় ক্লিয়ার করা প্রয়োজন এখানে যারা উত্তরদেন তারা হয়তো মুফতি বা ফকিহ নন। তারপরেও আপনার কথা শুনে বিভিন্ন সাইট ঘাটাঘাটি করে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলাম। আপনার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনি ভালো কোন আলেমের কাছ থেকে জেনে নিবেন। তারপরেও পরবর্তি রেফারেন্স এর জন্য এখানে কিছু তথ্য দিলাম।
প্রথমত, আপনি কিতাবের উপরে হাত রেখে বা মসজিদে বসে কসম খেয়েছেন যা শরী‘আত সম্মত নয়।
রেফারেন্স এক,

কুরআনের উপর হাত রেখে হলফ করা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এর দ্বারা শপথকারীর মনে আল্লাহর চাইতে কিতাব বেশী গুরুত্ব পায়। তাছাড়া এ মর্মে কোন ছহীহ বা যঈফ হাদীছ পাওয়া যায় না। মুলতঃ শপথ কেবল আল্লাহর নামেই করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি শপথ করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে’ (বুখারী হা/৩৬২৪, মুসলিম হা/১৬৪৬; মিশকাত হা/৩৪০৭)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল’ (তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবুদাউদ হা/৩২৫৩)।

দ্বিতীয়ত, আপনি বললেন যে আরও তওবা করার সুযোগ আছে কিনা ?
রেফারেন্স দুই,

কোর'আনে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন - "হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ - আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়োনা; আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনিতো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[সূরা আল-যুমার ৩৯-৫৩] বান্দা যখন বিপদে পড়ে অনুতপ্ত হয়ে তাঁর রবকে ডাকে , হে আল্লাহ, আমি আমার নিজের উপর অনেক বেশি জুলুম করেছি আর তুমি ছাড়া গুনাহ্‌সমূহ কেহই মাফ করতে পারে না। সুতরাং তুমি তোমার নিজ গুনে মার্জনা করে দাও এবং আমার প্রতি তুমি রহম কর। তুমি তো মার্জনাকারী ও দয়ালু। [বোখারি : ৫৮৫১] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের সান্ত্বনা দেন , " আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না। [সূরা ইউসূফ -৮৭] তিনি তাদের আরো বলেন- "... তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।" [সূরা আল বাক্বারাহ -১৫২
পরবর্তি অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয়ত, ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারা
রেফারেন্স তিন ,

আল্লাহ্‌ তায়ালা  কোরআন এ বলেছেন "
কসম ভঙ্গের কাফফারা হ’ল দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য খাওয়ানো অথবা বস্ত্র দান করা অথবা একটি দাস মুক্ত করা। এতে অসমর্থ হ’লে তিন দিন ছিয়াম পালন করা (মায়েদাহ ৫/৮৯)।"

দোয়া করি আল্লাহ্‌ আপনার গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং তার দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দান করুন।
ধন্যবাদ।

3180 views

Related Questions