আমরা কি অতীত দেখি?
আমরা যখন মহাকাশের দিকে তাকাই তখন অনেক আলোকবর্ষ দুরের গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদি দেখতে পাই । এসময় আমাদের চোখে যে আলো প্রবেশ করে তা তো অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে । তার মানে কি মহাকাশে দৃশ্যমান সবকিছু অতীতের ?
2 Answers
হে আমরা সত্যিই অতীত দেখি।মানূষ কখনো তার অতীতকে দেখতে পায় না। শুধু অনুভব করতে পারে। কিন্তু একটি স্থানের দিকে তাকালে সেখানে যে বস্তু দেখতে পাই, সেই সব বস্তু গুলো সব অতীতের। সেখানে বর্তমানের কোন বস্তু নেই। রাতের পরিস্কার আকাশের সব-মহাজাগতিক বস্তু সমূহ সবই অতীত। যেমন-গ্রহ, নক্ষত্র,উপগ্রহ (মানূষের তৈরী স্যাটেলাইট নয়), নিহারীকা, ছায়াপথ, তারাস্তবক, গ্রহানু ইত্যাদি নানান বস্তু। এই ব্যাপারে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। আমরা জানি এই মহাজগতে আলোর গতি হলো সর্বোচ্চ গতি (এখন পর্যন্ত)। আলো সেকেন্ডে 1 লক্ষ 86 হাজার মাইল বেগে ছুটে চলে। এই বেগে ছুটে আলো এক বছরে যতটা পথ পাড়ি দেয় সেটাই হলো এক আলোকবর্ষ। মাইল বা কিঃমিঃ হিসাবে এক একটি আলোকবর্ষ প্রায় 299,792,458 মাইল বা 9 লক্ষ 66 হাজার কোটি কিঃমিঃ। পৃথিবীতে এত ধরনের মাপকাঠি থাকতে কেন আলোকবর্ষকে বেছে নেয়া হলো? কারন পৃথিবীর মাপকাঠি দিয়ে মহাকাশের কোন কোন বস্তুর দুরত্ত মাপা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা এক সময় হিমশিম খেয়েছিলেন এই দুরের মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্ব মাপতে। অবশেষে তারা এক নতুন মাপকাঠি আবিস্কার করলেন তা হলো আলোকবর্ষ। এ ছাড়াও মহাকাশের দূরত্ব মাপতে আরো কিছু মাপকাঠি আছে।যেমন- কিলোপারসেকঃ আলো 1 সেকেন্ডে 3×10,00,00,00,00 মিঃ/সেঃ বেগে 1000 সেকেন্ডে যে দূরত্বঅতিক্রম করে সেই পরিমান দূরত্বকে এককিলোপারসেক বলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের একক (AU)ঃ সূর্য হতে পৃথিবীর যে দূরত্ব (9 কোটি 30 লক্ষমাইল) এই দূ্রত্বকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের একক (Astronomical Unite) বলে।আমরা মহাকাশে কি ভাবে অতীত দেখতে পাই। প্রথমেই সূর্য থেকে শুরু করি। আমরা প্রতিদিন সকালে সূর্যের প্রথম যে আলো দেখি, সেই আলো হলো সূর্যের 8 মিনিট আগের আলো ঠিক সেই সময় পৃথিবীতে এসে পৌছালো। ধরুন কোন কারনে যদি সূর্য ধংস হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে আমরা সূর্যকে পরবর্তী 8 মিনিট সময় ধরে আকাশে দেখবো, এর পড়ে সূর্যকে আর দেখবো না। তারমানে আমরা সেই 8 মিনিট ধরে যে সূর্যকে আকাশে দেখেছি সেই সূর্য 8 মিনিট আগের অতীতের সূর্য। সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম “প্রক্সিমা সেন্টারাই” এর দূরত্ব 4.1/2 আলোকবর্ষ। হিসাব করে দেখা যায় যে পৃথিবী থেকে সূর্যে 2 লক্ষ 72 হাজার বার যাতায়াত করলে যতটা পথ পাড়ি দিতে হয়,ওই নক্ষত্রে পৌছাতে ততটা পথ পাড়ি দিতে হয়। এই হলো সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের দূ্রত্ব। এর মানে আমরা এই নক্ষত্রের যে আলো পৃথিবীতে বসে দেখছি,তা চার দশমিক এক এর দুই আলোকবর্ষ অতীতের আলো। ওই নক্ষত্র যদি ধংস হয়ে যায় আমরা তা দেখতে পাবো ঠিক চার দশমিক এক এর দুই আলোকবর্ষ পড়ে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এর আগ পর্যন্ত আমরা যে নক্ষত্রকে দেখছি তা অতীত, আসলে নক্ষত্রটি অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। আর আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের প্রতিবেশী ছায়াপথের নাম আ্যন্ড্রোমিডা (M-31) এই ছায়াপথটিকেও খালি চোখে দেখা যায়, বর্তমানে রাত 11.00 টার পড়ে আকাশের উত্তর-পূর্ব দিকে পেগাসাস মন্ডলে একে দেখতে পাবেন। এই ছায়াপথের দূরত্ব পৃথিবী থেকে 2.3 মিলিয়ন আলোকবর্ষ। তার মানে আপনি 2.3 মিলিয়ন বছর আগের কোন কিছু বর্তমানে দেখছেন। এর বাইরে বেশিরভাগ খন্ড-বস্তুই এতটা দূরে রয়েছে, যার তুলনায় এই দূরত্ব কিছুই নয়। মহাকাশে এমন অনেক খন্ড-বস্তু আছে যার আলো পৃথিবীতে পৌছাতে হাজার, লক্ষ, মিলিয়ন, বিলিয়ন বছর সময় লাগে। কালপুরুষ (Orion) মন্ডলের (আদম সুরত) কোমরের বেল্টের মাঝখানের নক্ষত্রে বিখ্যাত কালপুরুষ নিহারীকা (M-42) অবস্থিত। খালি চোখে একে দেখা যায় যদিও ঝাপসা আলোর ছোপের মত। এই নিহারীকার দু্রত্ব পৃথিবীতে থেকে 1,344 আলোকবর্ষ। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন একটি ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন হাবল মহাকাশ দূরবীন ব্যাবহার করে, এবং হিসাব করে দেখা গেছে যে এই ছায়াপথ থাকে আলোর যাত্রা শুরু হয়েছে আমাদের সৌরজগত সৃষ্টির আগে। তার মানে দাড়ালো এই যে সেই ছায়াপথের আলো এখনো আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌছায়নি। আর সম্প্রতি যে ছায়াপথের সন্ধান বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন, তা হলো এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত সবথেকে প্রাচীন ছায়াপথ। এই ছায়াপথ আবিস্কার করতে বিজ্ঞানীরা হাবল মহাকাশ দূরবীন এর তথ্য এবং কেক-1 দূরবীন ব্যাবহার করেছে। এই ছায়াপথের নাম (z8_GND_5296)। এই ছায়াপথের সৃষ্ট হয়েছে মহাবিস্ফোরনের (Big Bang) মাত্র 700 মিলিয়ন বছরের মধ্যে। এর মানে হলো বিজ্ঞানীরা মহাবিস্ফোরনের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে পৌছে গেছে এই ছায়াপথ আবিস্কারের মাধ্যমে। আর আমরা কোনদিন এই ছায়াপথকে দেখতে পাব না। অবশ্য এটাই মহাকাশের শেষ সীমানা নয়,আর এর শেষ সীমানা কোথায় তা আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। কাজেই আমরা মহাকাশে যা কিছুই দেখি না কেন,তার কোন কিছু বর্তমান নয় সব অতীত। আল্লাহর এই সৃষ্টি নিদর্শন দেখে সিজদায় মাথা নত হয়ে যায়।আল্লাহ সবকিছুর মালিক।সর্বশক্তিমান আল্লাহ।আমাদের মাফ করে দাও।আমিন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy