1 Answers
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটে হয়তো আপনার নিত্যদিনের চলাফেরা। রোজ নিত্যনতুন আপডেট, প্রোফাইল ছবি বদল করা, কে কার সঙ্গে গুয়াতেমালায় বেড়াতে গেল আর কার বিয়ের দিন ঠিক হল, সব কিছুর খোঁজ পাওয়ার জন্য আপনিও কাজের মাঝেই থাকেন মুখিয়ে। তার ওপর হরেক ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ বা বন্ধুত্বের আবেদন আসা তো গড়পড়তা ব্যাপার। তারও উত্তেজনা কিছু কম নয়।
চেনার গণ্ডি পেরিয়ে অচেনা মানুষের একে ওকে ‘বন্ধুত্বের আবেদন’ পাঠানো ও সেই প্রোফাইলটিকে নিমেষে জরিপ করে ‘অ্যাক্সেপ্ট’ করে ফেলা- এমন আর বেশি কথা কী! কিন্তু দিন কয়েক পরেই যদি দেখেন আপনার প্রোফাইলটা বেমালুম হ্যাক করে নিয়েছে কেউ কিম্বা আপনার সম্পর্কিত তথ্য ও ছবি যার জানার কথা নয়, তেমন কেউ জেনে যাচ্ছে ম্যাজিকের মতোই? তাহলে জানবেন, আপনার ফেসবুকের বন্ধুদের মধ্যে একটি ফেক প্রোফাইল আছে নিশ্চিত। ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম, প্রতারণা, অবশেষে আত্মহত্যা। এমন ঘটনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়। ফেক প্রোফাইলের আড়ালে অপরাধমূলক কাজে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আবার প্রতিশোধ স্পৃহার বশেও অনেকে তৈরি করেন ফেক প্রোফাইল। সতর্ক থাকুন। চিনে নিন ফেক প্রোফাইল।
১। অচেনা কাউকে বন্ধু করার আগে দ্বিতীয় বার ভাবুন। ফ্রেন্ড লিস্টে বন্ধু সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় হুটহাট কাউকে অ্যাড করবেন না। অচেনা রিকোয়েস্ট এলে প্রশ্ন করুন। জানতে চান তিনি কেন আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠালেন। উত্তর শুনে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তবেই অ্যাকসেপ্ট করুন।
২। প্রোফাইল ভাল করে পড়ুন। কী করেন, কোথায় থাকেন, কোথায় পড়াশোনা করেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য আছে কিন দেখুন। কোনও সংস্থার নাম বা ইউনিভার্সিটির নাম নিয়ে সন্দেহ হলে গুগলে খুঁটিয়ে দেখুন। বয়স খুব অল্প অথচ নিজেকে প্রফেসর বা সিইও বলছেন, এমন মানুষ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে অবশ্যই ভেবে দেখবেন। প্রোফাইল আকর্ষক করতে এরা অনেক কিছু করে থাকেন।
৩। ফ্রেন্ডলিস্ট খুঁটিয়ে দেখুন। এনার বন্ধুরা কি বেশিরভাগ স্থানীয়? নাকি বেশির ভাগই বিদেশি? যদি দেখেন বন্ধুরা অধিকাংশই বিদেশি তাহলে অবশ্যই মানুষটা সন্দেহজনক।
৪। মিউচুয়াল ফ্রেন্ডে চেনা বন্ধ থাকলেও সতর্ক থাকুন। চেনা বন্ধুকে জি়জ্ঞাসা করুন আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট মানুষটিকে চেনেন কিনা। বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পেলে তবেই অ্যাড করুন।
৫। ফোটো খুঁটিয়ে দেখুন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর, পরিবারের সঙ্গে ছবি রয়েছে? কেউ কি এনাকে ট্যাগ করেছে? করে থাকলে তাদের প্রোফাইল কী বলছে? ছবিগুলো কি সন্দেহজনক? প্রোফাইলে কি অত্যন্ত হ্যান্ডসাম কোনও যুবক বা সুন্দরী মহিলার ছবি? নাকি ছবি নেই? এমনটা হলে সতর্ক থাকুন।
৬। ঠিক কী ধরনের জিনিস পোস্ট করেন ইনি? অধিকাংশই কি কোনও ছবি বা কোটেশন? কোনও মৌলিক পোস্ট রয়েছে কিনা খুঁটিয়ে দেখুন। যদি থাকে তবে তা নিয়ে বন্ধুরা মন্তব্য করেছেন কিনা, লাইক করেছেন কিনা, শেয়ার করেছেন কিনা অবশ্যই দেখে নিন।
৭। যদি ইতিমধ্যেই অ্যাড করে থাকেন তবে খেয়াল রাখুন ইনি কী বলছেন সেই দিকে। কথাবার্তা কি অসঙ্গত? নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেন নাকি একেবারেই দেন না? এই দুটোই কিন্তু সন্দেহজনক। সন্দেহ হলে পাল্টা প্রশ্ন করুন।
৮। ফোন নম্বর- অল্প আলাপেই নিজের ফোন নম্বর, ইমেল অ্যাড্রেস দিয়ে দেবেন না। যদি দেখেন প্রথম দিনই ইনি আপনার নম্বর চাইছেন, দেখা করতে চাইছেন তবে অবশ্যই সতর্ক হোন।
৯। প্রেম- শুরু থেকেই আপনার প্রতি ভাললাগা প্রকাশ করেন বা প্রেম নিবেদন করেন তাহলে নির্দ্বিধায় এনাকে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বাদ দিন। ফেক প্রোফাইল থেকে এই ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই আসে।
১০। অশালীন প্রস্তাব- এমটা হলে অবিলম্বে ব্লক করুন। যদি চ্যাট করতে করতে আপনাকে ছবি পাঠাতে বলেন বা আপনার সব ছবি লাইক করতে থাকেন তাহলে বুঝবেন মানুষটি বিপজ্জনক। এদের ব্লক করে রাখাই ভাল।
35740 views
Answered