1 Answers

বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তন, ফসলে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, বাসা বাঁধার মতো পুরানো গাছ না থাকায় জেলায় মাদারগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত বউ কথা কও পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। বসন্তের শুরুতেই যে পাখি ‘বউ কথা কও’ বলে সারা গ্রাম মাথায় তুলে ফেলে—সেই পাখির আর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময় হয়তো সুরেলা গানের এই পাখিটি পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতায় ধীরে ধীরে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে। এই পাখি কে অনেকে বেনে বৌ বলে চেনে। বউ কথা কও পাখিটির ইংরেজী নাম ‘Black hooded oriole’। পাখিটি শরীরের মাপ হচ্ছে ২৩ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার। এদের গায়ে থাকা পাখার পালক উজ্জ্বল হলুদ এবং লেজ ও পাখার ওপরের পালক কালো। গলা ও মাথার রঙ কালো। মাথা কালো চিকচিকে হলেও তাদের পা ও ঠোঁট এবং দুটো চোখ লাল টকটকে। এরা ঝোপঝাড়ের মধ্যে শুকনো ডাল ও খড়কুটা দিয়ে অগোছালো বাসা বানিয়ে থাকে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি এদের প্রজনন মৌসুম। সাদা রঙের বাদামি ফোঁটাযুক্ত ৩-৪টি ডিম দিয়ে থাকে। ১৫-১৭ দিন মেয়ে ও ছেলে পাখি মিলে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। এরা সবরকম পোকা মাকড় খেয়ে থাকে। হলদে শরীরের এই পাখি নিয়ে এই এলাকায় প্রচলিত অনেক মিথের একটি হলো—এক কৃষকের বৌ একদিন রান্না করতে গিয়ে তরকারিতে হলুদ বেশি দেয়। এ কারণে মাঠ থেকে কৃষক ফিরে সে ভাত খেতে বসলে তরকারিতে হলুদ বেশি দেয় বলে তার বৌকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বৌয়ের মাথায় তরকারির পাতিলও ভেঙ্গে ফেলে। সে সময় কৃষকের বৌ এ অপমান সহ্য করতে না পেরে পাখি হয়ে উড়ে যায়। তখন থেকে তার সারা শরীরে হলুদ ও মাথায় পাতিলের কালির সেই কালো রঙ নিয়ে উড়ে বেড়ায়।

2891 views

Related Questions