1 Answers

ঠান্ডা ও ভারী কোনো ধাতব পদার্থ দিয়ে কাপড়ে চাপ দিলে কোনো কাজ হয় না। কাপড়ের কোঁকড়ানো দাগগুলো একই রকম থেকে যায়। এই কোঁকড়ানো বা ভাঁজের দাগ দূর করতে হলে কাপড়ে সামান্য পানি ছিটিয়ে গরম ইস্তিরি দিয়ে চাপ দিতে হয়। এই জলীয় বাষ্প ও তাপই হলো ইস্তিরির ম্যাজিক। শুকনা সুতি কাপড় শুষ্ক অবস্থায় অন্তত ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা পর্যন্ত তার আকার অবিকৃত রাখতে পারে, এর ওপরে গেলে কুঁকড়ে যায়। একে আমরা বলতে পারি সুতি কাপড়ের উত্তরণ তাপমাত্রা। যদি জলীয় বাষ্প থাকে, তাহলে এই উত্তরণ তাপমাত্রা নেমে আসে ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। আমাদের শরীর সব সময় ঘামে, তার সঙ্গে যখন শরীরের প্রায় সাড়ে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্বাভাবিক তাপমাত্রা যুক্ত হয়, তখন সেই কাপড় স্থানে স্থানে কুঁচকে যায়। এ জন্যই ইস্তিরি করা সুন্দর কাপড় দু-এক দিন ব্যবহার করলে কুঁচকে যায়। এখন একে সোজা করতে হলে সেই একই প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প ও তাপ ব্যবহার করতে হবে। আমরা ব্যবহূত কাপড় প্রথমে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিই। এরপর পানি ছিটিয়ে প্রথমে সামান্য সিক্ত করি। এখন গরম ইস্তিরি দিয়ে চাপ দিলে জলীয় বাষ্প ও উত্তরণ তাপমাত্রা অতিক্রান্ত তাপের প্রভাবে কাপড়ের কোঁকড়ানো দাগগুলো সোজা হয়ে যায়। এ অবস্থায় কাপড় ঠান্ডা হলে তার নতুন অবস্থান বজায় থাকবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, যে জলীয় বাষ্প ও তাপের প্রভাবে কাপড়ের ভাঁজ নষ্ট হয়ে কুঁকড়ে যায়, সেই একই প্রক্রিয়ার প্রভাবে ইস্তিরি তাকে কোঁকড়ানোমুক্ত সুন্দর রূপ দেয়।

2742 views Answered

Related Questions

Next steps