5996 views

1 Answers

ডা. জাকির নায়েক:

* কুরআন এবং হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার নামাজ অবশ্যই দুই রাকআত আদায় করতে হবে। একটি হাদীসে ওমর (রাঃ) বলেছেন, মুসাফিরের
জন্যে নামাজ দুই রাকাত। ঈদের নামাজ দুই রাকাআত এবং জুমার নামাজ দুই রাকাআত এবং এগুলো মুহাম্মদ (সঃ)-এর নিকট থেকে এসেছে।” (সুনানে বায়হাকি, অধ্যায় জুমা‘আ, হাদীস নং ৫৭১৯)
সুতরাং ঈদের নামাজ দুই রাকাআত পড়তে হবে।

* ঈদের নামাজের জন্যে কোনো আযান এবং ইক্বামাতের দরকার নেই। সাহাবী যাবির ইবনে সামুরা বর্ণনা করেছেন, “তিনি মুহাম্মদ (সঃ)-এর সাথে এক কিংবা দুইবার উভয় ঈদ পালন করেছেন এবং সেই সালাতে কোনো আযান এবং ইক্বামাত ছিলো না।” (আবু দাউদ, অধ্যায় সালাত, হাদীস নং ১১৫৫)

* ঈদের নামাজ আদায় করা শুরু করলে আদায়কারীকে প্রথমে ‘তাকবীর আল ইহরাম’ বলা উচিৎ অর্থঃ াৎ আল্লাহু আকবার এবং প্রথম রাকাআতে এটি সাত বার অনুসরণ করতে হবে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে ‘পাঁচ তাকবীর’ বলতে হবে। এগুলো আমরা সহীহ হাদীস থেকে জানতে পেরেছি। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, “মুহাম্মদ (সঃ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করতেন এবং তিনি প্রথম রাকাআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাআতে পাঁচ তাকবীর বলতেন।” (আবু দাউদ, অধ্যায় সালাত, হাদীস নং ১১৪৫, ১১৪৬)

এরপর পড়তে হবে আউযুবিল্লাহ ............. রহমানির রহিম এবং তারপর সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। প্রথম রাকাআতে ফাতিহার পরে সূরা কাফ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে ফাতিহার পরে সূরা কামার অথবা প্রথম রাকাআতে সূরা আলা’ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা গশিয়াহ’ পড়তে হবে এবং এই উভয়ই সহীহ হাদীস থেকে গৃহীত। কিন্তু এই দুটি ছাড়া অন্য সূরা দ্বারা নামাজ পড়লেও নামাজ গৃহীত হবে, সে ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। তবে হাদীসে উল্লিখিত সূরা দ্বারা নামাজ আদায় করা সুন্নাত।

* ঈদের সালাত আদায়ের পরে খুৎবা দিতে হবে। হাদীসে উল্লেখ আছে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “মুহাম্মদ (সঃ) ওমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) এর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তাদের সকলেই প্রথমে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন তারপরে খুৎবা পাঠ করেছেন।” (বুখারী, অধ্যায় ঈদ, হাদীস নং ৯৬২)

সহীহ হাদীস শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে যে, “মুহাম্মদ (সঃ) ঈদের সালাত আদায় করার পরে এবং খুৎবা পড়ার আগে বলতেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা খুৎবা শুনতে চাও, তারা শুনতে পারো। আর যারা শুনতে চাও না তারা যেতে পারো।” (আবু দাউদ, অধ্যায় সালাত, হাদীস নং ১১৫১)

কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অধিকাংশ সময় ইমামরা বলেন যে, আপনারা কেউ উঠবেন না। এবং তিনি মুসল্লিদেরকে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন এবং এটাও বলেন যে, চলে যাওয়া হারাম। এগুলো খুবই অন্যায় কথা। তবে খুৎবা শ্রবণ করা উত্তম কিন্তু সেখানে ইচ্ছা অনিচ্ছার সুযোগ রয়েছে।
যেমনটি আছে, জুমার দিনে আগে ঈদের নামাজ আদায় করলে পরে জুমার নামাজ আদায় করা আর না করা ঔচ্ছিক ব্যাপার। সুতরাং এগুলোই ঈদের নামাজের পদ্ধতি। (আবু দাউদ, অধ্যায় সালাত, হাদীস নং ১০৬৮)
5996 views

Related Questions