1 Answers

হিজড়া জন্ম হওয়ার কারনঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোন এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোণ মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব করা হলে সয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা অই মহিলা গর্ববতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। (মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় “খুন্নাস”)। প্রমানসুত্রঃ সূরা বানী ইস্রাইল- আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম তিরমিজি। শান্তি এবং মানবতার ধর্ম ইসলাম সব মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। হিজড়াদের ইসলামে কীভাবে দেখা হয় এ প্রসঙ্গে কথা হয় দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে। এ সময়ের সচেতন ও বিচক্ষণ আলেম, বেশক’টি মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও বাংলাদেশ কওমি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুস সামাদ। হিজড়াদের ইসলামে কীভাবে দেখা হয়? জানতে চাইলে বলেন, ‘ইসলাম হিজড়াদের ওপর অবিচার করেনি। অন্যসব মানুষের মতো একজন মানুষ হিসেবে দেখেছে হিজড়াদের। পুরুষ হলে পুরুষের, নারী হলে নারীর বিধান মেনে চলতে হবে তাদের। একজন নারীর যেমন নামাজ, রোজা ও পর্দাসহ ইসলামের সব বিধান মানতে হয়, একজন নারী হিজড়াকেও এগুলো মেনে চলতে হয়। এভাবে পুরুষের মতো পুরুষ হিজড়াকেও। মৃত সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও কাফন, দাফন ও জানাজা দিয়ে কবর দেয়ার হুকুম। তারা এগুলো মানে না বলেই তো তাদের এ করুণ অবস্থা।’ একটি চক্র সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে হিজড়া বানিয়ে ফেলছে। কেউ নিজের আগ্রহে হিজড়া হচ্ছে। এদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অঙ্গহানি নাজায়েজ। মারাত্মক অপরাধ। কারও জটিল দুরারোগ্য ব্যথা হলেও ধার্মিক অভিজ্ঞ ডাক্টারের পরামর্শ ছাড়া অঙ্গ কাটার কোন সুযোগ ইসলাম দেয়নি। এ ছাড়া একজন সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে অসুস্থ বানানো, সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা অমার্জনীয় অপরাধ। কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।’ চাঁদাবাজি, মাদক ও পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত দেখা যায় হিজড়াদের, এর কারণ কী? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হিজড়া বানানো বা হওয়ার লক্ষ্য কিন্তু ইনকাম। হিজড়াদের কোন আইনি জটিলতা না থাকায় তারা অবাধে অপরাধ বিস্তার করে যাচ্ছে।’ হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কী করা উচিত? এমন প্রশ্নে মাওলানা সামাদ বলেন, ‘প্রথমত হিজড়াপ্রজনন কেন্দ্র বন্ধ এবং এর কারিগর ডিগ্রিধারী ডাক্টারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে এগুলো দমন করতে হবে। বিভিন্ন পত্রিকায় এদের চিহ্নিতও করা হয়েছে। তাতে হিজড়া উৎপাদন বন্ধ হবে। এরপর সামাজিকভাবে আড়চোখে না দেখে একজন মানুষের মতো সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া মৌলিক হিজড়াদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা নিলে হিজড়ারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে বলে আশা করা যায়।’ পুরুষাঙ্গ কেটে সুস্থ মানুষকে হিজড়া বানানো হয় একথা শুনে আঁতকে উঠলেন দেশ মাটি হাউজিং লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান, অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি আলহাজ মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘অভাব এবং অসচেতনতাই এ কাজকে ত্বরান্বিত করেছে। মানুষের সম্মানের ভয় হিজড়াদের অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়েছে। তারা যেখানে সেখানে কাপড় উদাম করে ফেলে। হিজড়া, অসহায় এবং অভাবীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে অপরাধপ্রবণতা কমবে। তারা স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবন লাভে ধন্য হবে।’

9339 views

Related Questions