1 Answers
মানুষ মরণশীল।আপনজনের মৃত্যুতে সবাই কাঁদে।কারো মৃত্যুতে কাঁদা অপছন্দনীয় নয়।হুজুর (সঃ)ও কেঁদেছেন।তাঁর পুত্র ইবরাহিম (রা) এর মৃত্যুতে তিনি ক্রন্দন করেছেন।তাই স্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করা দূষণীয় নয়।বরং এটা রহমতের আলামত। কেননা,হযরত সাঈদ বিন উবাদা (রা) এর অসুস্থাবস্থায় হুজুর (সঃ)কাঁদেন এবং বলেন,তোমরা কি শোন নি,আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চোখের অশ্রু ও অন্তরের পেরেশানির কারণে আযাব দেন না।অতঃপর জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন,তবে এর কারণে আযাব দেন।(তিরমিজী) কিন্তু বিলাপ করে করে কাঁদা,মৃত ব্যক্তির শোকে জামার বুক ছেঁড়া,গাল বুক চাপড়ানো,জাহেলী যুগের মতো হা-হুতাশ করা অত্যন্ত খারাপ কাজ।এদের ব্যাপারে রাসুল (সঃ) বলেছেন,যে এরূপ করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(তিরমিজী) বুখারীর রেওয়ায়েতে আছে,পরিবারের লোকদের বিলাপের কারণে মৃত ব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।যতক্ষণ তারা বিলাপ করতে থাকে,ততক্ষণ সেও শাস্তি ভোগ করতে থাকে।(১/১৭২) আবার অনেকে মৃত ব্যক্তির এমন সব গুণাবলী বর্ণনা করে কাঁদে,যেসব গুণাবলী প্রকৃতপক্ষে তার মাঝে ছিল না।এটাও গর্হিত কাজ। কেননা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন,কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার জন্য ক্রন্দনকারীরা যখন কাঁদে আর বলে,হায় আমাদের পাহাড়!হে আমাদের নেতা!বা অনুরূপ কোনো কথা বলে,তখন ঐ মৃত ব্যক্তির জন্য দুইজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়।তাঁরা তার বুকে ঘুষি মারে আর বলতে থাকে,তুমি কি এরূপ ছিলে?(তিরমিজী) কেউ আবার আপনজনের মৃত্যুতে শোক-সন্তপ্ত হয়ে এমন কথা বলে যে আল্লাহর কি কেবল একেই মারার ছিল?একে ছাড়া অন্য কাউকে কি আল্লাহর চোখে পড়ে নি?আল্লাহ তুমি আমার উপর এমন জুলুম কেনো করলে?(নাউজুবিল্লাহ) সাবধান!এমন কথা বলা মারাত্মক গুনাহ।কুফর,শিরক পর্যায়ের গুনাহ।এতে ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।তাই এসব ঈমান বিধ্বংসী কথা থেকে খুব খেয়াল করে বিশেষভাবে পরহেজ করা উচিত।