3 Answers
ঘুম টকিং বৈজ্ঞানিকভাবেও নিদ্রিাবস্থায় কথা বলা বলা হয়. এটা উদ্বেগ, অপর্যাপ্ত ঘুম, খুব বেশী খাওয়া বা মানসিক চাপ ফলে হতে পারে. ঘুম পর্যায়ে পরিবর্তন হয় যখন এটা ঘটে. ঘুম গল্পে এর মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়।
আমাদের ঘুমের মধ্যে ২টা পর্যায় আছে।
এগুলো হল-
১) REM (Rapid Eye Movement) বা কম্পাক্ষি নিদ্রা
২) Non REM (Non Rapid Eye Movement)বা স্থিরাক্ষি নিদ্রা।
আমার উত্তরের সাথে NREM এর সম্পর্ক আছে তাই এর ব্যাপারে একটু বলতে চাই যা আপনাকে উত্তর বুঝতে সাহায্য করবে। এই ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে শরীর নড়াচড়া করতে পারে। এই সময় হরমোন নি:সৃত হয় এবং দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর আবার সতেজ হয়ে ওঠে।
মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলে, কান্না করে ইত্যাদি একে ইংরেজিতে বলে সমনামবিউলিজম (somnambulism or noctambulism), বাংলায় বলে স্বপ্নচারিতা। সাধারনত ঘুমের NREM পর্যায়ের ‘স্লো ওয়েভ ঘুম’ স্তরে অনেকের মধ্যেই এটা দেখা যায়। ঘুমের মধ্যে নিজের অজান্তেই অনেকে উঠে বসেন, বিছানা ছেড়ে নামেন, দরজা খুলে রাস্তায় বেরিয়েও পড়েন। স্বপ্নচারীদের মন ঘুমিয়ে থাকলেও দেহ অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকে, তার সমস্ত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয় স্বপ্ন দ্বারাই। বেশি মাত্রায় না হলেও অল্পমাত্রায় স্বপ্নচারী আমরা অনেকেই। মেডিকেল সাইন্স অবশ্য এর কিছু কারণও খুজে বের করেছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে –
১। সারাদিন অধিক পরিশ্রমের কাজ করে ক্লান্ত দেহে বিছানায় ঘুমাতে গেলে
২। ভয়, মানসিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা থাকলে
৩। অনিয়মিত ঘুম ও অপর্যাপ্ত ঘুম
৪। ঘুমের মাঝে বিশেষ ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা পেলে
৫। ঔষুধ সেবনের ফলেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে
৬। এছাড়া বংশগত কারণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ঘুমের মধ্যে কথা বলা প্রায়ই দেখা যায়। এটা ছোট বয়সে বা বড়দেরও হতে পারে। ঘুমের মধ্যে যে কোন সময়েই এটা হয়। এটা ঘুমের শুরুতে বা মধ্যের সময়, এমনকি শেষ দিকেও হতে পারে। লক্ষণ : ঘুমের মধ্যে কথা সাধারণতঃ কয়েকটা শব্দের উচ্চারণ হয়।কেউ কেউ নানা আওয়াজ করেন। বা কিছু কিছু কথা বলে ঘুমের মধ্যে যেটা লজ্জাজনক হতে পারে। সাধারণত দিনের মধ্যে যা যা ঘটে তারই কিছু কিছু ঘুমের মধ্যে প্রকাশ পায়। কোন কোন সময় এর বিষয়বস্তু ঘুমন্ত ব্যক্তির জীবনের সাথে জড়িত, কিন্ত এই সব কথা স্বপ্নের সাথে সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। অনেকে মনে করেন ঘুমের মধ্যে কথাগুলো ঘুমন্ত ব্যক্তির মনের গোপন কথা প্রাকাশ করে। এটা কিন্ত সত্য নয়। যাদের এই অবস্থা হয় তাঁরা জানেন না যে তাদের এটা হয়। সুতরাং ঘুম থেকে উঠলে কিছুই মনে করতে পারে না। এদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন ( night terror or nightmare ) ও ঘুমের মধ্যে চলাফেরার ( sleep walking ) প্রবণতাও হয়। যদিও এই অবস্থাটা ছোট বয়সে বেশী হয় তবে বড় বয়সে হলে সেটা অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। কারণ : ঘুমের মধ্যে কথা বলার কোনো কারন জানা যায়নি। তবে যাদের মন উদ্বিগ্ন বা যারা টেনশনে ভোগেন তাঁরা ঘুমের মধ্যে বেশী কথা বলেন। এটাও মনে করা হয় যাদের হজমে গন্ডগোল (রাতে শোবার পর পাকস্থলির খাদ্য গলার কাছে এসে যায়,Gastric reflux disease), বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাসের কম হয়ে যায়, বা যাদের ফিটের ( Epilepsy) রোগ আছে তাদের মধ্যে এটা বেশী হয়। অর্থ : এর থেকে মনে করা যেতে পারে যে যাদের এই রকম হয় তাদের মনে টেনশন বা উদ্বিগ্নভাব আছে। মনে রাখা দরকার ঘুমের মধ্যে বলা কথা কোন মনের গুপ্ত কথা বা বিষয় প্রকাশ করে না। উপায় : ঘুমোতে যাওয়ার আগে কোন ধরনের উত্তেজনাজনক কাজ করা বা বিষয় চিন্তা না করা। যথা সাধ্য রিল্যাক্স বা শান্তভাবে ঘুমোতে যাওয়ার চেস্টা করা উচিৎ। শোবার বেশ কয়েকঘন্টা আগেও অ্যালকোহল বা মদ্য পান না করা। এবং খুব পেটভরে না খাওয়া। প্রত্যেকদিন যথেস্ট পরিমানে ঘুমানো উচিৎ। কম ঘুমালে এই কথা বলা বেশী হয়। এর জন্য কোন ঔষধ দেওয়া হয় না। যদি কারো ভীষণ দুঃস্বপ্ন হয় বা ঘুমের মধ্যে চলা ফেরা করেন, (তার জন্য ঘুমন্ত ব্যক্তির বিপদে পড়তে পারেন) এবং তাতে ভুক্তভোগীর বা বাড়ির লোকের অসুবিধা হয় তবে ঔষধ দেওয়া যেতে পারে। আগেই বলা হয়েছে যদি কারো ফিটের রোগ বা Epilepsy থাকে তবে সেটার চিকিৎসা করানো দরকার। ঘুমের মধ্যে ফিট হলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।