1 Answers

ব্যাপারটি নিতান্তই মনস্তাত্ত্বিক। ছোটরা যদি বুঝে যায় যে তাদের কম বয়সী বিবেচনা করা হচ্ছে, কিংবা কমবয়সী ভেবে তাদের সাথে কথা বলা হচ্ছে- তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার লক্ষ্য পূরণ হবে না। বরং উল্টো রেগে যাবে সে। এই শৈশব বা কৈশোরের সময়টি আমরা অনেকেই পেরিয়েছি। দূরে চলে যাওয়া সেই শৈশব বা কৈশোর আসলেই খুব অদ্ভুত একটা সময়। সবজান্তা একটা ভাব চলে আসে সবার মধ্যে। "সব কিছুই সম্ভব"- এমন চিন্তা ভাবনা এবং দৃষ্টি সীমানার বাইরে দেখার ইচ্ছে এই বয়সকালের মূল চালিকাশক্তি। শারীরিক বয়স আর মনের বয়স এক নয়। এ নিয়ে চমৎকার গবেষণা করেছেন টেক্সাস এএন্ডএম-এর ম্যাথিউ এল হুগিস এবং তার দুই জন সহকর্মী। কিশোর বয়সের ছেলে-মেয়েদের মাঝে বড় হয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা কাজ করে থাকে। ম্যাথিউ এল হুগিসের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ২৪-এর মধ্যে। দেখা গেল যে তাদের প্রত্যেকেরই মানসিক বয়স কম পক্ষে ৫ বছর বেশী! সকলেই নিজেকে বয়সের চাইতে বেশি পরিপক্ক ও বয়স্ক মনে করেন। তাঁদের ধারণা এই যে তাঁরা "বড়" হয়ে গিয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটে আবার উল্টো কাহিনী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাদের বয়স প্রায় ৬০ তারা নিজেদের ৮ থেকে ৯ বছর কম বয়সী মনে করেন। এবং ৭৫ বছর বয়সীরা নিজেদের সত্যিকারের বয়সের প্রায় ১৬ বছর কম মনে করে থাকেন। শারীরিক বয়স যত বাড়ে, নিজের বাস্তব বয়সটা ততটাই কম ধরে নেয়ার প্রবণতা বাড়তে শুরু করে মানুষের মাঝে। আর এ কারণে অবসরের সময় এলেই চাকুরী ছাড়তে নারাজ থাকেন অধিকাংশ মানুষ। তারা বিশ্বাস করে, অন্তত আরও ৫ বা ৬ বছর তারা কাজ করে যেতে পারতেন!

3774 views

Related Questions