1 Answers

মানসিক চাপের ফলে অনেক সময় খিঁচুনীর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ধরণের খিঁচুনীকে অনেকটা মৃগীরোগের খিঁচুনীর মতোই মনে হয়। কিন্তু এই খিঁচুনী মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক অপস্মারিক নিঃসরণ (এপিলেপটিক ডিসচার্জ) থেকে হয় না। মৃগীরোগে আক্রান্তদেরও মাঝে-মধ্যে এ ধরণের ‘নন-এপিলেপটিক অ্যাটাক’ হতে পারে। প্রকৃত মৃগীর খিঁচুনী থেকে এ ধরণের সিউডোসিজার পৃথক করা বেশ কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ ও ইতিহাস থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। যেমন - সিউডোসিজারে হাত-পায়ের খিঁচুনী না হয়ে অনেক সময় পিঠ পুরো বেঁকে যায় বা নিতম্বের অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি (পেলভিক থ্রাস্টিং) হয় কিংবা রোগী হাত-পা প্রবলভাবে ছোঁড়াছুড়ি করে, যেটিকে অভিভাবক বা প্রত্যক্ষদর্শীরা খিঁচুনী বলে ভুল করেন। সিউডোসিজারে সাধারণত রোগী পুরোপুরি অজ্ঞান হন না, চারপাশে কি ঘটছে তা বুঝতে পারেন অথবা হাত-পায়ে স্পর্শ করলে বা খোঁচা দিলে টের পান। এ ধরণের লক্ষণ সাধারণত লোকজনের উপস্থিতিতে হয়। ঘুমের মধ্যে এ ধরণের ঘটনা ঘটে না। প্রকৃত খিঁচুনীর মতো এতে জিহ্বায় কামড় লেগে রক্তপাত হয় না, রোগী মাটিতে পড়ে মারাত্মক আঘাত পান না এবং খিঁচুনী পরবর্তী স্মৃতি-ভ্রষ্টতা, মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রম- এসব ঘটে না। সিউডোসিজারের পূর্বে মানসিক চাপ বা কোন দ্বন্দ্বের ইতিহাস পাওয়া যেতে পারে। যেমন, বাবা-মা বকুনী দেয়ার পর বা স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ করার পর রোগীদের এ ধরণের খিঁচুনী দেখা দিতে পারে। তবে অনেক সময় লক্ষণ শুনে সিউডোসিজার নিশ্চিত হওয়া যায় না, প্রকৃত না অপ্রকৃত খিঁচুনী তা বোঝার জন্য ভিডিওটেলিমেট্রিসহ ইইজি এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। সিউডোসিজার ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রায় তিনগুণ বেশী হতে দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে শৈশবে যৌন-হয়রানির পূর্ব-ইতিহাস থাকে। প্রকৃত খিঁচুনী মনে করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে অনেকেই স্নায়ু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। স্নায়ু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপ্রকৃত খিঁচুনী বা সিউডোসিজার নিশ্চিত হলে চিকিৎসার জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে প্রেরণ করেন। এ ধরণের খিঁচুনীতে ওষুধের চেয়ে সাধারণত সাইকোথেরাপী বা কাউন্সেলিং বেশী উপযোগী। তবে, সিউডোসিজারের রোগীদের মধ্যে অনেকেরই বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের লক্ষণ দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে ওষুধ সেবন করতে হতে পারে। লেখক- ডাঃ মুনতাসীর মারুফ সহকারী রেজিস্ট্রার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

2717 views

Related Questions